রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত স্থাপনাগুলোর একটি জাতীয় সংসদ ভবন থেকেই বিপুল পরিমাণ কপার বার উধাও হওয়ার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। সরকারি নথি অনুযায়ী, স্টোররুম থেকে মোট ১ হাজার ৩৪৩টি কপার বাসবার খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা। কীভাবে এই ধাতব উপকরণ নিখোঁজ হলো, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যেই রয়েছে বিভ্রান্তি ও পরস্পরবিরোধী বক্তব্য।
প্রকল্প ও নথিপত্র ঘিরে অনিয়মের অভিযোগও সামনে এসেছে। সংসদ ভবনের নবম তলায় বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষে পুরোনো কপার বার স্টোরে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে সেগুলোর অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে না বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই প্রকল্পে একাধিক সার্ভে রিপোর্ট তৈরি হলেও সেখানে স্বাক্ষর, তারিখ ও তথ্যের অসংগতি পাওয়া গেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রকল্পের কাজ শেষ দেখিয়ে বিল উত্তোলনের পরও স্টোরে মালপত্রের হিসাব ঠিকভাবে মিলছে না। কোথাও ব্যবহৃত পুরোনো উপকরণ পুনরায় ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেলেও কতটা কাজ সম্পন্ন হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে স্টোরে সংরক্ষিত মালপত্রের সঠিক হিসাব ও হস্তান্তর প্রক্রিয়া নিয়ে স্পষ্ট নথি না থাকায় বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
প্রকৌশল বিভাগের একাধিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একে অন্যের ওপর দায় চাপাচ্ছেন বলে জানা গেছে। কেউ বলছেন, স্টোরে মালপত্র ছিল, আবার কেউ দাবি করছেন যথাযথভাবে তাদের কাছে তা হস্তান্তর করা হয়নি। ফলে পুরো ঘটনায় দায়িত্ব নির্ধারণ নিয়ে প্রশাসনিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের মধ্যে আর্থিক বিরোধও তৈরি হয়েছিল। কাজের বিল ও হিসাব-নিকাশ নিয়েও মতপার্থক্য দেখা দেয়, যা পরবর্তীতে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের দিকেই মূলত দায় নির্দেশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট একাধিক পক্ষ এই প্রতিবেদনের কিছু অংশ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে।
এদিকে স্টোররুম ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় থাকা স্টোরে কীভাবে বিপুল পরিমাণ ধাতব উপকরণ অনিয়মিতভাবে অনুপস্থিত হলো, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে তদন্তের দাবি জোরদার হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি শুধু একটি চুরির ঘটনা নয়, বরং পুরো প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও সরকারি সম্পদ ব্যবহারের স্বচ্ছতা নিয়েও বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিষয়টি এখন পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি রাখে বলে মত দিয়েছেন অনেকে।

