রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বহির্বিভাগে সকাল থেকেই রোগীদের দীর্ঘ সারি। সেই ভিড়ের মধ্যেই চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন পোশাককর্মী আছিয়া খাতুন (৩৫)। স্বামী ও নিজের সামান্য আয়ে কোনো রকমে চলে তাঁদের চার সদস্যের সংসার।
পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য কয়েকটি টেস্ট লিখে দেওয়ার পর চিকিৎসকের কক্ষ থেকে বের হন আছিয়া। তখনই এক ব্যক্তি এগিয়ে এসে বলেন, “আপনার প্রেসক্রিপশনটা দেখি।” কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি প্রেসক্রিপশনের ছবি তুলে নেন। কয়েক দিন পর রিপোর্ট নিয়ে আবার চিকিৎসকের কাছে গেলে আছিয়া লক্ষ্য করেন, চিকিৎসকের টেবিলে একটি নির্দিষ্ট ওষুধ কোম্পানির লিফলেট ও প্রচারসামগ্রী রাখা রয়েছে।
এরপর ফার্মেসিতে গিয়ে প্রেসক্রিপশনে লেখা ওষুধ কিনতে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন, তাঁকে দেওয়া হয়েছে ওই প্রচারসামগ্রীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির দামি অ্যান্টিবায়োটিক ও একাধিক ভিটামিন। টেস্ট ও ওষুধ মিলিয়ে তাঁর খরচ দাঁড়ায় ১১ হাজার টাকা, যা তাঁর এক মাসের বেতনের সমান।
আছিয়া বলেন, সংসার চালাতেই কষ্ট হয়। চিকিৎসার জন্য ধার করতে হয়েছে। চিকিৎসক যা লিখেছেন তা না মেনে উপায় নেই। কোনটা প্রয়োজনীয় আর কোনটা অপ্রয়োজনীয়, তা বোঝার ক্ষমতা তাঁদের নেই। আছিয়ার এই অভিজ্ঞতাকে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার একটি সাধারণ চিত্র হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, এক শ্রেণির অসাধু চিকিৎসকের কারণে রোগীরা ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির আগ্রাসী বিপণনের শিকার হচ্ছেন।
স্বাস্থ্য খাতসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, চিকিৎসক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ওষুধ কোম্পানির একটি অংশের যোগসাজশে রোগীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কোনো কোনো চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিদের কমিশনের প্রলোভনে পড়ে অপ্রয়োজনীয় ওষুধ, অতিরিক্ত পরীক্ষা এমনকি সিজারিয়ান অপারেশনও লিখে দিচ্ছেন। ফলে চিকিৎসকের একটি প্রেসক্রিপশন অনেক পরিবারের মাসিক বাজার খরচ, সন্তানের শিক্ষা ব্যয় কিংবা জরুরি সঞ্চয় পর্যন্ত শেষ করে দিচ্ছে।
এদিকে রোগীদের স্বস্তি দিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত বছরের সেপ্টেম্বরে একটি পরিপত্র জারি করে। সেখানে বলা হয়, সরকারি হাসপাতালে বিক্রয় প্রতিনিধিদের প্রেসক্রিপশনের ছবি তোলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সপ্তাহের সোম ও বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত তাঁদের সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ করা হয়। এই সময়ের বাইরে রোগীসেবায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা বিরক্ত করা যাবে না। এছাড়া সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে বেসরকারি কোম্পানির সিল ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। কেবল জেনেরিক নামের সিল ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়। একইসঙ্গে ওষুধ কোম্পানির প্রচারসামগ্রী চিকিৎসকের টেবিলে রাখা নিষিদ্ধ করা হয়।
তবে অনুসন্ধানে দেশের বিভিন্ন জেলায় দেখা গেছে, এসব নির্দেশনার বড় অংশই মানা হচ্ছে না। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল ও চেম্বারে বিক্রয় প্রতিনিধিদের দাপট আগের মতোই রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রেসক্রিপশন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে। ফলে রোগীরা একদিকে যেমন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন, অন্যদিকে অপ্রয়োজনীয় ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার চাপ বাড়ছে। এর ফলে স্বাস্থ্যসেবার বাণিজ্যিকীকরণ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
আইডি লুকিয়ে, মাস্ক পরে হাসপাতালেই এমআরদের দৌরাত্ম্য:
রাজধানীর বড় সরকারি হাসপাতালগুলোতে ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিদের (এমআর) প্রভাব দীর্ঘদিন ধরেই চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতাল এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে প্রতিদিন শত শত এমআরের উপস্থিতি দেখা যায়।
