Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice শনি, জুন 13, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » রামিসার বাবা কেন বিচার চায় না?
    অপরাধ

    রামিসার বাবা কেন বিচার চায় না?

    নিউজ ডেস্কUpdated:জুন 3, 2026জুন 3, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    ছবি: এ আই
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    বিচারহীনতার সংস্কৃতি হলো এমন একটি সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় অবস্থা, যেখানে অপরাধী তার রাজনৈতিক পরিচয়, অর্থনৈতিক ক্ষমতা বা প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে সহজেই শাস্তি এড়িয়ে যায়। এটি ন্যায়বিচারের প্রতি মানুষের আস্থা ধ্বংস করে এবং অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তোলে।

    সম্প্রতি ঘটে যাওয়া  গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে রাজধানীর পল্লবীর একটি বহুতল আবাসিক ভবনে সাত বছরের অবুঝ শিশু রামিসা আক্তারকে বাথরুমের ভেতরে নিয়ে অত্যন্ত নৃশংসভাবে গলা কেটে ও হাত পা কেটে হত্যা করা হয়। এই পৈশাচিক ও গা শিউরে ওঠা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া মূল ঘাতক যুবক সোহেল রানা (৩০) এবং তার সহযোগী স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনী যৌথ অভিযানের মাধ্যমে দ্রুত গ্রেপ্তার করেছে।

    দেশের প্রচলিত বিচার ব্যবস্থার প্রতি তীব্র আক্ষেপ, চরম ক্ষোভ ও গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন নিহতের ভাগ্যাহত পিতা আবদুল হান্নান মোল্লা। বুকফাটা আর্তনাদ নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে তিনি সটান বলেন, ‘আমি আপনাদের কাছে আমার নিষ্পাপ মেয়ে হত্যার কোনো বিচার চাই না। কারণ আমি ভালো করেই জানি— আপনারা এই জঘন্য অপরাধের সঠিক বিচার কোনোদিন করতে পারবেন না। এই দেশে সাধারণ মানুষের ওপর হওয়া পৈশাচিক অন্যায়ের সুষ্ঠু বিচার করার তেমন কোনো অতীত রেকর্ড বা নজির নেই।’

    নিজের একমাত্র কন্যাসন্তানকে হারিয়ে শোকে পাথর হয়ে যাওয়া বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা আরও বলেন, ‘আপনারা এই নির্মমতার আসল বিচার করতে পারবেন না, আর আমার আদরের মেয়েটিও কোনোদিন আমার বুকে আর ফিরে আসবে না। আপনাদের এই বিচার ব্যবস্থার ওপর আমাদের আস্থা রাখার মতো কোনো সুনির্দিষ্ট উদাহরণ সমাজে নেই। দেশের নিয়ম অনুযায়ী এই বেদনাদায়ক ঘটনাটি নিয়ে বড়জোর আগামী ১৫ দিন চারদিকে ব্যাপক আলোচনা ও লেখালেখি চলবে; এরপর দেশের কোথাও নতুন কোনো বড় ঘটনা বা অঘটন ঘটবে এবং সাধারণ মানুষের নজর সেদিকে চলে গেলে একপর্যায়ে আমার মেয়ের এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডটি চিরতরে ফাইলের নিচে ধামাচাপা পড়ে যাবে।

    ‘আমি আপনাদের কাছে আমার নিষ্পাপ মেয়ে হত্যার কোনো বিচার চাই না। কারণ আমি ভালো করেই জানি— আপনারা এই জঘন্য অপরাধের সঠিক বিচার কোনোদিন করতে পারবেন না। এই দেশে সাধারণ মানুষের ওপর হওয়া পৈশাচিক অন্যায়ের সুষ্ঠু বিচার করার তেমন কোনো অতীত রেকর্ড বা নজির নেই।’—আবদুল হান্নান মোল্লা (রামিসার বাবা)

    বিচারহীনতার সংস্কৃতির মূল কারণ ও বৈশিষ্ট্য:

    বিচারহীনতার সংস্কৃতি এমন একটি পরিস্থিতি, যেখানে অপরাধ ঘটলেও তার যথাযথ বিচার হয় না এবং অপরাধীরা অনেক সময় দায়মুক্ত থেকে যায়। এর কিছু প্রধান কারণ ও বৈশিষ্ট্য নিচে তুলে ধরা হলো—

