সিলেটের সীমান্ত এলাকায় থামছে না চোরাচালান। ভারত থেকে গরু-মহিষ, মসলা, শাড়ি, থ্রিপিস, মোটরসাইকেল, স্মার্টফোনসহ নানা পণ্য অবৈধ পথে দেশে প্রবেশ করছে। এসব পণ্যের আড়ালে ঢুকছে মাদক ও অস্ত্রও। পাশাপাশি সীমান্ত ব্যবহার করে মানব পাচারের অভিযোগও রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অবৈধ বাণিজ্যের কারণে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। একই সঙ্গে বাড়ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ঝুঁকি। স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সিলেটের সীমান্তঘেঁষা কয়েকটি উপজেলায় সক্রিয় রয়েছে একাধিক চোরাচালান চক্র। অভিযোগ রয়েছে, চোরাচালান নির্বিঘ্ন রাখতে চক্রগুলো স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি, রাজনৈতিক মহল এবং প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে। এ কারণে অনেক সময় সীমান্ত দিয়ে পণ্য ঢোকার পরও তা বাধার মুখে পড়ে না।
গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট ও জৈন্তাপুর এলাকার সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পণ্য প্রবেশ করছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। তবে সব চালান নির্বিঘ্নে পার হতে পারে না। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অভিযানে চলতি বছরে ২০৬ কোটি টাকার বেশি মূল্যের মাদক ও চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়েছে। একই সময়ে আটক করা হয়েছে এক হাজার ২৮১টি গরু-মহিষ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আটক হওয়া চালান মোট চোরাচালানের তুলনায় খুবই সামান্য অংশ।
সিলেটের গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট উপজেলার ওপারে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের ডাউকি এলাকা। এই সীমান্তপথ দীর্ঘদিন ধরে গরু ও মহিষ পাচারের অন্যতম রুট হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের ভাষ্য, গোয়াইনঘাটের হাজিগঞ্জ, কানাইঘাটের সুরইঘাট, বিছানাকান্দি সীমান্ত, হাদারপাড় বাজার এবং জৈন্তাপুরের দরবস্ত বাজার এলাকায় চোরাচালান বেশি হয়ে থাকে।
চক্রগুলো সাধারণত রাতের শেষ ভাগকে বেছে নেয়। স্থানীয়দের দাবি, রাত ২টা থেকে ভোর ৪টার মধ্যে সীমান্ত দিয়ে বেশি পণ্য ও গবাদিপশু প্রবেশ করে। তাদের অভিযোগ, বিছানাকান্দি সীমান্ত দিয়ে দিনে কয়েকশ গরু-মহিষ ঢোকে। একইভাবে জৈন্তাপুর ও দরবস্ত এলাকার পথ ব্যবহার করেও বিপুল সংখ্যক গবাদিপশু দেশে আনা হয়।
স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, সীমান্ত দিয়ে পণ্য বা গবাদিপশু প্রবেশ করাতে নির্দিষ্ট হারে অর্থ দিতে হয়। চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যক্তিরা এই অর্থ সংগ্রহ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গরু-মহিষ ছাড়াও জিরা, চিনি, কসমেটিকস, শাড়ি, কম্বলসহ বিভিন্ন পণ্যের জন্য আলাদা আলাদা ব্যবস্থাপনা রয়েছে। পণ্য অনুযায়ী নির্ধারিত অর্থের বিনিময়ে চালান পার করার ব্যবস্থা করা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে অনিয়মে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে।
শুধু পণ্য নয়, সিলেটের বিভিন্ন সীমান্ত পথ ব্যবহার করে মানব পাচারের ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। জৈন্তাপুরের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা—রাজবাড়ী, মোকামবাড়ী, আলুবাগান, শ্রীপুর, মিনাটিলা, কাঁঠালবাড়ী, রাবার বাগান, ডিবিরহাওড়, রিভারপিলার, কলিঞ্জিবাড়ীসহ বেশ কিছু স্থান দিয়ে নিয়মিত অবৈধ যাতায়াতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব পথ দিয়ে ভারতীয় বিড়ি, মাদক, চিনি, জিরাসহ বিভিন্ন পণ্যও দেশে ঢুকছে।

