Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice শনি, জুন 13, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » ঢাকার দুই চিত্র: গডফাদারের ভয় বনাম গার্ডিয়ানের নিয়ন্ত্রণ
    অপরাধ

    ঢাকার দুই চিত্র: গডফাদারের ভয় বনাম গার্ডিয়ানের নিয়ন্ত্রণ

    নিউজ ডেস্কজুন 2, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    গত ১২ এপ্রিল রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা কেবল একটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়। এটি দেশের বিদ্যমান বিচারব্যবস্থার দুর্বলতার এক নির্মম ও দৃশ্যমান প্রতিচ্ছবি হিসেবেও সামনে এসেছে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ইমন হোসেন নামের এক তরুণকে ধাওয়া করা হচ্ছে। এরপর তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এক পর্যায়ে তার বাঁ পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এই দৃশ্য রাজধানীর বুকে ঘটে যাওয়া সহিংসতার ভয়াবহ চিত্র আরও একবার সামনে এনে দিয়েছে। এই ধরনের ঘটনা শুধু একটি হত্যাকাণ্ডের গল্প নয়। এটি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার ভেতরে রাষ্ট্রীয় নিষ্ক্রিয়তা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতার প্রতীকী চিত্র হয়ে উঠেছে।

    অন্যদিকে রাজধানীর গুলশান এলাকার বাস্তবতা ভিন্ন। সেখানে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইয়ের মতো রাস্তাকেন্দ্রিক অপরাধ তুলনামূলকভাবে অনেক কম। প্রশ্ন উঠছে, এটি কি কেবল অভিজাত এলাকা বলেই এমন পরিস্থিতি, নাকি এর পেছনে রয়েছে ভিন্ন কোনো বাস্তবতা? অনেকে মনে করেন, এখানে পুলিশের সক্রিয়তা, নাগরিকদের সম্পৃক্ততা, প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সমন্বিত নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে অপরাধীদের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা থাকে যে এখানে অপরাধ করলে সহজে পার পাওয়া যায় না।

    ঢাকার মোহাম্মদপুর একসময় পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল। সময়ের পরিবর্তনে এই এলাকা এখন বারবার উঠে আসছে ভিন্ন এক পরিচয়ে। খুন, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার মতো অপরাধে এলাকাটি ক্রমেই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠছে। প্রশ্ন আরও গভীর হচ্ছে, রাজধানীর এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা কেন বারবার অনিরাপত্তার বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে, আর এর সমাধানই বা কোথায়।

    সম্প্রতি প্রথম আলোয় প্রকাশিত ‘মোহাম্মদপুর কি ঢাকার “সিটি অব গড”’ শীর্ষক প্রতিবেদনে একটি বিষয় সামনে আসে। সেখানে বলা হয়, অপরাধচক্রের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে এই অপরাধ কাঠামোতেও পরিবর্তন আসে। শক্তির অবস্থানে থাকা ব্যক্তিরাই এক পর্যায়ে অপরাধজগতের নিয়ন্ত্রকে পরিণত হন। আইন ও বিচার ব্যবস্থা কার্যকর না হওয়ার কারণে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোর ‘সিটি অব গড’ বস্তির মতোই দীর্ঘদিন ধরে অপরাধপ্রবণতা টিকে আছে বলে বিশ্লেষণে উঠে আসে।

    মোহাম্মদপুরেও একই ধরনের চিত্র দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এখানে দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন অপরাধী চক্র নিজেদের মধ্যে খুন, পাল্টা খুন, মাদক ব্যবসা, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির মতো কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেলেও তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

    একজন নগর অধিকারকর্মী ও আইনজীবী হিসেবে এখানে দুটি প্রশ্ন সামনে আসে। প্রথমত, কেন অপরাধীরা বারবার আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, রাষ্ট্রের বিচার ও আইন প্রয়োগ কাঠামো কোথায় দুর্বল হয়ে পড়ছে।

    নিহত ইমন হোসেনের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে মোট ১৮টি মামলা ছিল। তবে এসব মামলার অনেক ক্ষেত্রেই বিচার প্রক্রিয়া শেষ হয়নি বা শাস্তি কার্যকর হয়নি বলে জানা যায়।