গত মে মাসে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যৌথ অভিযান চালিয়ে ৬০ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ১২ জন ছিলেন ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি। তবে সেই অভিযানের পরও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
রোগীদের অভিযোগ, এমআররা মাস্ক পরে, আইডি কার্ড লুকিয়ে বা নারী প্রতিনিধিদের ব্যবহার করে সহজেই হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে প্রবেশ করছেন। জরুরি বিভাগ ও আন্তঃবিভাগে চিকিৎসকদের ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে তারা চেম্বারের সামনে অবস্থান নেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক বলেন, চিকিৎসকেরা চাইলে তাদের প্রবেশ বন্ধ করতে পারেন। তবে অনেক চিকিৎসকই স্বার্থের সম্পর্কের কারণে তাদের সঙ্গে যুক্ত থাকেন। কমিশনের বিনিময়ে নির্দিষ্ট কোম্পানির ওষুধ লেখা হয় বলেও তিনি দাবি করেন। তার ভাষায়, বিষয়টি এখন ‘খোলামেলা বাস্তবতা’।
ওষুধ বিপণনে নৈরাজ্য ও অযোগ্য নিয়োগের অভিযোগ:
এদিকে ওষুধ শিল্পের বিপণন ব্যবস্থায় অনিয়ম ও পেশাদারিত্বের অভাব রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ।
তিনি বলেন, এই খাতে মেডিক্যাল প্রমোশন অফিসার বা মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে অনেক সময় এমন ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যাদের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাকগ্রাউন্ড মানবিক বা ব্যবসায় শিক্ষা। অথচ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী এই পদে জীববিজ্ঞান বা সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন, যাতে ওষুধের কার্যকারিতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকে। তিনি আরও বলেন, প্রতিযোগিতার নামে কিছু কোম্পানি চিকিৎসকদের উপহার, নগদ অর্থ এবং বিদেশ ভ্রমণের প্রলোভন দেখিয়ে ওষুধের বিক্রি বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এতে পেশাদার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং রোগীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালেও অনিয়মের চিত্র দেখা গেছে। সেখানে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনে আগে থেকে তৈরি সিল ব্যবহারের ঘটনা ‘খোলামেলা গোপন’ বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। সম্প্রতি ৬৫ ও ৫৮ বছর বয়সী দুই রোগীর প্রেসক্রিপশনে সব ওষুধই সিলের মাধ্যমে লেখা হয়, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার জন্ম দেয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চিকিৎসক ও বিক্রয় প্রতিনিধিদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। অতীতে চিকিৎসকদের অর্থায়নে প্রমোদ ভ্রমণের অভিযোগও সামনে এসেছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সনাকের এসিজি (স্বাস্থ্য) গ্রুপের আহ্বায়ক শামীম আহমেদ বলেন, এক সময় হাসপাতালে এমআরদের অবাধ প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে কিছু উদ্যোগ ছিল। কিন্তু বর্তমানে তারা আবার আগের মতোই স্বাধীনভাবে চলাচল করছে।
ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা উপেক্ষিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই এমআরদের উপস্থিতি দেখা যায়। সকাল সাড়ে ১১টার দিকেই আবাসিক মেডিক্যাল অফিসারের কক্ষের সামনে কয়েকজন প্রতিনিধি উপহারসামগ্রী নিয়ে অবস্থান করেন। দুপুরে ১০ থেকে ১২ জন একসঙ্গে চিকিৎসকদের কক্ষে প্রবেশ করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, আগে এমআররা রোগীদের লাইনে দাঁড় করাতেন এবং প্রেসক্রিপশন নিয়ে চাপ সৃষ্টি করতেন। সরকারি নির্দেশনার পর কিছুটা পরিবর্তন হলেও এখনো সেই প্রভাব পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
কৌশলে হাসপাতালজুড়ে এমআরদের উপস্থিতি:
গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগে দেখা যায় ওষুধ কোম্পানির কয়েকজন বিক্রয় প্রতিনিধি। তারা কৌশলে বিভিন্ন চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করে কিছু সময় অবস্থান শেষে বেরিয়ে যান।
