অতিরিক্ত মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর প্রতারণার ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে। ‘নাজরান ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাগ্রো প্রজেক্ট’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের আড়ালে পরিচালিত এই চক্র ইতোমধ্যে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে গা ঢাকা দিয়েছে। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর এ ঘটনায় জড়িত একজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, চক্রটি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে অবাস্তব লভ্যাংশের প্রতিশ্রুতি দিত। এক লাখ টাকা বিনিয়োগে প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা ফেরত, মূলধন দ্রুত দ্বিগুণ এবং নির্দিষ্ট সময় শেষে লাভসহ আসল ফেরতের আশ্বাস দিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করা হতো। শুরুতে কিছু টাকা ফেরত দিয়ে বিশ্বাস অর্জনের পর বড় অঙ্কের বিনিয়োগে উৎসাহিত করা ছিল তাদের কৌশল।
একাধিক ভুক্তভোগীর অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, প্রথমে স্বল্প অঙ্কের বিনিয়োগের বিপরীতে নিয়মিত অর্থ ফেরত দেওয়া হয়। এতে আস্থা তৈরি হলে ধাপে ধাপে বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগে বাধ্য করা হয়। পরে বিভিন্ন অজুহাতে আরও অর্থ নেওয়া হয়, এমনকি প্রকল্পের নামে প্লট কেনার কথাও বলা হয়। একপর্যায়ে লেনদেন বন্ধ করে অফিস গুটিয়ে প্রতারকরা আত্মগোপনে চলে যায়।
মামলার তদন্তে অপরাধ তদন্ত বিভাগ জানতে পারে, শুধু কয়েকজন নয়—এই চক্রের মাধ্যমে হাজারো মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির নামে পরিচালিত একাধিক ব্যাংক হিসাব ও লেনদেন বিশ্লেষণে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের তথ্য মিলেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে।
এ ঘটনায় দীর্ঘদিন পলাতক থাকা এক অভিযুক্তকে রাজধানীর বাসাবো এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে তার ব্যক্তিগত একাধিক ব্যাংক হিসাবে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে আগের আরও কয়েকটি মামলার তথ্যও মিলেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অস্বাভাবিক উচ্চ মুনাফার প্রতিশ্রুতি সাধারণত প্রতারণার অন্যতম লক্ষণ। কোনো বিনিয়োগে ঝুঁকি না থাকলেও বেশি লাভের নিশ্চয়তা দেওয়া হলে সেটি সন্দেহজনক হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। সংশ্লিষ্টরা পরামর্শ দিয়েছেন, বিনিয়োগের আগে প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় যাচাই করা এবং অজানা প্রকল্পে অর্থ না দেওয়াই নিরাপদ।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। যাচাই-বাছাই ছাড়া বিনিয়োগ না করা এবং সন্দেহজনক কার্যক্রম দেখলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

