Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice শুক্র, জুলাই 3, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ—অনিশ্চয়তায় ১৪ হাজার প্রার্থী
    অপরাধ

    প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ—অনিশ্চয়তায় ১৪ হাজার প্রার্থী

    নিউজ ডেস্কজুন 5, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় পরীক্ষার ফল প্রকাশের প্রায় দেড় মাস পর এবার জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১৪ হাজারের বেশি প্রার্থী এখন মৌখিক পরীক্ষার অপেক্ষায় রয়েছেন।

    শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ইঙ্গিত দিয়েছেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগ প্রমাণিত হলে পুরো পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় আয়োজন করা হতে পারে। ফলে নিয়োগের চূড়ান্ত ধাপে এসে প্রার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। প্রার্থীদের প্রশ্ন, ফল প্রকাশের এতদিন পর কেন অনিয়মের অভিযোগ সামনে এলো এবং এখন কেন পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলো।

    অন্যদিকে, নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনাকারী বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ এখনো এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট অবস্থান জানায়নি। ফল প্রকাশের পর মৌখিক পরীক্ষার সময়সূচি নিয়েও কোনো ঘোষণা আসেনি। সংস্থাটিতে নিয়মিত চেয়ারম্যান না থাকায় ভাইভা কবে হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্তও ঝুলে আছে। এছাড়া কী ধরনের অনিয়ম বা জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে, অভিযোগের ভিত্তি কী এবং তদন্ত কোন পর্যায়ে রয়েছে—এসব প্রশ্নেরও পরিষ্কার জবাব মিলছে না। এতে করে প্রার্থীদের মধ্যে দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তা ক্রমেই বাড়ছে।

    স্বাধীনতার পর দীর্ঘ পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগ হতো পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে। এতে প্রায়ই স্বজনপ্রীতি, আর্থিক লেনদেন এবং প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগের অভিযোগ উঠত। এসব সমস্যা দূর করে স্বচ্ছতা আনতেই প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয়ভাবে পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার এবং নিয়োগ প্রক্রিয়াকে শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে আনা হয়।

    জানা গেছে, বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগে কেন্দ্রীয় পরীক্ষা চালুর উদ্যোগটি ছিল শিক্ষা খাতে বড় একটি নীতিগত পরিবর্তন। দীর্ঘদিন ধরে এসব পদে নিয়োগ পরিচালনা কমিটির হাতে থাকায় নানা অনিয়ম ও বিতর্ক তৈরি হতো। ফলে এক ধরনের দ্বৈত কাঠামো তৈরি হয়, যা জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

    এ পরিস্থিতিতে প্রথমবারের মতো প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগকে জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা ছিল, এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব নির্বাচনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে এবং দীর্ঘদিনের বিতর্কিত নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।

    প্রাথমিক বিজ্ঞপ্তিতে ন্যূনতম ১৫ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা চাওয়া হলেও পরে নীতিমালায় সংশোধন এনে তা ১৮ বছর বাধ্যতামূলক করা হয়। এতে প্রথম বিজ্ঞপ্তি বাতিল করা হয়। এরপর ২৬ মার্চের নতুন বিজ্ঞপ্তিতে ১২ হাজার ৯৫১টি শূন্য পদের বিপরীতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৪৮ হাজার ১৪৬ জন অংশ নেন এবং ১৪ হাজার ৯৪২ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হন।

    এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয় ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপার ও সহকারী সুপারসহ এসব পদে নিয়োগ এনটিআরসিএর মাধ্যমে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

    পরে চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি এসব পদে নিয়োগের জন্য প্রথমবারের মতো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এনটিআরসিএ। ওই বিজ্ঞপ্তিতে ১৩ হাজার ৫৯৯টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন আহ্বান করা হয়। সে সময় প্রধান শিক্ষক পদে আবেদনের জন্য ন্যূনতম ১৫ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

    প্রথম বিজ্ঞপ্তির পর গত ১০ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালায় বড় ধরনের সংশোধন আনে। নতুন পরিপত্র অনুযায়ী স্কুল ও কলেজের শীর্ষ পদ— অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে আবেদনের জন্য ন্যূনতম ১৮ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক করা হয়।

