রাজধানীর মিরপুরে শাহ আলী বাগদাদীর (রহ.) মাজারে হামলার ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ঘটনার কারণ নিয়ে একাধিক পক্ষ ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
একটি পক্ষের দাবি, মাজার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা মাদক বাণিজ্যের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চলাকালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই উত্তেজনা থেকেই হামলা ও সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে বলে তারা মনে করছে। অন্যদিকে, আরেক পক্ষ এই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নয়। তাদের অভিযোগ, ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ মূলত ছিল প্রভাব বিস্তারের একটি কৌশল। তাদের দাবি, মাজারকে কেন্দ্র করে থাকা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
এদিকে বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটির পেছনে শুধু অপরাধ বা মাদক সংশ্লিষ্ট বিষয়ই নয়। তাদের মতে, রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় মতাদর্শগত আধিপত্য বিস্তারের প্রচেষ্টাও এই হামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, পুরো ঘটনাটি একক কোনো কারণের ফল নয়। তাদের মতে, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মাজার কমিটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্ব, চাঁদা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ, ধর্মীয় মতাদর্শগত বিরোধ এবং এলাকায় রাজনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার প্রতিযোগিতা। পাশাপাশি মাজারকেন্দ্রিক প্রভাব, অনুসারী নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থিক লেনদেনের বিষয়ও রয়েছে। সব মিলিয়ে স্থানীয়দের মতে, শাহ আলীর মাজারকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বিভিন্ন স্বার্থ ও প্রভাবের সংঘাতই শেষ পর্যন্ত এই উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ক্ষেত্র তৈরি করেছে।
আধ্যাত্মিকতা ও মাজার-নির্ভর অর্থনীতি:
ইসলামের বাহ্যিক বিধিবিধান মেনে চলাকে সাধারণভাবে শরিয়ত বলা হয়ে থাকে। মাজারবিরোধী পক্ষ এই দিকটিকে বেশি গুরুত্ব দেয়। তবে মাজারপন্থীদের বিশ্বাস, শরিয়ত অনুসরণের মধ্য দিয়েই সুফিরা আধ্যাত্মিক উৎকর্ষ অর্জন করেন। তাদের মতে, জিকির, ধ্যান ও আত্মসংযমের মাধ্যমে ভক্তরা আত্মশুদ্ধির চেষ্টা করে থাকেন।
দক্ষিণ এশিয়ায় মাজার কেবল ধর্মীয় স্থান হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়। এটি ধীরে ধীরে সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে উঠেছে। অনেক মাজারকে ঘিরে মসজিদ, মাদ্রাসা, বাজার এবং বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। মাজারপন্থি অনুসারীদের পাশাপাশি ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের কাছেও এসব স্থান সম্মানের জায়গা হিসেবে বিবেচিত হয়।
তবে মাজারকে কেন্দ্র করে বিতর্কও দীর্ঘদিনের। সমালোচকদের অভিযোগ, কোথাও কোথাও কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস, শিরকচর্চা এবং অপরাধী চক্রের প্রভাব রয়েছে। অন্যদিকে সমর্থকদের মতে, এটি সুফি ঐতিহ্যেরই একটি ধারাবাহিক অংশ। এই ভিন্নমতের কারণে অনেক সময় সংঘাত ও সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক পরিসরেও মাজারের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি শুরু করেন মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে। ফলে মাজার সংক্রান্ত বিতর্ক এখন শুধু ধর্মীয় আলোচনায় সীমাবদ্ধ নেই; এটি সমাজ, অর্থনীতি এবং রাষ্ট্রীয় বাস্তবতার সঙ্গেও যুক্ত হয়ে গেছে।
মাজারকেন্দ্রিক অপরাধের অভিযোগ ও বাস্তবতা:
ছোট-বড় বিভিন্ন মাজারে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে। দান, মানত এবং নগদ অর্থ লেনদেনের কারণে এসব স্থান দিন-রাত খোলা থাকে এবং সব সময়ই জনসমাগমপূর্ণ থাকে। এই পরিস্থিতিতে অনেক ক্ষেত্রে মাজারকে ঘিরে গড়ে ওঠে এক ধরনের অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম। সুযোগ বুঝে সেখানে সক্রিয় হয়ে ওঠার অভিযোগও রয়েছে কিছু অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে। মিরপুরের শাহ আলী বাগদাদীর (রহ.) মাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় এমন জনসমাগমের দৃশ্য নিয়মিত দেখা যায়। ছবি: আবির আহম্মেদ সুপ্ত
