ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা ইমরান শেখের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। ভিডিওতে তাঁকে এক সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে নগদ টাকা গ্রহণ করতে দেখা যায়।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম তাঁকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেন। একই সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
রোববার দুপুরের দিকে ভিডিওটি বিভিন্ন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে ভিডিওটি ঠিক কবে ধারণ করা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, এটি প্রায় এক বছর আগের ঘটনা হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সময়কাল নিশ্চিত করা হয়নি।
প্রায় ৫৮ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, সাতৈর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের একটি কক্ষে বসে রয়েছেন উপসহকারী কর্মকর্তা ইমরান শেখ। সেখানে উপস্থিত এক ব্যক্তির সঙ্গে জমিসংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে কথা বলতে শোনা যায় তাঁকে। তিনি ওই ব্যক্তিকে মূল দলিল পরে জমা দিতে এবং ফটোকপি তাঁর কাছে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
ভিডিওর পরবর্তী অংশে দেখা যায়, সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে তিনি গুনে গুনে ৫০০ টাকার ১০টি নোট গ্রহণ করছেন। অর্থাৎ মোট ৫ হাজার টাকা তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়। টাকা নেওয়ার সময় তিনি আবেদন প্রক্রিয়া, মূল দলিল জমা দেওয়া এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন কথা বলেন।
ভিডিওতে আরও শোনা যায়, তিনি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সম্পর্কে মন্তব্য করে বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা দ্রুত কাজ করেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি নিজের ও ওই কর্মকর্তার বিসিএস ব্যাচের প্রসঙ্গ টেনে ব্যক্তিগত মন্তব্যও করেন। পরে টাকা নিজের পকেটে রেখে অন্য এক সেবাগ্রহীতার সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর এ বিষয়ে নিজের ব্যাখ্যা দিয়েছেন ইমরান শেখ। তাঁর দাবি, ভিডিওতে যে অর্থ গ্রহণ করতে দেখা গেছে, সেটি কোনো ঘুষ নয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বিভিন্ন সময় পরিচিত মানুষকে ব্যক্তিগতভাবে টাকা ধার দেন এবং পরে তারা সেই টাকা ফেরত দেন। ভিডিওতে যে টাকা নেওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে, সেটি এমনই একটি ধার ফেরতের ঘটনা।
তবে যিনি ওই টাকা ফেরত দিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে, তাঁর পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হননি ইমরান শেখ। ফলে তাঁর বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শিব্বির আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সরকারি মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া সত্ত্বেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরপরই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইমরান শেখকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রকিবুল হাসান। তিনি জানান, অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান চলছে। তদন্তে যা পাওয়া যাবে, সেই অনুযায়ী সরকারি বিধি অনুসরণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এলে তা জনমনে আস্থার সংকট তৈরি করে। তাই এমন অভিযোগের ক্ষেত্রে দ্রুত তদন্ত, নিরপেক্ষ যাচাই এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করাকে প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হয়। ফরিদপুরের এই ঘটনাতেও প্রশাসন প্রাথমিকভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এখন তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে এবং পরবর্তী সময়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেদিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্টদের।