    এই পরিবর্তিত শর্তের কারণে আগের বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করা অনেক প্রার্থী অযোগ্য হয়ে পড়েন। ফলে জানুয়ারির বিজ্ঞপ্তি বাতিল করতে বাধ্য হয় এনটিআরসিএ। পরে সংশোধিত যোগ্যতার ভিত্তিতে ২৫ মার্চ ‘৮ম এনটিআরসিএ নিয়োগ পরীক্ষা–২০২৬’-এর নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে শূন্য পদের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয় ১২ হাজার ৯৫১টি। ২৮ মার্চ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত নতুন করে আবেদন গ্রহণ করা হয় এবং আগের বিজ্ঞপ্তিতে অযোগ্য হয়ে পড়া প্রার্থীদের আবেদন ফি ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়।

    এনটিআরসিএর তথ্য অনুযায়ী, নতুন বিজ্ঞপ্তিতে ১২ হাজার ৯৫১টি পদের বিপরীতে ৫৩ হাজার ৬৯ জন প্রার্থী আবেদন করেন। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানে ৭ হাজার ৯০৮টি, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের ১১২টি এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ৩ হাজার ১৩১টি পদ ছিল। আবেদনকারীদের মধ্যে ৪৭ হাজার ৩৫১ জন পুরুষ এবং ৫ হাজার ৭১৮ জন নারী প্রার্থী ছিলেন।

    সবশেষ ১৮ এপ্রিল ঢাকার নয়টি কেন্দ্রে চারটি গ্রুপে এমসিকিউ পদ্ধতিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এনটিআরসিএ কার্যালয়ে একটি বিশেষ নিয়ন্ত্রণ কক্ষও স্থাপন করা হয়েছিল। তৎকালীন চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম একাধিকবার দাবি করেছিলেন, এটি শুধু একটি নিয়োগ কার্যক্রম নয়, বরং একটি বৃহৎ কর্মযজ্ঞ। তিনি আরও বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের প্রভাব, সুপারিশ বা অনিয়মের সুযোগ থাকবে না। এমনকি জুন মাসের মধ্যেই পুরো কার্যক্রম শেষ করার আশাবাদও ব্যক্ত করেছিলেন তিনি।

    পরীক্ষার চার দিনের মাথায়, ২২ এপ্রিল ফল প্রকাশ করা হয়। এনটিআরসিএর তথ্যমতে, অংশগ্রহণকারী ৪৮ হাজার ১৪৬ জনের মধ্যে ১৪ হাজার ৯৪২ জন উত্তীর্ণ হন। ফল প্রকাশের সময় জানানো হয়েছিল, উত্তীর্ণদের মৌখিক পরীক্ষার সময়সূচি পরে জানানো হবে। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো ভাইভার নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি।

    এমন অবস্থায় শিক্ষা এবং প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে জানান, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে পুরো পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হবে।

    মন্ত্রীর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরপরই দেশজুড়ে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ প্রস্তুতি, আবেদন প্রক্রিয়া, লিখিত পরীক্ষা এবং ফল প্রকাশের ধাপ পার হয়ে তারা এখন মৌখিক পরীক্ষার অপেক্ষায় রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে পুরো পরীক্ষা বাতিলের সম্ভাবনার কথা সামনে আসায় অনেকেই নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

    ফল প্রকাশের দীর্ঘ সময় পরও উত্তীর্ণদের মৌখিক পরীক্ষার কোনো সময়সূচি দেয়নি জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। নতুন চেয়ারম্যান প্রেষণে নিয়োগ পেলেও তিনি এখনো দায়িত্ব গ্রহণ না করায় সংস্থাটিতে প্রশাসনিক শূন্যতা ও সিদ্ধান্তহীনতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক উত্তীর্ণ প্রার্থী বলেন, তারা সরকারি নিয়ম ও যোগ্যতার ভিত্তিতে আবেদন করে কঠোর প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাদের ভাষায়, পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই নানা জটিলতা ছিল। প্রথম বিজ্ঞপ্তি বাতিল, যোগ্যতার শর্ত পরিবর্তন, নতুন করে আবেদন গ্রহণ এবং পরীক্ষার ধাপ—সব মিলিয়ে দীর্ঘ সময় পার করতে হয়েছে। এখন মৌখিক পরীক্ষার অপেক্ষার মধ্যে হঠাৎ পুরো পরীক্ষা বাতিলের আলোচনা তাদের হতাশ করেছে।

