ঢাকায় প্রকাশিত ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সাম্প্রতিক এক জরিপে সরকারি সেবা খাতে দুর্নীতির চিত্র আবারও সামনে এসেছে। জরিপ অনুযায়ী, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পাসপোর্ট সেবায় ঘুস প্রদানের হার সবচেয়ে বেশি, যা সেবা প্রত্যাশীদের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমণ্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’ শীর্ষক প্রতিবেদনের ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইফতেখারুজ্জামান।
জরিপে দেখা গেছে, পাসপোর্ট সেবা গ্রহণকারী পরিবারের মধ্যে ৭৬ দশমিক ৬ শতাংশকে ঘুস বা অনিয়মজনিত অর্থ প্রদান করতে হয়েছে। এই হার অন্যান্য সব সরকারি সেবা খাতের তুলনায় বেশি। গ্রামাঞ্চলে এ হার ৭৯ দশমিক ১ শতাংশ, আর শহরাঞ্চলে ৭১ দশমিক ৮ শতাংশ।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ঘুস গ্রহণের অভিযোগে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ, যেখানে ঘুসের শিকার হওয়ার হার ৬৩ দশমিক ৫ শতাংশ। এরপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো, যেখানে এ হার ৪৯ দশমিক ৩ শতাংশ।
কৃষি খাতেও একই হারে ঘুস দেওয়ার অভিজ্ঞতার কথা উঠে এসেছে। অন্যদিকে ভূমি-সংক্রান্ত সেবায় ঘুসের শিকার হওয়ার হার ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ বলে জানানো হয়েছে।
জরিপের সামগ্রিক ফলাফলে দেখা যায়, দেশের ৬৩ দশমিক ৬ শতাংশ পরিবার অন্তত একটি সরকারি বা সেবামূলক খাতে ঘুস প্রদানের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছে। টিআইবির মতে, এ চিত্র সেবা ব্যবস্থায় জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এখনও বড় চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ডিজিটালাইজেশন ও বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেবাপ্রার্থীদের একটি বড় অংশ এখনও কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে অনানুষ্ঠানিক অর্থ প্রদানে বাধ্য হচ্ছে। বিশেষ করে পাসপোর্ট, যানবাহন নিবন্ধন, ভূমি ও আইনশৃঙ্খলা খাতে দুর্নীতির উচ্চ হার নাগরিক সেবার মান ও সুশাসন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
টিআইবির এই জরিপ সরকারি সেবা ব্যবস্থায় দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি বৃদ্ধি এবং নাগরিকবান্ধব সেবা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

