বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় পরীক্ষার ফল প্রকাশের প্রায় দেড় মাস পর এবার জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১৪ হাজারের বেশি প্রার্থী এখন মৌখিক পরীক্ষার অপেক্ষায় রয়েছেন।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ইঙ্গিত দিয়েছেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগ প্রমাণিত হলে পুরো পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় আয়োজন করা হতে পারে। ফলে নিয়োগের চূড়ান্ত ধাপে এসে প্রার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। প্রার্থীদের প্রশ্ন, ফল প্রকাশের এতদিন পর কেন অনিয়মের অভিযোগ সামনে এলো এবং এখন কেন পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলো।
অন্যদিকে, নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনাকারী বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ এখনো এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট অবস্থান জানায়নি। ফল প্রকাশের পর মৌখিক পরীক্ষার সময়সূচি নিয়েও কোনো ঘোষণা আসেনি। সংস্থাটিতে নিয়মিত চেয়ারম্যান না থাকায় ভাইভা কবে হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্তও ঝুলে আছে। এছাড়া কী ধরনের অনিয়ম বা জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে, অভিযোগের ভিত্তি কী এবং তদন্ত কোন পর্যায়ে রয়েছে—এসব প্রশ্নেরও পরিষ্কার জবাব মিলছে না। এতে করে প্রার্থীদের মধ্যে দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তা ক্রমেই বাড়ছে।
স্বাধীনতার পর দীর্ঘ পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগ হতো পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে। এতে প্রায়ই স্বজনপ্রীতি, আর্থিক লেনদেন এবং প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগের অভিযোগ উঠত। এসব সমস্যা দূর করে স্বচ্ছতা আনতেই প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয়ভাবে পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার এবং নিয়োগ প্রক্রিয়াকে শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে আনা হয়।
জানা গেছে, বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগে কেন্দ্রীয় পরীক্ষা চালুর উদ্যোগটি ছিল শিক্ষা খাতে বড় একটি নীতিগত পরিবর্তন। দীর্ঘদিন ধরে এসব পদে নিয়োগ পরিচালনা কমিটির হাতে থাকায় নানা অনিয়ম ও বিতর্ক তৈরি হতো। ফলে এক ধরনের দ্বৈত কাঠামো তৈরি হয়, যা জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