    ময়মনসিংহ বিভাগের এক উত্তীর্ণ প্রার্থী বলেন, চাকরির পাশাপাশি প্রস্তুতি নিতে হয়েছে, এমনকি জেলা শহর থেকে ঢাকায় এসে পরীক্ষা দিতে হয়েছে। এতে সময় ও অর্থ—দুই ধরনের চাপই পড়েছে। এখন যদি আবার শুরু থেকে পুরো প্রক্রিয়া করতে হয়, তা অত্যন্ত কষ্টকর হবে।

    আরেকজন প্রার্থী বলেন, ফল প্রকাশের আগে বা পরপরই অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি যাচাই করা যেত। কিন্তু ফল প্রকাশের দেড় মাস পর এসে পুরো পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় তারা বিস্মিত হয়েছেন। এতে শুধু নিয়োগ প্রক্রিয়া নয়, পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতাও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    কিছু প্রার্থী আবার অভিযোগের প্রকৃতি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য না পাওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের প্রশ্ন—কী ধরনের অনিয়মের অভিযোগ, কতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং তদন্ত কোন পর্যায়ে আছে—এসব বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট তথ্য জানানো হয়নি। ফলে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে।

    এদিকে, এ বিষয়ে জানতে শিক্ষামন্ত্রীর জনসংযোগ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো তথ্য দিতে পারেননি। পরে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের হোয়াটসঅ্যাপে পাঁচটি প্রশ্ন পাঠানো হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

    আরেক উত্তীর্ণ প্রার্থী বলেন, যদি কেউ অনিয়ম করে থাকে, তবে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে কয়েকজনের দায়ে হাজারো সৎ ও মেধাবী প্রার্থীকে আবার পরীক্ষার মুখে ফেলা কতটা যৌক্তিক হবে, সেটিও বিবেচনার দাবি রাখে। তার মতে, তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ মিলবে, কেবল তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

    জালিয়াতি নিয়ে অস্পষ্টতা, এনটিআরসিএতে সিদ্ধান্তহীনতা:

    প্রথমবারের মতো আয়োজিত বড় নিয়োগ পরীক্ষায় কী ধরনের অনিয়ম বা জালিয়াতি হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো সরকারের উচ্চপর্যায় কিংবা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনটিআরসিএর কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, পরীক্ষায় কী ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে বা কোন প্রক্রিয়ায় তদন্ত চলছে—এ বিষয়ে তাদের কাছেও বিস্তারিত তথ্য নেই। ফলে তদন্তের প্রকৃতি ও অগ্রগতি নিয়েও স্পষ্টতা তৈরি হয়নি।

    এদিকে প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগসংক্রান্ত মৌখিক পরীক্ষা কবে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়েও এখনো কোনো অগ্রগতি নেই বলে জানিয়েছেন এনটিআরসিএর সচিব এ এম এম রিজওয়ানুল হক। তার ভাষায়, ভাইভা পরীক্ষার বিষয়ে এখনো নতুন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

    অন্যদিকে নিয়মিত চেয়ারম্যান না থাকায় এনটিআরসিএর প্রশাসনিক কার্যক্রমেও এক ধরনের সিদ্ধান্তহীনতা দেখা দিয়েছে। গত ২৬ এপ্রিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রেষণ–১ শাখার এক প্রজ্ঞাপনে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রাজা মো. আব্দুল হাইকে এনটিআরসিএর নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে তাকে প্রেষণে বদলি করে চেয়ারম্যান পদে পদায়ন করা হয় এবং জনস্বার্থে আদেশটি অবিলম্বে কার্যকরের কথা উল্লেখ করা হয়।

