মাদারীপুরের শিবচরে তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে সহপাঠীর হামলায় এক স্কুলছাত্র গুরুতর আহত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আচারের একটি প্যাকেট চুরির সন্দেহ নিয়ে শুরু হওয়া বিরোধ শেষ পর্যন্ত রক্তাক্ত সংঘর্ষে গড়িয়েছে। আহত শিক্ষার্থী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আহত শিক্ষার্থীর নাম জুবায়ের আহম্মেদ। সে শিবচর উপজেলার পাঁচ্চর উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। অভিযুক্ত শামীম হোসেনও একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। স্থানীয় সূত্র, পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক দিন আগে জুবায়েরের এক বন্ধুর স্কুলব্যাগ থেকে আচার হারিয়ে যায়। এ ঘটনায় শামীমকে সন্দেহ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে জুবায়ের তার সহপাঠীর কাছে জানতে চাইলে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে তা হাতাহাতিতেও রূপ নেয়।
এর জের ধরেই বুধবার সন্ধ্যায় শিবচর উপজেলার পাঁচ্চর বাসস্ট্যান্ড এলাকার রূপসী বাংলা মার্কেটের সামনে হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। পরিবারের দাবি, জুবায়েরকে একা পেয়ে কয়েকজন মিলে অতর্কিতভাবে আক্রমণ চালানো হয়। এ সময় লোহার রড দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হলে সে গুরুতর আহত হয়।
জুবায়েরের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
আহত শিক্ষার্থীর মা লাকি বেগম অভিযোগ করে বলেন, সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে তার ছেলেকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে। তিনি হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। তার ভাষ্য, কয়েকজন মিলে পরিকল্পিতভাবে জুবায়েরের ওপর হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে অভিযুক্ত শামীম হোসেন নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তার দাবি, আগে তাকে মারধর করা হয়েছিল এবং রড দিয়ে হামলার অভিযোগ সঠিক নয়। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে বলেও দাবি করে সে।
ঘটনার পর এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় অভিভাবকদের অনেকে বলছেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছোটখাটো বিরোধ ক্রমেই সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে, যা সমাজের জন্য অশনিসংকেত। বিশেষ করে কিশোরদের মধ্যে দলবদ্ধ হামলা ও মারধরের প্রবণতা বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।
শিবচর থানার তদন্ত কর্মকর্তা মুঞ্জুল মোর্শেদ জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আহত শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পরিবার থেকে যথাযথ নজরদারি না থাকলে কিশোরদের মধ্যে সহিংস আচরণ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, শুধু আইনগত ব্যবস্থা নয়, শিক্ষার্থীদের মানসিক ও সামাজিক আচরণ নিয়েও কাজ করা জরুরি।

