Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice রবি, জুন 14, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » অ্যাপভিত্তিক ঋণের নামে ভয়ংকর সাইবার প্রতারণা
    অপরাধ

    অ্যাপভিত্তিক ঋণের নামে ভয়ংকর সাইবার প্রতারণা

    নিউজ ডেস্কজুন 3, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের নাম ব্যবহার করে প্রতারক চক্র এখন নতুন কৌশলে সাধারণ মানুষের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। কোথাও সমস্যার কথা বলে ওটিপি নম্বর সংগ্রহ করা হচ্ছে, আবার কোথাও পিন নম্বর নিয়ে ব্যাংক ও মোবাইল অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ লুট করা হচ্ছে। একই সঙ্গে হ্যাকার গোষ্ঠী ফোনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল করছে।

    তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এসব প্রতারক বিভিন্ন অজুহাতে ওটিপি সংগ্রহ করে বিকাশ ও নগদের মতো অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা সরিয়ে নিচ্ছে। আরেকটি চক্র ব্যাংক গ্রাহকদের সমস্যার কথা বলে পিন ও ওটিপি হাতিয়ে নিচ্ছে। এরপর মোবাইল হ্যাক করে সব ডাটা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ভয়ভীতি ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে।

    এদিকে করোনাকালীন সময় ও পরবর্তী অর্থনৈতিক সংকটকে সুযোগ করে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন। ‘মাত্র ৫ মিনিটে জামানত ছাড়া ঋণ’, ‘কোনো কাগজপত্র লাগবে না’, ‘জাতীয় পরিচয়পত্রেই টাকা’—এ ধরনের প্রলোভনমূলক বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষকে ফাঁদে ফেলা হচ্ছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের পাশাপাশি শিক্ষিত ব্যক্তিরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

    তদন্তে উঠে এসেছে, এসব অ্যাপভিত্তিক ও ডিজিটাল ঋণের আড়ালে গড়ে উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। তারা উচ্চ সুদ, সুদের ওপর সুদ এবং ব্যক্তিগত ছবি ও তথ্য ব্যবহার করে ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করছে। এতে অনেক ভুক্তভোগী মানসিক চাপে পড়ে আত্মহননের পথও বেছে নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

    পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের সাইবার পুলিশ কেন্দ্রের অধীন সাইবার মনিটরিং সেল ইতোমধ্যে কয়েকটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে। তারা জানিয়েছে, কিছু ওয়েবসাইট ও অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকদের সংবেদনশীল তথ্য অবৈধভাবে সংগ্রহ করে বিক্রি করা হচ্ছে। জাতীয় তথ্যভান্ডার থেকেও গোপনীয় তথ্য চুরির অভিযোগ রয়েছে। তদন্ত সূত্র আরও জানায়, এই চক্রের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং অর্থপাচারের গোপন রুট নিয়েও অনুসন্ধান চলছে। একই সঙ্গে রয়েছে আইনগত দুর্বলতা এবং নজরদারির ঘাটতির বিষয়ও।

    এমনই একটি চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের এক শিক্ষার্থী মো. আরমান হোসেন (২২) গ্রেপ্তার হয়েছেন। তিনি অনলাইনে অ্যাপ ও ওয়েবসাইট তৈরি করে অবৈধভাবে নাগরিক তথ্য সংগ্রহ ও বিক্রি করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গত ৫ মে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে চক্রটির আরও দুই সদস্যকে আটক করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করে সংশ্লিষ্ট সংস্থা।

    সিআইডি সূত্র জানায়, গত বছরের ৯ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টায় সিআইডির সদর দফতরের সাইবার পুলিশ সেন্টারের অধীন সাইবার মনিটরিং সেলের নিয়মিত অনলাইন নজরদারিতে ‘সিয়াম হাওলাদার’ নামের একটি ফেসবুক আইডি তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ওই আইডি থেকে দেশের নাগরিকদের অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছিল।

    বিজ্ঞাপনে জাতীয় পরিচয়পত্রের পূর্ণাঙ্গ তথ্য, এসএমএস তালিকা, বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের অ্যাকাউন্ট তথ্য, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য এবং মামলার তথ্য অর্থের বিনিময়ে বিক্রির কথা বলা হয়। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে সিআইডি অনুসন্ধান শুরু করে।

    তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় যাচাই-বাছাই শেষে মাত্র চার দিনের মাথায় লক্ষ্মীপুরের কমলনগর থানা এলাকা থেকে মো. সিয়াম হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন, সিমকার্ড, হার্ডডিস্কসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়। জব্দ করা স্মার্টফোনে ‘সব এখানে’ নামে একটি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ পাওয়া যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সিয়াম জানান, ওই অ্যাপ এবং সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তিনি নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