    তবে নতুন চেয়ারম্যান এখনো দায়িত্ব গ্রহণ না করায় সংস্থাটির দৈনন্দিন প্রশাসনিক ও পরীক্ষা-সংক্রান্ত কার্যক্রমে শূন্যতা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় পরীক্ষা মূল্যায়ন ও প্রত্যয়ন সদস্য মুহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।

    শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সম্প্রতি জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ যাচাইয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে ত্রুটির প্রমাণ মিললে পুরো পরীক্ষা বাতিলের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

    তবে তদন্তের ধরন, অভিযোগের বিস্তারিত এবং অগ্রগতি সম্পর্কে এখনো কোনো পক্ষই পরিষ্কার তথ্য দিতে পারেনি। এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা চেয়ারম্যান মুহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকীর সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

    ত্রুটি প্রমাণিত হলে পরীক্ষা বাতিলের ইঙ্গিত শিক্ষামন্ত্রীর:

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রধান শিক্ষক-অধ্যক্ষ নিয়োগ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ নিয়োগ পরীক্ষাকে ঘিরে বিভিন্ন মহল থেকে ত্রুটির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ যাচাইয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে কোনো ধরনের ত্রুটি প্রমাণিত হলে পুরো পরীক্ষা বাতিল করা হবে বলে তিনি জানান।

    সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে ব্যবস্থাপনা কমিটির কোনো ভূমিকা নেই। আগে ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হলেও এখন সেই সুযোগ নেই। সরকার সরাসরি পরীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। জেলা প্রশাসন ও মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    একজন উত্তীর্ণ প্রার্থী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, যদি কেউ অসদুপায় অবলম্বন করে থাকে, তবে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে কয়েকজনের সম্ভাব্য অপরাধের কারণে হাজার হাজার সৎ ও মেধাবী প্রার্থীকে আবার পরীক্ষার মুখোমুখি করা কতটা ন্যায়সঙ্গত হবে, সেটিও বিবেচনার বিষয়।

    ড. মিলন আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব ছাড়ার আগে প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ দেয়। ওই নিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ উঠলেও তা তদন্ত করা হয়েছে। কোথাও অভিযোগের সত্যতা মিলেছে, কোথাও মেলেনি। জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে ভাইভা নেওয়াসহ বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা শেষে নিয়োগপ্রাপ্তদের বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে তাদের জন্য দুই বছরের পর্যবেক্ষণকাল (প্রভিশন) থাকবে।

    তিনি বলেন, ওই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম শতভাগ প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এত দ্রুত নিয়োগ দেওয়ার প্রয়োজন কেন ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়টি জানা থাকলেও তারা বিষয়টি পরবর্তী সরকারের জন্য রেখে যায়নি এবং দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    এদিকে প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত জানতে শিক্ষামন্ত্রীর জনসংযোগ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো তথ্য দিতে পারেননি। পরে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের হোয়াটসঅ্যাপে পাঁচটি প্রশ্ন পাঠানো হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

    এছাড়া মঙ্গলবার (২ জুন) শিক্ষামন্ত্রীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি বৈঠকে রয়েছেন বলে জানানো হয়। ফলে অভিযোগের প্রকৃতি, তদন্তের অগ্রগতি এবং পরীক্ষা বাতিলের সম্ভাবনা সম্পর্কে তার সরাসরি বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    অপরাধ

    আরও শতাধিক নতুন কিশোর গ্যাংয়ের সন্ধান

    জুলাই 2, 2026
    অপরাধ

    ঢামেক থেকে ক্লিনিক—রোগীর আড়ালে গড়ে ওঠা অদৃশ্য সিন্ডিকেট

    জুলাই 2, 2026
    অপরাধ

    চাকরির বিধিমালা লঙ্ঘন করায় বানারীপাড়ার ভূমি কর্মকর্তা আছমা আক্তারকে অপসারণ

    জুলাই 2, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram
    ‘হাম ব্যবস্থাপনায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সমূহ কি পর্যাপ্ত ছিল, আপনি কি মনে করেন?

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.