    এটি শুধু একটি ব্যক্তির ঘটনা নয়। একই ধরনের উদাহরণ হিসেবে মাদক ব্যবসা নিয়ে বিরোধে নিহত আসাদুল হক ওরফে লম্বু আসাদুলের বিরুদ্ধেও সাতটি মামলা ছিল কিন্তু সেসব মামলার ক্ষেত্রেও কার্যকর শাস্তির নজির পাওয়া যায়নি। এই বাস্তবতা বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করছে। মামলা আছে, সাক্ষ্যপ্রমাণ আছে, আইনও আছে। তবুও বিচার না হওয়ার এই শূন্যতা অপরাধীদের জন্য এক ধরনের সুবিধা তৈরি করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    ঢাকা মহানগর পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদপুরে বর্তমানে অর্ধশতাধিক অপরাধী দল সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি বড় দল। প্রতিটি দলে সদস্য সংখ্যা ১৫ থেকে ২০ জন। এই তালিকায় রয়েছে পাটালি গ্রুপ, ডাইল্লা গ্রুপ, গাংচিল গ্রুপ, কবজি কাটা আনোয়ার গ্রুপসহ আরও বেশ কয়েকটি পরিচিত অপরাধচক্র। সব মিলিয়ে মোহাম্মদপুরের বর্তমান বাস্তবতা শুধু একটি এলাকার নিরাপত্তা প্রশ্ন নয়। এটি রাজধানীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও বিচার ব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করছে।

    মোহাম্মদপুরের এই অপরাধী দলগুলোর নাম শুনলেই স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ নাগরিকের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। তবে প্রশ্ন হলো, এগুলো কি রাষ্ট্রের অজানা? বাস্তবতা হলো, এমন নয়। রাষ্ট্র জানে, পুলিশ জানে, এমনকি স্থানীয় প্রশাসনও জানে। তবু কার্যকর দমন দেখা যায় না। এই জানা সত্ত্বেও ব্যবস্থা না নেওয়ার প্রবণতাই এখন মূল সংকট হিসেবে সামনে আসছে।

    পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর গত প্রায় ২০ মাসে মোহাম্মদপুরে অপরাধী দলগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও সংঘাতে অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন। গড়ে প্রতি বছরে যা দাঁড়ায় প্রায় ১২ থেকে ১৪টি হত্যাকাণ্ডে।

    কোনো সভ্য শহর বা কার্যকর রাষ্ট্রব্যবস্থায় এমন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে প্রত্যেক নাগরিকের জীবনের অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এই অধিকার যখন রাজধানীর একটি থানার সীমানার ভেতরেই নিয়মিতভাবে লঙ্ঘিত হয়, তখন রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা অস্বাভাবিক নয়।

    বিশ্লেষকদের মতে, মোহাম্মদপুরে ছোট ছোট অপরাধী দলগুলোর উত্থান নতুন কোনো ঘটনা নয়। এর শিকড় অনেক পুরোনো। আশি ও নব্বইয়ের দশক থেকেই ঢাকায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে অস্ত্রের ব্যবহার বাড়তে শুরু করে। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং মাদক ব্যবসার বিস্তার ঘটে।

    অর্থাৎ, এই সমস্যা কোনো সাম্প্রতিক ঘটনা নয়। এটি চার দশকেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা একটি ধারাবাহিক সংকট। এই সময়ে একাধিক সরকার পরিবর্তন হয়েছে, পুলিশ প্রশাসনের নেতৃত্ব বদলেছে। কিন্তু মোহাম্মদপুরের অপরাধ পরিস্থিতির মৌলিক পরিবর্তন হয়নি। এ থেকেই স্পষ্ট হয় যে সমস্যাটি শুধু ব্যক্তি বা কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর ব্যর্থতা নয়। বরং এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার চিত্র।

    গত ১২ এপ্রিল মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে ইমন হোসেন ওরফে অ্যালেক্স ইমনকে প্রতিপক্ষের হামলায় কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনাটির একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