বের হওয়ার সময় নাজমুল হোসেন নামের এক প্রতিনিধি জানান, তিনি চিকিৎসকের সঙ্গে সময় নির্ধারণ করতে এসেছিলেন। তার ভাষায়, ওষুধ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। চিকিৎসক তাকে বিকেলে চেম্বারে আসতে বলেছেন। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, নির্ধারিত নির্দেশনা অমান্য করে এসব প্রতিনিধি জরুরি ও আন্তঃবিভাগে প্রবেশ করছে।
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শঙ্কর কুমার বিশ্বাস বলেন, ব্যস্ত চিকিৎসকদের সুযোগ নিয়ে অনেক সময় এমআররা ভেতরে প্রবেশ করে। তারা মাস্ক পরে ও আইডি কার্ড লুকিয়ে হাসপাতালের বিভিন্ন অংশে ঢুকে পড়ে। অভিযান চালানো হলেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না। তার মতে, চিকিৎসকদেরও এ বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে।
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ জন বিক্রয় প্রতিনিধি আসেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সেখানে রোগীদের প্রেসক্রিপশন দেখা ও ছবি তোলার ঘটনা এখনো অবাধে চলছে। তবে হাসপাতালের নোটিশ বোর্ডে এ সংক্রান্ত নির্দেশনার কোনো কপি নেই। রোগী আকলিমা বিবি বলেন, হাসপাতালে ঢুকলে মনে হয় আগে ওষুধ কোম্পানির লোকজনের অনুমতি নিতে হয়। তার অভিযোগ, চিকিৎসা নেওয়ার চেয়ে বেশি সময় ও টাকা ব্যয় হচ্ছে টেস্ট ও ওষুধ কেনায়।
বান্দরবান সদর হাসপাতালেও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গেছে। সেখানে বিক্রয় প্রতিনিধিরা হাসপাতাল চত্বরে ঘোরাফেরা করেন এবং রোগীদের বসার জায়গায় অবস্থান নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধি চিকিৎসকদের কক্ষের সামনে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন। এক রোগীর স্বজন জানান, এক প্রতিনিধি বারবার চিকিৎসকের কক্ষের সামনে গিয়ে উঁকি দিচ্ছিলেন। পরে তিনি নিজেকে একটি ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে স্বীকার করলেও নাম প্রকাশ না করেই স্থান ত্যাগ করেন।
সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এমন চিত্র রোগীকেন্দ্রিক সেবাকে বাধাগ্রস্ত করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ রয়েছে, কমিশননির্ভর বিপণন, অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং ওষুধ ব্যবহারের কারণে চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। ফলে সাধারণ রোগীরা আর্থিক চাপে পড়ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে দারিদ্র্যের ঝুঁকি আরও বাড়ছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে চিকিৎসকদের সঙ্গে সরাসরি ওষুধ কোম্পানির প্রচারণা নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, যোগাযোগ হবে কেবল ডিজিটাল মাধ্যমে, প্রেসক্রিপশনে জেনেরিক নাম বাধ্যতামূলক করা এবং অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। এছাড়া ওষুধ, পরীক্ষা ও ফি নির্ধারণ, উপহার ও প্রলোভনের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার কথাও বলা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব হেলথ ইকোনমিকসের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, সরকারি হাসপাতালকে সেবাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে কঠোর মনিটরিং জরুরি। তার মতে, সিসিটিভি, ডিজিটাল এন্ট্রি সিস্টেম, নিয়মিত রিপোর্টিং ব্যবস্থা এবং অভিযোগ গ্রহণের হটলাইন চালু করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ওষুধ কোম্পানিগুলোর অনিয়ন্ত্রিত বিপণন প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে এই পরিস্থিতি আরও জটিল হবে।
কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় চিকিৎসা ও ওষুধ সেবাকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের আওতায় আনা জরুরি। তার মতে, এটি দীর্ঘদিনের দাবি এবং প্রস্তাবিত সংশোধনীতে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান বলেন, রোগীর প্রেসক্রিপশন একটি গোপনীয় নথি। রোগীর অনুমতি ছাড়া এটি দেখা বা ছবি তোলা আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। তবে তার অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে বিক্রয় প্রতিনিধিরা কৌশলে বা চাপ প্রয়োগ করে রোগীদের কাছ থেকে প্রেসক্রিপশন সংগ্রহ করছেন।
তিনি জানান, প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল ও কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনস্বাস্থ্য ও রোগীর গোপনীয়তা রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

