মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের নাম ব্যবহার করে প্রতারক চক্র এখন নতুন কৌশলে সাধারণ মানুষের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। কোথাও সমস্যার কথা বলে ওটিপি নম্বর সংগ্রহ করা হচ্ছে, আবার কোথাও পিন নম্বর নিয়ে ব্যাংক ও মোবাইল অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ লুট করা হচ্ছে। একই সঙ্গে হ্যাকার গোষ্ঠী ফোনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল করছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এসব প্রতারক বিভিন্ন অজুহাতে ওটিপি সংগ্রহ করে বিকাশ ও নগদের মতো অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা সরিয়ে নিচ্ছে। আরেকটি চক্র ব্যাংক গ্রাহকদের সমস্যার কথা বলে পিন ও ওটিপি হাতিয়ে নিচ্ছে। এরপর মোবাইল হ্যাক করে সব ডাটা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ভয়ভীতি ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে।
এদিকে করোনাকালীন সময় ও পরবর্তী অর্থনৈতিক সংকটকে সুযোগ করে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন। ‘মাত্র ৫ মিনিটে জামানত ছাড়া ঋণ’, ‘কোনো কাগজপত্র লাগবে না’, ‘জাতীয় পরিচয়পত্রেই টাকা’—এ ধরনের প্রলোভনমূলক বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষকে ফাঁদে ফেলা হচ্ছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের পাশাপাশি শিক্ষিত ব্যক্তিরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
তদন্তে উঠে এসেছে, এসব অ্যাপভিত্তিক ও ডিজিটাল ঋণের আড়ালে গড়ে উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। তারা উচ্চ সুদ, সুদের ওপর সুদ এবং ব্যক্তিগত ছবি ও তথ্য ব্যবহার করে ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করছে। এতে অনেক ভুক্তভোগী মানসিক চাপে পড়ে আত্মহননের পথও বেছে নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের সাইবার পুলিশ কেন্দ্রের অধীন সাইবার মনিটরিং সেল ইতোমধ্যে কয়েকটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে। তারা জানিয়েছে, কিছু ওয়েবসাইট ও অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকদের সংবেদনশীল তথ্য অবৈধভাবে সংগ্রহ করে বিক্রি করা হচ্ছে। জাতীয় তথ্যভান্ডার থেকেও গোপনীয় তথ্য চুরির অভিযোগ রয়েছে। তদন্ত সূত্র আরও জানায়, এই চক্রের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং অর্থপাচারের গোপন রুট নিয়েও অনুসন্ধান চলছে। একই সঙ্গে রয়েছে আইনগত দুর্বলতা এবং নজরদারির ঘাটতির বিষয়ও।
এমনই একটি চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের এক শিক্ষার্থী মো. আরমান হোসেন (২২) গ্রেপ্তার হয়েছেন। তিনি অনলাইনে অ্যাপ ও ওয়েবসাইট তৈরি করে অবৈধভাবে নাগরিক তথ্য সংগ্রহ ও বিক্রি করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গত ৫ মে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে চক্রটির আরও দুই সদস্যকে আটক করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করে সংশ্লিষ্ট সংস্থা।