    একজন র‍্যাব কর্মকর্তা একটি গণমাধ্যমে দেওয়া মন্তব্যে উল্লেখ করেন, অপরাধবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে মোহাম্মদপুরে “বাস্তুবিদ্যা” বা অপরাধের উপযোগী সব উপাদান বিদ্যমান। পাশাপাশি এলাকার ভৌগোলিক অবস্থানও অপরাধীদের জন্য সহায়ক। অপরাধ সংঘটনের পর দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে, বিশেষ করে বুড়িগঙ্গার ওপারের দিকে।

    এই স্বীকারোক্তি গুরুত্বপূর্ণ একটি বাস্তবতাকে সামনে আনে অর্থাৎ, নিরাপত্তা বাহিনী নিজেই স্বীকার করছে যে ভৌগোলিক কাঠামো অপরাধীদের সুবিধা দিচ্ছে। প্রশ্ন হলো, এই ঝুঁকি মোকাবিলায় কোনো বিশেষ নিরাপত্তা কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে কি না। বাস্তব চিত্র বলছে, এখনো তা পুরোপুরি কার্যকর নয়। আইনগত বিশ্লেষণে দেখা যায়, জননিরাপত্তা ব্যর্থতার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। প্রথমত, বিচারহীনতার সংস্কৃতি। যখন একাধিক মামলার আসামি কোনো ধরনের শাস্তি ছাড়াই বাইরে ঘুরে বেড়ায়, তখন অপরাধীদের মধ্যে আইনের ভয় কমে যায়। এই দায়মুক্তির পরিবেশই অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

    দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক প্রভাব ও অপরাধচক্রের পারস্পরিক সম্পর্ক। দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে, অপরাধী গোষ্ঠীগুলো বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক শক্তির ছায়ায় কাজ করেছে। এই সম্পর্ক যত গভীর হয়, ততই আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষে নিরপেক্ষভাবে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

    মোহাম্মদপুরের অপরাধচিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এখানে অপরাধের ধরন একক নয়, বরং বহুমাত্রিক। মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, দখলবাজি এবং কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য—সব মিলিয়ে একটি জটিল নিরাপত্তা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

    বিশেষ করে কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার ভবিষ্যতের জন্য আরও বড় উদ্বেগ তৈরি করছে। কারণ, এটি শুধু বর্তমান অপরাধ নয়, বরং ভবিষ্যৎ অপরাধচক্রের ভিত্তিও তৈরি করছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, অল্প বয়সী তরুণেরা দ্রুত অর্থ উপার্জনের আকাঙ্ক্ষা কিংবা প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় এসব অপরাধী গোষ্ঠীতে যুক্ত হয়ে পড়ছে। এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে—এই গোষ্ঠীগুলো কীভাবে এতটা সংগঠিত ও শক্তিশালী হয়ে উঠছে?

    বিশ্লেষণ বলছে, এর একটি বড় অংশ জড়িয়ে আছে রাজনৈতিক আশ্রয়–প্রশ্রয় এবং অর্থায়নের কাঠামোর সঙ্গে। বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ছায়ায় এসব অপরাধী চক্রের বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে তাদের আশ্রয়দাতার পরিবর্তন হলেও অপরাধের কাঠামো প্রায় অপরিবর্তিত থেকে যায়।

    এই রাজনৈতিক অর্থায়ন ও সুরক্ষার সংস্কৃতি অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। যখন কোনো গোষ্ঠী রাজনৈতিক সুরক্ষা পায়, তখন তারা নিজেদের আইনের ঊর্ধ্বে মনে করতে শুরু করে। ফলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উদ্যোগ অনেক ক্ষেত্রেই কাঙ্ক্ষিত ফল দেয় না।

    মোহাম্মদপুরে ২০০১ সালের ১৮ নভেম্বর সকালে বাসায় ঢুকে বিএনপি নেতা বাবুল আহমেদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই দিন রাতে দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের গুলিবিনিময়ে পড়ে এক দম্পতির মৃত্যু হয়। পরদিন ২০০১ সালের ১৯ নভেম্বর প্রথম আলো পত্রিকায় এই ঘটনাগুলো সংবাদ আকারে প্রকাশিত হয়।

    রাজনৈতিক সংযোগের বাইরে বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতাও এখানে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের একজন আইনজীবী হিসেবে আমি হলফ করে বলতে পারি, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্তরা দ্রুত জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।

    বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা, সাক্ষ্য–প্রমাণ সংগ্রহে দুর্বলতা এবং সাক্ষীদের নিরাপত্তাহীনতা মিলিয়ে একটি দুর্বল বিচারিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এর ফলে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন, আর অপরাধীরা কার্যত উৎসাহ পেয়ে যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযান সত্ত্বেও পরিস্থিতির উন্নতি সীমিত থাকার পেছনে আরও কিছু কাঠামোগত দুর্বলতা রয়েছে।

    নগর ব্যবস্থাপনার ঘাটতি, অপরিকল্পিত বসতি, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জার অভাব এবং জনপরিসরে নজরদারির সীমাবদ্ধতা অপরাধ বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। অনেক এলাকায় রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম থাকায় অপরাধ সংঘটনের সুযোগ তৈরি হয়।

    সমাধানের পথ বন্ধ নয়, তবে এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা। প্রথম ধাপ হিসেবে ঝুলে থাকা মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি জরুরি। একজন অপরাধীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও তার মুক্তভাবে অপরাধে যুক্ত থাকা বিচারব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

    এটি একদিকে আদালতের কার্যকারিতার বিষয়, অন্যদিকে তদন্তকারী সংস্থার দায়িত্বশীলতার প্রশ্নও। বিশেষ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে পুনরাবৃত্তিমূলক অপরাধীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। একটি নির্দিষ্ট এলাকায় চার দশক ধরে একই ধরনের অপরাধ চলমান থাকা কেবল পুলিশি ব্যর্থতা নয়, এর সঙ্গে রাজনৈতিক মদদের বিষয়ও সমানভাবে আলোচনায় আসে। এমন প্রেক্ষাপটে মোহাম্মদপুরের জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া বিকল্প নেই।

    প্রথমত, রাজনৈতিক অর্থায়ন ও আশ্রয়–প্রশ্রয়ের সংস্কৃতি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। অপরাধী গোষ্ঠীর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সম্পর্ক প্রমাণিত হলে তা আইনের আওতায় আনা জরুরি। বর্তমান সরকারের এ বিষয়ে কিছু উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ শুদ্ধি অভিযানও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    এর পাশাপাশি গুলশানের বাস্তবতা একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে। একই আইনি কাঠামোর মধ্যেও সেখানে ছিনতাই, চুরি ও ডাকাতির মতো রাস্তাকেন্দ্রিক অপরাধ প্রায় নেই বললেই চলে। গভীর রাতেও মানুষ সেখানে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারে। এর প্রধান কারণ হিসেবে স্থানীয় বাসিন্দাদের সক্রিয় ভূমিকা ও সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে উল্লেখ করা হয়। গুলশান সোসাইটির উদ্যোগে অন্যান্য সোসাইটির সঙ্গে সমন্বয় করে ল অ্যান্ড অর্ডার কো–অর্ডিনেশন কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    এই উদ্যোগটি মূলত একটি বেসরকারি–সরকারি অংশীদারত্বের উদাহরণ। এলাকাবাসী বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করে একটি বৃহৎ বেসরকারি সিসিটিভি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। প্রায় এক হাজার পাঁচশ ক্যামেরা এই ব্যবস্থার আওতায় পরিচালিত হচ্ছে, যার নিয়ন্ত্রণ কক্ষ রয়েছে সংশ্লিষ্ট থানার ভেতরে। সব মিলিয়ে স্পষ্ট হচ্ছে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং নাগরিক অংশগ্রহণ—এই তিনটি উপাদান একসঙ্গে কাজ না করলে টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। সময়সীমার মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এখনো সম্ভব। অন্যথায় এই সংকট শুধু একটি এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং ধীরে ধীরে পুরো নগরজীবনকে প্রভাবিত করবে।

