চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে সরকারি খাস জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগে এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে ফৌজদারি মামলা গ্রহণ করেছে আদালত। সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় আদালতের এই পদক্ষেপ এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ফরিদগঞ্জ আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ বর্ধন দেশের প্রচলিত ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’-এর আওতায় অভিযোগটি আমলে নেন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী খোকন দেবনাথকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের ৭ মে চাঁদপুরের একটি স্থানীয় দৈনিকে “ফরিদগঞ্জে সরকারি জমি দখল করে বহুতল ভবন” শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি বিচারকের নজরে এলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়।
পরবর্তীতে ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে ফরিদগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডকে সরেজমিন তদন্ত করে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত। নির্দেশনা অনুযায়ী ভূমি প্রশাসন ঘটনাস্থল রূপসা বাজারে গিয়ে আধুনিক জরিপ পদ্ধতির মাধ্যমে তদন্ত পরিচালনা করে এবং আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১৪০ নম্বর রূপসা মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানের ৩২৪২ নম্বর আরএস দাগভুক্ত ০.০০৩৩ একর সরকারি খাস জমি বেআইনিভাবে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির সঙ্গে যুক্ত করে দখল করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ওই জমির ওপর একটি পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।
ভূমি প্রশাসনের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে মৌখিক ও লিখিতভাবে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তা মানা হয়নি। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে সরকারি সম্পত্তি দখল ও ব্যবহার করার অভিযোগে খোকন দেবনাথকে দায়ী করা হয়।
মামলার নথি এবং তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে বিচারক তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, সরকারি খাস জমি দখল করে সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করা ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’-এর ১১ ধারার অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তদন্ত প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি পাওয়ায় আদালত বিষয়টি ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী আমলে নিয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সমন জারির আদেশ দেন।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা আদালতের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, চাঁদপুরের বিভিন্ন হাট-বাজার ও নদীতীরবর্তী সরকারি খাস জমি দখলের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এমন পরিস্থিতিতে আদালতের এই পদক্ষেপ দখলবাজদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।