    তার গ্রেপ্তারের পর গত বছরের ১৪ অক্টোবর সিআইডির উপপরিদর্শক মেহেদী হাসান পল্টন মডেল থানায় মামলা করেন। এরপর ২৮ অক্টোবর খুলনার কয়রা থেকে চক্রের আরেক সদস্য মো. আল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে জানান, তিনি মূলত বিপণন কার্যক্রম দেখতেন, তবে পুরো অ্যাপ ও সিস্টেমটি তৈরি করেছেন একজন দক্ষ প্রোগ্রামার।

    পরে চলতি বছরের ৫ মে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের একটি দল ক্যান্টনমেন্ট থানার মানিকদী এলাকা থেকে অ্যাপ ও ওয়েবসাইট ডেভেলপার মো. আরমান হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন, ছয়টি সিমকার্ড এবং একটি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়। এর মধ্যে তিনটি ছিল বিকাশ মার্চেন্ট সিম।

    যেভাবে গড়ে ওঠে প্রতারণার জাল:

    অনুসন্ধানে দেখা গেছে, চক্রগুলো ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবে চটকদার ভিডিও ও ব্যানার বিজ্ঞাপন ব্যবহার করে। সেখানে দ্রুত ঋণ বা সহজ অর্থপ্রাপ্তির লোভ দেখানো হয়।

    এছাড়া গুগল প্লে স্টোরে ‘ক্যাশম্যান’, ‘টাকা লোন’, ‘র‌্যাপিড ক্যাশ’, ‘পকেট লোন’ ও ‘হ্যান্ডি ক্যাশ’-এর মতো নামে একাধিক অ্যাপ ছড়িয়ে রাখা হয়। জরুরি অর্থের প্রয়োজনে ব্যবহারকারীরা এসব অ্যাপ ইনস্টল করলেই অনেক সময় নিজের অজান্তে ফোনের নিয়ন্ত্রণ হারান।

    অ্যাপ চালু করার সময় ব্যবহারকারীর কন্টাক্ট লিস্ট, গ্যালারির ছবি, ভিডিও এবং মেসেজে প্রবেশের অনুমতি বাধ্যতামূলকভাবে নেওয়া হয়। অধিকাংশ ব্যবহারকারী শর্তাবলি না পড়েই অনুমতি দিয়ে দেন, যার ফলে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য চলে যায় অপরাধীদের হাতে।

    ঋণের নামে অস্বাভাবিক সুদের ফাঁদ:

    তদন্তে আরও উঠে এসেছে, এসব অ্যাপের ঋণ ব্যবস্থা প্রচলিত ব্যাংকিং নিয়মের বাইরে। তিন হাজার টাকার ঋণের ক্ষেত্রে প্রসেসিং ফি কেটে দেওয়া হয়, যার ফলে গ্রাহকের হাতে আসে প্রায় এক হাজার আটশ থেকে দুই হাজার টাকা।

    কিন্তু মাত্র সাত দিনের মধ্যে পুরো তিন হাজার টাকা বা তারও বেশি পরিশোধ করতে বাধ্য করা হয়। এতে এক সপ্তাহেই সুদের হার দাঁড়ায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত, যা বার্ষিক হিসাবে হাজার শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। সাধারণ ব্যাংক বা অনুমোদিত মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস যেখানে নিয়ন্ত্রিত ও যৌক্তিক সুদে ঋণ দেয়, সেখানে এসব অবৈধ অ্যাপ কার্যত চরম শোষণমূলক পদ্ধতি অনুসরণ করছে।

    ভুক্তভোগীর ভয়াবহ অভিজ্ঞতা:

    ডিজিটাল ঋণের এই ফাঁদে পড়ে এক ভুক্তভোগীর জীবনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতাও উঠে এসেছে। রাজধানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী শরিফুল ইসলাম (ছদ্মনাম) মায়ের চিকিৎসার জন্য জরুরি পাঁচ হাজার টাকার প্রয়োজন থেকে একটি অ্যাপের মাধ্যমে ঋণ নেন।

    শরিফুল জানান, ঋণ নেওয়ার পর তিনি হাতে পান মাত্র তিন হাজার ৪০০ টাকা কিন্তু সাত দিনের মধ্যে তাকে পাঁচ হাজার টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়। বেতন পেতে দেরি হওয়ায় তিনি দুই দিনের সময় চাইলেও পরিস্থিতি দ্রুতই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