    এর পাশাপাশি গুলশান এলাকার বাস্তব চিত্রে দেখা যায়, সেখানে বাসিন্দাদের সংগঠন গুলশান সোসাইটি প্রায় ১০০ জন কমিউনিটি পুলিশ নিয়োগ দিয়েছে। এই বাহিনী দিন ও রাতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষায় ভূমিকা রাখে। রাতের বেলায় মোটরসাইকেলে টহল দিয়ে তারা নিয়মিত সাইরেন বাজিয়ে এলাকায় উপস্থিতি জানান দেয়। এর মূল উদ্দেশ্য একটাই—অপরাধীদের কাছে স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দেওয়া যে এই এলাকায় অপরাধ করলে পার পাওয়া কঠিন।

    এই অভিজ্ঞতা থেকে মোহাম্মদপুরের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রথমত, এলাকাভিত্তিক নাগরিক নিরাপত্তা কমিটি গঠন করা যেতে পারে, যেখানে স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, বাড়ির মালিক সমিতি, স্কুল, মসজিদ কমিটি, বাজার কমিটি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একসঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

    দ্বিতীয়ত, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, গলি, বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পার্ক এবং অপরাধপ্রবণ স্থানগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।

    তৃতীয়ত, রাতের বেলায় নিয়মিত কমিউনিটি টহল ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে, যা পুলিশের বিকল্প নয়; বরং পুলিশের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে।

    চতুর্থত, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে স্কুলভিত্তিক কাউন্সেলিং, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বাড়ানো এবং অভিভাবক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

    পঞ্চমত, চিহ্নিত অপরাধী, মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজদের একটি হালনাগাদ তালিকা তৈরি করে তাদের দ্রুত বিচার ও কঠোর নজরদারির আওতায় আনা দরকার।

    মোহাম্মদপুর ও গুলশানকে পাশাপাশি রাখলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে—পার্থক্য শুধু অর্থনৈতিক বা শ্রেণিগত অবস্থানে নয়। মূল পার্থক্য নাগরিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে সক্রিয় সম্পৃক্ততায়। যখন নাগরিকরা সংগঠিত হন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করেন, প্রযুক্তি ব্যবহার করেন এবং অপরাধীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করেন, তখন অপরাধ কমে আসে। একই সঙ্গে পুলিশও বেশি জবাবদিহির মধ্যে আসে এবং অপরাধীদের জন্য বার্তা স্পষ্ট হয়—এলাকাটি আর দুর্বল নয়।

    সব মিলিয়ে বিষয়টি আবারও একটি বাস্তবতায় ফিরে আসে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং নাগরিক অংশগ্রহণ—এই তিনটি উপাদানের সমন্বয় ছাড়া টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। সময়ের মধ্যে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এখনো সম্ভব। কিন্তু বিলম্ব হলে এই সংকট শুধু একটি এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং ধীরে ধীরে পুরো নগরজীবনকে প্রভাবিত করবে। তাই মোহাম্মদপুরের নিরাপত্তা নিয়ে শুধু উদ্বেগ প্রকাশ নয়, এখন প্রয়োজন নাগরিক সম্পৃক্ততার বাস্তব ও সংগঠিত পদক্ষেপ।

    • ব্যারিস্টার ওমর সাদাত, নগর অধিকারকর্মী, সিনিয়র অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, সভাপতি, গুলশান সোসাইটি ও ল অ্যান্ড অর্ডার কো-অর্ডিনেশন কমিটি।
    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    মতামত

    গাজা কোনো ব্যতিক্রম নয়, কয়েক দশক আগেই এই গণহত্যার পরিকল্পনা করেছিল ইসরায়েল

    জুন 11, 2026
    মতামত

    বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ ও গণহত্যার মাধ্যমে ক্রীড়া-উৎসবে মেতে উঠেছে

    জুন 11, 2026
    মতামত

    আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা চুক্তি কি ইসরায়েলের সহিংস সম্প্রসারণবাদকে চূড়ান্ত আঘাত করতে পারবে?

    জুন 11, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ডিজিটাল ঋণ সুবিধা, জামানত ছাড়াই মিলবে টাকা

    ব্যাংক জানুয়ারি 10, 2026

    যমুনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হলেন বেলাল হোসেন

    ব্যাংক অক্টোবর 30, 2025

    এক দিনেই ৩–৪ লাখ টাকা ঋণ পাবেন উদ্যোক্তারা

    ব্যাংক ডিসেম্বর 17, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.