বাংলাদেশ রেলওয়ে ডিজেল ইঞ্জিনের স্পেয়ার পার্টস কেনায় অনিয়ম, অতিমূল্য নির্ধারণ ও টেন্ডারে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ নাকচ করেছে। সংস্থাটির দাবি, প্রায় ১ কোটি টাকার যন্ত্রাংশ ৮ কোটিরও বেশি টাকায় কেনার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের (সিসিএস) দপ্তর থেকে দেওয়া এক ব্যাখ্যায় বলা হয়, ডয়েজ (DEUTZ) ডিজেল ইঞ্জিনের ১৪ ধরনের স্পেয়ার পার্টস কেনার জন্য প্রস্তুত করা প্রাক্কলিত মূল্য ছিল ৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৫ কোটি ৭২ লাখ টাকায় এসব যন্ত্রাংশ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এতে সরকারের এক কোটি টাকার বেশি সাশ্রয়ের সুযোগ ছিল।
রেলওয়ে জানায়, চারটি ই-জিপি টেন্ডারে তিনটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। কারিগরি মূল্যায়নে তিনটিই যোগ্য বিবেচিত হয়। পরে আর্থিক মূল্যায়নে আজমাইন ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল সর্বনিম্ন দরদাতা হওয়ায় তাদের অনুকূলে টেন্ডার অনুমোদন ও নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড (এনওএ) জারি করা হয়। ফলে নেক্সট জেনারেশন গ্রাফিক্স লিমিটেডকে (এনজিজিএল) কাজ দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করা হয়েছে।
ব্যাখ্যায় আরও বলা হয়, টেন্ডারে অংশ না নেওয়া কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রভাব বিস্তার বা অধিকাংশ টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগেরও বাস্তব ভিত্তি নেই। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত দুর্নীতির অভিযোগ বিভাগীয়ভাবে নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
রেলওয়ের দাবি, পুরো ক্রয়প্রক্রিয়ায় সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর)-২০০৮, ই-জিপি গাইডলাইন এবং প্রযোজ্য সব আর্থিক বিধিবিধান অনুসরণ করা হয়েছে। ফলে অনিয়ম, বিধি লঙ্ঘন বা পক্ষপাতিত্বের কোনো সুযোগ ছিল না।
এদিকে গত ৯ জুলাই প্রধান বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী (পূর্বাঞ্চল) এক চিঠিতে সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশের আর প্রয়োজন নেই বলে জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে মহাপরিচালকের অনুমোদন নিয়ে ওই ক্রয় কার্যক্রম বাতিল করা হয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে অভিযোগ করেছে, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু গণমাধ্যম উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করছে, যা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেশাগত ও সামাজিকভাবে বিব্রত করছে এবং গুরুত্বপূর্ণ ক্রয় কার্যক্রমে অযথা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন বলেন, ক্রয়প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ নেই এবং সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশ কেনার সব কার্যক্রম ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে।