    তার ভাষায়, ‘এই সময়ের মধ্যেই তারা আমার ফোনের কন্টাক্ট লিস্টের সব নম্বর এবং গ্যালারির ছবি সংগ্রহ করে ফেলে। এরপর আমার আত্মীয়স্বজন, এমনকি অফিসের বসের নম্বরে ফোন করে আমাকে অপমান করা হয়।’ শুধু তাই নয়, শরিফুলের অভিযোগ অনুযায়ী, তার ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে আপত্তিকরভাবে সম্পাদনা করা হয় এবং সেই ছবি তার স্ত্রীর হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হয়। এতে তিনি চরম মানসিক চাপে পড়েন।

    তিনি আরও বলেন, ‘লোকলজ্জার ভয়ে আমি চাকরি ছেড়ে গ্রামে চলে আসতে বাধ্য হয়েছি।’ শরিফুলের মতো এমন অনেক ভুক্তভোগী এখনো একই ধরনের ডিজিটাল প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইলের চাপে নিঃশব্দে কষ্ট ভোগ করছেন।

    মানসিক নির্যাতন ও ব্ল্যাকমেইলের ভয়ঙ্কর কৌশল:

    ডিজিটাল লোন প্রতারণার সবচেয়ে বিপজ্জনক দিকটি হলো এর অর্থ আদায়ের কৌশল, যা ভুক্তভোগীর মানসিক ও সামাজিক অবস্থাকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়। ঋণ পরিশোধে মাত্র এক দিন বা কয়েক ঘণ্টা দেরি হলেই শুরু হয় চাপ ও হয়রানি।

    ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে ফোন করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। এরপর টাকা না পেলে গ্রাহকের অজান্তে তার ফোনের কন্টাক্ট লিস্ট থেকে সংগ্রহ করা নম্বরে যোগাযোগ শুরু করে চক্রটি।

    এর মাধ্যমে আত্মীয়স্বজন, বন্ধু, সহকর্মী এমনকি অফিসের ঊর্ধ্বতনদের কাছেও গ্রাহককে নিয়ে অপমানজনক ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হয়। অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহককে ‘চোর’, ‘প্রতারক’ বা ‘অসৎ’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

    সবচেয়ে ভয়ঙ্কর রূপ নেয় ব্যক্তিগত ছবি নিয়ে। গ্যালারি থেকে চুরি করা সাধারণ ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিকৃত করা হয় এবং আপত্তিকর বা নগ্ন ছবিতে রূপান্তর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর সেই ছবি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হয়।

    ভুক্তভোগীদের জানানো হয়, টাকা না দিলে এসব ছবি পরিবারের সদস্য, বাবা-মা, সন্তান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বন্ধুদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। সামাজিক মর্যাদা হারানোর আশঙ্কায় অনেকেই শেষ সম্বল বিক্রি করে বা নতুন করে ঋণ নিয়ে এই চক্রকে টাকা দিতে বাধ্য হন। তবে টাকা দেওয়ার পরও পরিস্থিতি থেমে যায় না বলে অভিযোগ রয়েছে। বরং নতুন করে আরও বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করে এই সাইবার অপরাধীরা, ফলে ভুক্তভোগীরা এক চক্রাকার নির্যাতনের মধ্যে আটকে পড়েন।

    নেপথ্যে আন্তর্জাতিক চক্র ও অর্থপাচারের গোপন রুট:

    গোয়েন্দা পুলিশ ও সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের একাধিক অভিযানে অ্যাপভিত্তিক লোন সিন্ডিকেট নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই চক্রের মূল হোতারা চীন, নাইজেরিয়া এবং পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দেশের নাগরিক।

    তারা বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে আইটি খাত ও কল সেন্টারের তরুণ-তরুণীদের উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে নিয়োগ দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব কর্মীকে ব্যবহার করা হচ্ছে প্রতারণামূলক কল সেন্টার ও অনলাইন অপারেশন চালাতে।

    অর্থপাচারের ক্ষেত্রে চক্রটি অত্যন্ত জটিল ও বহুমাত্রিক প্রক্রিয়া ব্যবহার করছে বলে জানা গেছে। দেশের ভেতরে লেনদেনের জন্য প্রান্তিক মানুষের নামে অর্থের বিনিময়ে খোলা হয় বেনামী মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাকাউন্ট—যার মধ্যে বিকাশ, নগদ ও রকেট অ্যাকাউন্টও রয়েছে।

