ময়মনসিংহের ত্রিশালে বালুর ঘাটে অভিযান পরিচালনাকালে ইজারাদারের এক কর্মীকে চড়-থাপ্পড় ও লাঠি দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।
বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানায়, বুধবার কালীরবাজার এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় সংশ্লিষ্ট ইউএনও ইজারাদারের এক ব্যবস্থাপককে পরপর দুইবার থাপ্পড় মারেন এবং পরবর্তীতে লাঠি দিয়েও আঘাত করেন। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আহত ওই ব্যক্তিকে পরে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আসক জানায়, আইন প্রয়োগের দায়িত্বে থাকা একজন সরকারি কর্মকর্তার হাতে কোনো নাগরিকের এভাবে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। কোনো ব্যক্তি আইন লঙ্ঘন করেছেন বলে সন্দেহ হলেও তাকে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত, আইন প্রয়োগের নামে কারও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছে সংগঠনটি।
সংগঠনটি স্পষ্ট করে বলেছে, মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর কোনো বিধানেই কাউকে চড়-থাপ্পড় বা লাঠিপেটার মাধ্যমে শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে দেওয়া হয়নি। এই আইনে নির্দিষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক বিচার ও আইনে বর্ণিত শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা থাকলেও কাউকে শারীরিকভাবে আঘাত বা অপমান করার ক্ষমতা এর অন্তর্ভুক্ত নয়।
আসকের ভাষ্যে, একজন সরকারি কর্মকর্তা যখন আইন প্রয়োগের দায়িত্বে থাকেন, তখন তাঁর আচরণে আইনের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা ও সংযমের প্রতিফলন থাকা উচিত। তাঁকে দেওয়া ক্ষমতা কোনোভাবেই কোনো নাগরিককে অপমান বা শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার অধিকার দেয় না। সংগঠনটি মনে করে, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রয়োগের সময় নাগরিকের মর্যাদা রক্ষা কোনো অনুগ্রহ নয়, বরং এটি একটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা।
এ প্রসঙ্গে আসক প্রশ্ন তুলেছে, ঠিক কোন আইনি এখতিয়ারের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা একজন নাগরিককে চড় মারলেন এবং লাঠি দিয়ে আঘাত করলেন। তাদের বক্তব্য, এ ধরনের কোনো আইনি ক্ষমতা না থাকলে এই আচরণকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার স্বাভাবিক অংশ হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই।
সংগঠনটি ঘটনার নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, শুধু ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের অপেক্ষায় না থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত নিজ উদ্যোগেই ঘটনার তদন্ত শুরু করা। ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং ভুক্তভোগীর চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্যসহ সব প্রমাণ সংরক্ষণ করে তদন্ত পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছে আসক। পাশাপাশি তদন্তের ফলাফল জনসমক্ষে প্রকাশ করা এবং দায় প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।

