ত্বক ফর্সাকারী হিসেবে বাজারে প্রচলিত আটটি ব্র্যান্ডের ক্রিমে নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বহুগুণ বেশি পারদের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা ব্যবহারকারীদের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলো বিক্রি, বিতরণ, মজুত ও ব্যবহার থেকে বিরত থাকার জন্য ভোক্তাদের প্রতি সুস্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন।
সংস্থাটি জানিয়েছে, দেশের প্রচলিত মান অনুযায়ী কোনো প্রসাধনী পণ্যে পারদের সর্বোচ্চ অনুমোদিত মাত্রা নির্ধারণ করা আছে মাত্র এক পার্টস পার মিলিয়ন। কিন্তু বাজার থেকে সংগ্রহ করা নমুনা পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, পরীক্ষিত ক্রিমগুলোতে পারদের উপস্থিতি এই সীমা বহুগুণ ছাড়িয়ে গেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা নির্ধারিত মাত্রার একশ গুণেরও বেশি পাওয়া গেছে।
গতকাল সোমবার প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, নমুনায় পারদের মাত্রা সর্বনিম্ন প্রায় পঁয়তাল্লিশ পিপিএম থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ প্রায় একশ তেইশ পিপিএম পর্যন্ত পাওয়া গেছে। এত উচ্চমাত্রার পারদ দীর্ঘমেয়াদে ত্বকের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করলে কিডনি, স্নায়ুতন্ত্র ও ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে থাকেন।
পরীক্ষায় যেসব ক্রিমে অতিরিক্ত পারদের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে একটি হোয়াইটেনিং ক্রিমে প্রায় একশ বিশ পিপিএম, একটি বিউটি ক্রিমে প্রায় পঁয়তাল্লিশ পিপিএম, অন্য একটি বিউটি ক্রিমে প্রায় ষাট পিপিএমের কাছাকাছি এবং একই ব্র্যান্ডের হোয়াইটেনিং সংস্করণে প্রায় আশি পিপিএম পারদ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া আরেকটি হোয়াইটেনিং ক্রিমে প্রায় তিরাশি পিপিএম, একটি বিউটি ক্রিমে সর্বোচ্চ মাত্রা অর্থাৎ প্রায় একশ তেইশ পিপিএম, অন্য একটি বিউটি ক্রিমে প্রায় সাতান্ন পিপিএম এবং একটি স্ক্রিন ক্রিমে প্রায় সাতষট্টি পিপিএম পারদের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে।
সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই পণ্যগুলো এখনই বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন এবং ভোক্তাদের উচিত এসব ক্রিম কেনা বা ব্যবহার থেকে সম্পূর্ণভাবে বিরত থাকা। পাশাপাশি বিক্রেতা ও পরিবেশকদেরও এসব পণ্যের মজুত ও সরবরাহ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্বক ফর্সাকারী প্রসাধনীতে পারদ ব্যবহারের প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরেই একটি সাধারণ স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বল্প সময়ের জন্য ত্বকের রং হালকা দেখাতে সাহায্য করলেও দীর্ঘমেয়াদে এসব উপাদান শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও শিশুদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি বলে চিকিৎসকেরা মনে করেন।
এ প্রেক্ষাপটে ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাজারে প্রচলিত অন্যান্য প্রসাধনী পণ্যেও নিয়মিত তদারকি ও পরীক্ষা চালানো প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ক্ষতিকর উপাদানযুক্্ত পণ্য সহজে বাজারে প্রবেশ করতে না পারে। একই সঙ্গে ভোক্তাদেরও প্রসাধনী কেনার আগে পণ্যের মান ও অনুমোদন সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