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সূত্রের দাবি, কিছু মাজার এলাকায় মাদক গ্রহণ এবং খুচরা মাদক বিক্রি এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ভিড়ের কারণে বহিরাগতদের শনাক্ত করা কঠিন হওয়ায় অভিযানের খবর পেলেই অনেক কারবারি দ্রুত স্থান ত্যাগ করতে সক্ষম হয়। ভাসমান যুবক, কিশোর, ভিক্ষুক বা ছদ্মবেশী ব্যক্তিদের উপস্থিতি চোখে পড়লেও তাদের আড়ালে বড় মাদক সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।
তবে সব মাজার নয়, কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ চক্রের গোপন যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবেও মাজার ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব স্থানকে কেন্দ্র করে অবৈধ অস্ত্র লুকিয়ে রাখা, নতুন সদস্য সংগ্রহ, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ এবং চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক পরিচালনার মতো কর্মকাণ্ডও হয়ে থাকে।
এর পাশাপাশি তাবিজ-কবজ, অলৌকিক চিকিৎসা কিংবা সমস্যা সমাধানের নামে কিছু প্রতারক চক্র সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। জনবহুল পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে ছিনতাই, পকেটমার, এমনকি শিশু নিখোঁজ বা পাচারের ঝুঁকিও থেকে যায় বলে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করেছেন।
হাজার কোটি টাকার সম্পদ ও নিয়ন্ত্রণের লড়াই:
রাজধানীর মিরপুরে শাহ আলী বাগদাদীর (রহ.) মাজারকে ঘিরে রয়েছে কাঁচামাল গুদাম, দোকানসহ নানা ধরনের স্থাপনা। এসব পরিচালনার জন্য শতাধিক কর্মী নিয়োজিত আছেন। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, মাজারের মোট জমির পরিমাণ ৩২ দশমিক ১৪ একর বা ৯৭ দশমিক ৪০ বিঘা। এর মধ্যে ৭৫ বিঘা জমি মাজারের নামে ওয়াকফ করা সম্পত্তি। তবে স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বাস্তবে মাত্র ৫ দশমিক ৭৬ একর জমি বর্তমানে মাজারের দখলে রয়েছে।
মাজারের এই বিশাল সম্পত্তিকে ঘিরে গড়ে ওঠা কাঁচামালের আড়ত ও দোকান বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব মার্কেটে চাঁদাবাজিও এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব কার্যক্রমে বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির প্রভাবও রয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণের হাতবদল হয়েছে বলেও জানা যায়। মাজারের সম্পত্তি দেখভালের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার কথাও স্থানীয়ভাবে আলোচিত। মিরপুরের শাহ আলী বাগদাদীর (রহ.) মাজারের একটি চিত্র। ছবি: আবির আহম্মেদ সুপ্ত
স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, শাহ আলী মাজারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা এবং কথিত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতা চলছে। মাজার মার্কেটের দোকানগুলোর ভোগদখল নিয়ে জটিলতার কথাও জানা যায়, যেখানে মাজারের প্রায় ৭৫ বিঘা ওয়াকফ সম্পত্তি দোকান মালিকদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করা হয়। ২০২২ সালে এই সম্পত্তি নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট আবেদনও করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
মাজারসহ ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার ঘটনায় বিভিন্ন মহলে ‘তৌহিদী জনতা’ পরিচয়ের ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশিষ্টজনদের একাংশের দাবি, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে এসব হামলায় প্রায়ই এই পরিচয় ব্যবহার করা হচ্ছে। তাদের মতে, হামলাগুলোকে ইমানি চেতনায় বিশ্বাসী সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া হিসেবে উপস্থাপন করে প্রকৃত সংগঠক বা স্বার্থান্বেষী পক্ষ নিজেদের আড়ালে রাখার সুযোগ পাচ্ছে।
সুন্নি মতাদর্শভিত্তিক রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব স উ ম আবদুস সামাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সন্ধ্যায় কুমিল্লার লাকসামে প্রথম মাজারে হামলার ঘটনা ঘটে। তার পরপরই সরকার পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক মাজারে হামলার খবর সামনে আসে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরপরই কেন ধর্মীয় স্থাপনায় হামলা শুরু হবে।
