লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় একই পরিবারের চার সদস্যের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় আরেকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে পৌর শহরের দেনায়েতপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতরা হলেন এক নারী এবং তার দুই মেয়ে। আহত হয়েছেন পরিবারের বড় মেয়ে, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। ঘটনার পর পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক বছর আগে পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যাওয়ার পর ওই নারী সন্তানদের নিয়ে রায়পুরে বসবাস শুরু করেন। বৃহস্পতিবার সকালে বাসার ভেতরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে পরিবারের চার সদস্য গুরুতর আহত হন। প্রতিবেশীরা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত তরুণীর অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাকে দ্রুত ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকাবাসী সন্দেহের ভিত্তিতে এক ব্যক্তিকে আটক করে মারধর করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নজরদারিতে রেখেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। এটি ব্যক্তিগত বিরোধ, পূর্বপরিকল্পিত হামলা নাকি অন্য কোনো কারণে সংঘটিত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি এ ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে এবং আশপাশের মানুষের সঙ্গে কথা বলছে। তদন্তের স্বার্থে সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনায় নিয়ে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
একই পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যু এবং আরেকজনের জীবন-মৃত্যুর লড়াই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

