রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের আলোচিত মামলায় বিচার শুরুর দিন আদালত প্রাঙ্গণে নতুন এক দাবি তুলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছেন প্রধান আসামি সোহেল রানা। আদালতে তোলার সময় সাংবাদিকদের সামনে তিনি দাবি করেন, ঘটনার জন্য একমাত্র তিনিই দায়ী নন এবং ‘ডলার’ নামের একজন ব্যক্তিরও সম্পৃক্ততা রয়েছে।
সোমবার সকালে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য কারাগার থেকে সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে আনা হয়। আদালত কক্ষে নেওয়ার আগে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে সোহেল একাধিক বিস্ময়কর বক্তব্য দেন।
সোহেলের দাবি, ঘটনার পেছনে আরও একজন ব্যক্তি ছিলেন, যাকে তিনি ‘ডলার’ নামে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্যমতে, ওই ব্যক্তি আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে পুরো ঘটনায় ভূমিকা রেখেছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয় এবং তাকে অযথা জড়ানো হয়েছে।
তবে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এ পর্যন্ত তদন্তে যে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাতে সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তি পাওয়া গেছে। পুলিশ ইতোমধ্যে আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে সোহেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এবং স্বপ্নার বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ উল্লেখ করেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করছেন, বিচার শুরুর পর্যায়ে এসে আসামির এমন বক্তব্য আদালতের আনুষ্ঠানিক বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ নয়। এসব দাবির সত্যতা যাচাইয়ের বিষয়টি আদালত ও সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্তৃপক্ষের বিবেচনার ওপর নির্ভর করবে। এদিন আদালতে দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্য দিয়ে মামলাটি আনুষ্ঠানিক বিচারপর্বে প্রবেশ করেছে। আদালত সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য পরবর্তী তারিখও নির্ধারণ করেছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এর আগে আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, সংগৃহীত আলামত, ফরেনসিক তথ্য, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং অন্যান্য তদন্ত-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবী এলাকায়। নিখোঁজ হওয়ার কিছু সময় পর একটি বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও আলোড়নের সৃষ্টি করে। পরে অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার স্ত্রীকেও আইনের আওতায় আনা হয়।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগ গঠনের পর এখন মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শুরু হচ্ছে। সাক্ষ্য, জেরা, ফরেনসিক প্রতিবেদন এবং অন্যান্য প্রমাণ আদালতে উপস্থাপনের মাধ্যমে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে। বিচার শেষে আদালত প্রমাণের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।
এদিকে রামিসার পরিবার দ্রুত বিচার এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে। মানবাধিকারকর্মী ও সচেতন নাগরিকরাও শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত এমন ভয়াবহ অপরাধের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। আদালত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মামলাটি ইতোমধ্যে ব্যাপক জনমনে গুরুত্ব পেয়েছে। ফলে বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে বিশেষ নজর রয়েছে। তবে আইনের সব ধাপ অনুসরণ করেই মামলার নিষ্পত্তি হবে।