    এই অ্যাকাউন্টগুলোতে জমা হওয়া অর্থ প্রথমে বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত করা হয়। এরপর স্থানীয় এজেন্টদের মাধ্যমে সেই টাকা ডলারে রূপান্তর করে ক্রিপ্টোকারেন্সি, বিশেষ করে ইউএসডিটি বা পিয়ার-টু-পিয়ার ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ডিজিটাল ওয়ালেটে পাঠানো হয়। কিছু ক্ষেত্রে সীমান্তবর্তী হুন্ডি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেও অর্থ প্রতিবেশী দেশগুলোতে পাচার করা হচ্ছে বলে তদন্তে জানা গেছে। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অর্থ এভাবে অবৈধভাবে বিদেশে চলে যাওয়ায় দেশের অর্থনীতি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছে। পাশাপাশি নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য ও জাতীয় ডাটাও বিদেশি সার্ভারে চলে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

    আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান ও অবস্থান:

    অ্যাপভিত্তিক লোন ও সাইবার ব্ল্যাকমেইল চক্রের বিরুদ্ধে সম্প্রতি দেশজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং অ্যান্টি-টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ) যৌথভাবে রাজধানীর উত্তরা, মিরপুর ও ধানমন্ডি এলাকায় একাধিক অভিযান চালিয়েছে।

    অভিযানে বেশ কয়েকটি অবৈধ ডাটা সেন্টার ও কল সেন্টার থেকে চক্রের পরিচালক, টিম লিডার এবং আইটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিসহ বিপুলসংখ্যক দেশীয় এজেন্টকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ সময় ব্ল্যাকমেইলের কাজে ব্যবহৃত ল্যাপটপ, শত শত সিমকার্ড এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের হিসাব জব্দ করা হয়।

    সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, এই চক্রগুলো সম্পূর্ণ অবৈধভাবে লাইসেন্স ছাড়া অ্যাপের মাধ্যমে উচ্চ সুদের ঋণ কার্যক্রম ও ব্ল্যাকমেইলিং চালিয়ে আসছিল। তিনি জানান, ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন মাস্টারমাইন্ড ও দেশীয় সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মূল হোতারা দেশের বাইরে অবস্থান করায় তাদের ধরতে ইন্টারপোলের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সাধারণ ব্যবহারকারীদের উচিত অপরিচিত কোনো অ্যাপে কন্টাক্ট লিস্ট, গ্যালারি বা ব্যক্তিগত তথ্যের অ্যাক্সেস না দেওয়া।

    এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকও জানিয়েছে, লাইসেন্স ছাড়া মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এটি আর্থিক অপরাধের শামিল।

    সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. জসীম উদ্দিন খান বলেন, অনলাইন জুয়া ও সংশ্লিষ্ট অবৈধ আর্থিক কার্যক্রম বন্ধে নিয়মিত সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম চলছে। অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন এবং চক্রের অজ্ঞাত সদস্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

    সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট শনাক্ত ও ডাউন করার পাশাপাশি বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে (বিএফআইইউ) ৯ শতাধিক মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস হিসাব এবং অর্ধশতাধিক ব্যাংক হিসাব সংক্রান্ত তথ্য পাঠানো হয়েছে।

    এছাড়া পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে সিআইডি, বিএফআইইউ এবং আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। এর আগে ‘এমটিএফই’ পনজি স্কিমের মাধ্যমে পাচার হওয়া প্রায় ৪৪ কোটি টাকা দেশে ফিরিয়ে আনার নজির রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

    বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিটিআরসি মাঝে মাঝে কিছু অবৈধ অ্যাপ বন্ধ করলেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। একটি অ্যাপ বন্ধ হলে অল্প সময়ের মধ্যেই নতুন নামে আরেকটি অ্যাপ চালু হয়ে যাচ্ছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে সাইবার নিরাপত্তা আইন থাকলেও অ্যাপভিত্তিক প্রতারণা এবং লাইসেন্সবিহীন ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে নির্দিষ্ট ও সমন্বিত কোনো কাঠামো নেই। বিটিআরসি, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ঘাটতিকে কাজে লাগিয়ে এই চক্রগুলো কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    অপরাধ

    চাটখিলে বেদে পল্লীর ঝুপড়িতে এসি-সিসি ক্যামেরা, মাদকের বিলাসী আস্তানা

    জুন 14, 2026
    অপরাধ

    ধর্ষণ ও ভ্রুণ নষ্টের মামলায় গ্রেপ্তার শিবির নেতা, বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত

    জুন 13, 2026
    অপরাধ

    এআই ট্রাফিক মামলার নামে নতুন প্রতারণা

    জুন 13, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ডিজিটাল ঋণ সুবিধা, জামানত ছাড়াই মিলবে টাকা

    ব্যাংক জানুয়ারি 10, 2026

    যমুনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হলেন বেলাল হোসেন

    ব্যাংক অক্টোবর 30, 2025

    এক দিনেই ৩–৪ লাখ টাকা ঋণ পাবেন উদ্যোক্তারা

    ব্যাংক ডিসেম্বর 17, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.