    প্রভাবশালীদের সুরক্ষা:
    বিচারহীনতার সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতি অতিরিক্ত সুরক্ষা। যখন কোনো অপরাধে ক্ষমতাবান রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী বা প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত থাকে, তখন অনেক ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। এতে তদন্তের গতি কমে যায় বা অনেক সময় তদন্তই বাধাগ্রস্ত হয়।

    এ ধরনের পরিস্থিতিতে সাক্ষ্য সংগ্রহ, মামলা এগিয়ে নেওয়া কিংবা আদালতে কার্যকরভাবে উপস্থাপন করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে অপরাধের সঠিক বিচার নিশ্চিত করা যায় না। অনেক ক্ষেত্রে ভয়ভীতি, প্রভাব বা স্বার্থের কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সাক্ষীরাও নিরপেক্ষ অবস্থান নিতে পারেন না। এর ফল হিসেবে অপরাধী শাস্তি এড়িয়ে যায় এবং সমাজে একটি ভুল বার্তা যায়—প্রভাবশালী হলে আইনের ঊর্ধ্বে থাকা সম্ভব। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনের প্রতি আস্থা কমে যায় এবং ন্যায়বিচারের ধারণা দুর্বল হয়ে পড়ে।

    দীর্ঘসূত্রতা:
    বিচারহীনতার সংস্কৃতির আরেকটি বড় কারণ হলো বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা। মামলা নিষ্পত্তি হতে অনেক সময় বছর থেকে দশক পর্যন্ত লেগে যায়। ফলে ভুক্তভোগীরা দ্রুত ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা হারিয়ে ফেলে।

    এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে সাক্ষ্য-প্রমাণ দুর্বল হয়ে পড়ে, অনেক সাক্ষী অনুপস্থিত হয়ে যায় বা সাক্ষ্য দিতে অনাগ্রহী হয়ে পড়ে। এতে মামলার গতি আরও ধীর হয় এবং সত্য উদঘাটন কঠিন হয়ে পড়ে। এ ছাড়া মামলার অতিরিক্ত চাপ, প্রশাসনিক জটিলতা এবং পর্যাপ্ত জনবল ও অবকাঠামোর ঘাটতিও বিচার প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করে। অনেক সময় একই মামলায় বারবার তারিখ পড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের আর্থিক ও মানসিক চাপও বেড়ে যায়।

    ফলে বিচার পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ে এবং অপরাধীরা অনেক ক্ষেত্রে সময়ের সুবিধা নিয়ে শাস্তি এড়িয়ে যায়। এতে সমাজে বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা কমে যায় এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হয়।

    আইনের শাসনের প্রতি অবমূল্যায়ন:
    আইনের শাসনের প্রতি অবমূল্যায়ন বিচারহীনতার সংস্কৃতির একটি গুরুতর দিক। যখন সমাজে আইনকে সমান ও সর্বজনীন হিসেবে দেখা হয় না, তখন এর প্রতি শ্রদ্ধা ও আস্থা কমে যায়। এ অবস্থায় অনেকেই মনে করে যে আইন সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর নয়, বরং ক্ষমতা, প্রভাব বা পরিচয়ের ভিত্তিতে এর প্রয়োগ পরিবর্তিত হয়। ফলে আইনের প্রতি ভয় ও সম্মান দুটোই দুর্বল হয়ে পড়ে।

    এর প্রভাবে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা হারায় এবং অনেক ক্ষেত্রে আইনকে পাশ কাটিয়ে চলার প্রবণতা তৈরি হয়। এতে সামাজিক শৃঙ্খলা নষ্ট হয় এবং বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত আইনের শাসনের প্রতি এই অবমূল্যায়ন পুরো রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতা তৈরি করে, যা বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে আরও গভীর ও বিস্তৃত করে তোলে।

    অপরাধ বৃদ্ধি:
    বিচারহীনতার সংস্কৃতি সমাজে অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। যখন মানুষ দেখে যে অপরাধ করেও অনেক সময় শাস্তি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব, তখন আইনের প্রতি ভয় ও জবাবদিহিতার ধারণা দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী আরও সাহসের সঙ্গে অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।

    দ্রুত ও নিশ্চিত শাস্তির অভাব অপরাধীদের জন্য একটি ধরনের নিরাপত্তাবোধ তৈরি করে, যা অপরাধকে নিরুৎসাহিত না করে বরং উৎসাহিত করে। এতে ছোটখাটো অপরাধ থেকে শুরু করে বড় ধরনের অপরাধও ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। এভাবে বিচারহীনতার পরিবেশ সমাজে অপরাধকে স্বাভাবিক করে তোলে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দুর্বল হয়ে পড়ে।

    আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া:
    বিচারহীনতার সংস্কৃতি সমাজে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করে, যেখানে মানুষ বিচার ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলে। যখন কেউ মনে করে যে আইনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পাওয়া যাবে না, তখন অনেকেই নিজেরাই ‘বিচার’ করার চেষ্টা করে।

    এর ফলে অভিযুক্ত ব্যক্তির ওপর হামলা, গণপিটুনি বা তাৎক্ষণিক শাস্তি দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। এসব ঘটনা আবেগ ও ক্ষোভের বশে ঘটে এবং এতে আইনগত প্রক্রিয়ার কোনো সুযোগ থাকে না। অনেক সময় নির্দোষ মানুষও এর শিকার হয়। এ ধরনের প্রবণতা সমাজে বিশৃঙ্খলা বাড়ায় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তোলে। একই সঙ্গে এটি মানবিক মূল্যবোধ ও ন্যায়বিচারের মৌলিক ধারণাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যা দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ওপর আস্থাকে দুর্বল করে দেয়।

    মানবাধিকার লঙ্ঘন:
    বিচারহীনতার সংস্কৃতি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রকে আরও বিস্তৃত করে তোলে। যখন অপরাধের সুষ্ঠু বিচার হয় না, তখন নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে মানুষ নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বসবাস করতে বাধ্য হয়।

    এ পরিস্থিতিতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ভিন্নমত প্রকাশের কারণে হয়রানি, ভয়ভীতি বা দমন-পীড়নের শিকার হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। একই সঙ্গে গুম, খুন ও সহিংসতার মতো গুরুতর ঘটনার ক্ষেত্রেও অনেক সময় কার্যকর বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা দায়মুক্ত থেকে যায়। দুর্নীতি দমন ও জবাবদিহির অভাবের কারণে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক পর্যায়ে ক্ষমতার অপব্যবহার বাড়ে। এতে সাধারণ মানুষের অধিকার সুরক্ষিত না থেকে বরং দুর্বল হয়ে পড়ে এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি ক্রমশ সংকটাপন্ন হয়ে ওঠে।

    এই অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায়: বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান ও সমাজ—তিন স্তরেই কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

    আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করা:
    বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো আইনের নিরপেক্ষ ও সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করা। আইন যেন ব্যক্তি, পদ বা প্রভাবের ভিত্তিতে ভিন্নভাবে প্রয়োগ না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

    বিচার বিভাগ ও তদন্ত সংস্থাকে রাজনৈতিক ও প্রভাবমুক্ত পরিবেশে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। কোনো অপরাধের তদন্ত বা বিচার প্রক্রিয়ায় ক্ষমতাবান ব্যক্তির চাপ বা হস্তক্ষেপ থাকলে তা ন্যায়বিচারকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই এসব প্রতিষ্ঠানকে কার্যকরভাবে স্বাধীন রাখা জরুরি। একই সঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা বাড়াতে হবে, যাতে তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে। যখন সবাই সমানভাবে আইনের আওতায় আসে, তখন সমাজে ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা বাড়ে এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি দুর্বল হয়ে পড়ে।

    বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কমানো:
    বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করতে বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কমানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মামলা নিষ্পত্তিতে অযথা দেরি হলে ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং অপরাধীরা অনেক ক্ষেত্রে সুবিধা পেয়ে যায়।

    এ সমস্যা সমাধানে মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আদালতের কার্যক্রম আরও কার্যকর ও পরিকল্পিত করা প্রয়োজন। বিচারকের সংখ্যা বাড়ানো, প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন বিচার ব্যবস্থাকে গতিশীল করতে সাহায্য করতে পারে।

    প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মামলার তথ্য ব্যবস্থাপনা ডিজিটাল হলে প্রক্রিয়া সহজ হয় এবং সময় কম লাগে। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় স্থগিতাদেশ ও বিলম্ব কমাতে হলে প্রশাসনিক নিয়ম-কানুনও আরও সুসংগঠিত করা দরকার। এভাবে বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত ও স্বচ্ছ করা গেলে মানুষের আস্থা বাড়বে এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি অনেকটাই হ্রাস পাবে।

    গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের ভূমিকা:
    বিচারহীনতার সংস্কৃতি মোকাবিলায় গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তারা সমাজে ঘটে যাওয়া অন্যায়, অপরাধ ও অনিয়মের বিষয়গুলো তুলে ধরে জনসচেতনতা তৈরি করে।

    গণমাধ্যম নিরপেক্ষভাবে তথ্য প্রকাশ করলে তা তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার ওপর ইতিবাচক চাপ সৃষ্টি করে। এতে অপরাধ আড়ালে থেকে যাওয়ার সুযোগ কমে যায় এবং জবাবদিহির পরিবেশ তৈরি হয়। একই সঙ্গে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়গুলো জনসমক্ষে আসায় অপরাধীরা অনেক সময় দায়িত্বশীল আচরণে বাধ্য হয়।

    নাগরিক সমাজও প্রতিবাদ, সচেতনতা কর্মসূচি ও মতামত প্রকাশের মাধ্যমে ন্যায়বিচারের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিতে পারে। তারা আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার রক্ষায় সমাজকে সংগঠিত করতে সহায়তা করে। এভাবে গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজ একসঙ্গে কাজ করলে বিচার ব্যবস্থার ওপর জনচাপ বৃদ্ধি পায়, স্বচ্ছতা বাড়ে এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি দুর্বল হয়ে পড়ে।

    জবাবদিহি ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা:
    বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে উত্তরণের জন্য জবাবদিহি ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জরুরি। রাষ্ট্রীয় প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি যেন তাদের কাজের জন্য দায়বদ্ধ থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

    আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সবাই সমানভাবে আইনের আওতায় আসে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন ক্ষমতা বা প্রভাবের কারণে বিশেষ সুবিধা না পায়, সেটি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এতে ন্যায়বিচারের ভিত্তি শক্ত হয় এবং সমাজে আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়।

    একই সঙ্গে প্রশাসনিক ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যক্রম স্বচ্ছ হতে হবে। দুর্নীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহার হলে তার দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। নিয়মিত নজরদারি ও জবাবদিহির ব্যবস্থা থাকলে দায়িত্ব পালনে শৃঙ্খলা বাড়ে। এভাবে আইনের শাসন কার্যকরভাবে প্রতিষ্ঠা করা গেলে বিচারহীনতার সংস্কৃতি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সমাজে ন্যায়বিচার ও সমতার পরিবেশ গড়ে ওঠে।

    সব প্রশ্নের শেষে প্রশ্নটি একটাই থেকে যায়—এই সমাজে কি সত্যিই ন্যায়বিচার সবার জন্য সমান? নাকি কোথাও না কোথাও অপরাধের ভার নয়, প্রভাবের ওজনেই নির্ধারিত হয় শাস্তি আর দায়মুক্তি?

    যে রাষ্ট্রে একটি শিশুর রক্তের দাম সময়ের সাথে সাথে স্মৃতিতে হারিয়ে যায়, যে সমাজে বিচার চাওয়ার বদলে বিচার নিয়ে সংশয় জন্ম নেয়—সেই সমাজ কি শুধু অপরাধে নয়, নীরবতাতেও ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ছে? আর যদি সত্যিই তাই হয়, তবে প্রশ্ন আরও তীব্র হয়ে ওঠে—পরের শিকার কে? এবং এবারও কি আমরা শুধু দেখব, লিখব, ভুলে যাব?

    সিভি/এম

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    বিশ্লেষণ

    প্রমাণের ভাণ্ডার: ইসরায়েলের সবচেয়ে অন্ধকার কৌশল উন্মোচিত

    জুন 12, 2026
    মতামত

    গাজা কোনো ব্যতিক্রম নয়, কয়েক দশক আগেই এই গণহত্যার পরিকল্পনা করেছিল ইসরায়েল

    জুন 11, 2026
    মতামত

    আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা চুক্তি কি ইসরায়েলের সহিংস সম্প্রসারণবাদকে চূড়ান্ত আঘাত করতে পারবে?

    জুন 11, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ডিজিটাল ঋণ সুবিধা, জামানত ছাড়াই মিলবে টাকা

    ব্যাংক জানুয়ারি 10, 2026

    যমুনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হলেন বেলাল হোসেন

    ব্যাংক অক্টোবর 30, 2025

    এক দিনেই ৩–৪ লাখ টাকা ঋণ পাবেন উদ্যোক্তারা

    ব্যাংক ডিসেম্বর 17, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.