তার মতে, এসব ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন হিসেবে দেখার সুযোগ কম। বরং দীর্ঘদিন নীরব থাকা কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী হঠাৎ সক্রিয় হয়ে ‘তৌহিদী জনতা’ পরিচয়ের আড়ালে নিজেদের আড়াল করছে বলেও তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে এই শব্দবন্ধ ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তার অভিযোগ।
মাজারকেন্দ্রিক মাদক বা অপরাধের অভিযোগ প্রসঙ্গে স উ ম আবদুস সামাদ বলেন, অনেক ক্ষেত্রে হামলাকারীরা ‘মাদকবিরোধী অভিযান’-এর যুক্তি তুলে ধরছে। তবে দেশে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থাকা সত্ত্বেও সাধারণ জনগণের আইন হাতে নেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। তার মতে, কোনো অপরাধ থাকলে তা তদন্ত, গ্রেফতার ও বিচার করার দায়িত্ব রাষ্ট্রীয় সংস্থার। সংগঠিত হামলা কোনোভাবেই রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারে না।
ইসলামিক বুদ্ধিজীবী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান শাহসুফি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হান্নান আল হাদী মাজারে হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ধর্মীয় স্থাপনায় হামলা কোনোভাবেই ইতিবাচক দৃষ্টান্ত নয়। তার মতে, কোনো মাজারে শরিয়তবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকলে তা বন্ধে প্রশাসনের সহযোগিতা নেওয়াই সঠিক পথ। অজুহাত তৈরি করে হামলা চালানো ইসলামের জন্য ক্ষতিকর বার্তা বহন করে।
তিনি আরও বলেন, কোথাও কোথাও গাঁজা সেবন, মদের আড্ডা বা অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকলে তা বন্ধের দায়িত্ব প্রশাসনের। একই সঙ্গে মাজারে শায়িত অলি-আউলিয়াদের প্রতি সম্মান বজায় রাখা জরুরি। তাই একদিকে মাজারে হামলা বন্ধ করতে হবে, অন্যদিকে মাজার এলাকায় অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
মিরপুরের শাহ আলী বাগদাদীর (রহ.) মাজারে হামলার ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে জামায়াতে ইসলামী নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। তবে দলটি এ অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, শাহ আলী মাজারের ঘটনায় জামায়াতের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। তার দাবি, দলটি আগেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, অতীতের মতো এবারও একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জামায়াতের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ঘটনাটির সঙ্গে যাদের জড়িত বলা হচ্ছে, তাদের সঙ্গে জামায়াতের কোনো সম্পর্ক নেই। তার ভাষায়, দলটির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ অপ্রমাণিত ও ভিত্তিহীন।
তবে এই ‘অস্বীকারই যথেষ্ট নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, জামায়াতসহ ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলোর উচিত তাদের নীতিগত অবস্থান আরও স্পষ্ট করা। পাশাপাশি দেশের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বৈচিত্র্য নিয়ে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করা এবং অভিযুক্ত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলেও তিনি মনে করেন। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট ৬৮টি মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৭০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সময়ে মাজারকেন্দ্রিক হুমকির ঘটনায় ৪০টি সাধারণ ডায়েরি এবং ২৭টি মামলা দায়ের হয়েছে।
পুলিশ জানায়, এসব মামলার মধ্যে তদন্ত শেষে ৯টিতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাবে ছয়টি মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ১২টি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে।
রাজধানীর মিরপুরের শাহ আলী বাগদাদীর (রহ.) মাজারে হামলার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে বলে জানান শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাদের দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে হামলার কারণ এবং সংশ্লিষ্টদের রাজনৈতিক পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে।

