রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে হত্যার ঘটনায় ফরেনসিক ও ডিএনএ পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা নিশ্চিত হয়েছেন, ঘটনার আগে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয় এবং পরে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্য আরও তীব্র হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সিআইডির ফরেনসিক ইউনিট এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পাওয়া পরীক্ষার ফলাফল মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ডিএনএ বিশ্লেষণের মাধ্যমে মূল অভিযুক্তের সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুত সময়ের মধ্যে আদালতে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র দাখিলের প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মামলার চার্জশিট তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রযুক্তিগত তথ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেমে তথ্য সংযোজনসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। এতে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
এর আগে ঢাকার একটি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। জবানবন্দিতে তিনি ঘটনার সময় মাদক গ্রহণের কথা স্বীকার করেন এবং এরপর শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা উল্লেখ করেন বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান।
সরকারের নির্দেশনায় মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইন ও বিচার বিভাগ বিশেষ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ দিয়েছে।আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন, ঈদের ছুটি শেষে দ্রুতই বিচারিক কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
গত ১৯ মে পল্লবীর একটি বাসায় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে হত্যার ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ চলছে। অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে জনমত তীব্র আকার ধারণ করেছে।
ঘটনার পরদিনই শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন। পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে। এদিকে ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান নিহত শিশুর পরিবারের সঙ্গে দেখা করে শোক প্রকাশ করেন এবং দ্রুত ন্যায়বিচারের দাবি জানান।

