রাহাদ সুমন, বরিশাল প্রতিবেদক—
বরিশালের বানারীপাড়ায় টেন্ডার ছাড়াই অবৈধভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১০টি মেহগনি ও ৪টি নারকেল গাছ বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। এক লাখ পাঁচ হাজার টাকায় গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছে বলে দেখানো হলেও, গাছ ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত অভিজ্ঞদের মতে, এসব গাছের বাজারমূল্য আরও অনেক বেশি।
সোমবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুকুরের পূর্ব পাড়ে মসজিদসংলগ্ন বাগানে শ্রমিকরা মেহগনি ও নারকেল গাছ কেটে স-মিলে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত করছেন।
এ সময় সেখানে থাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিস সহকারী শাওন জানান, হাসপাতালের মসজিদের দ্বিতীয় তলার কাজের জন্য জাহাঙ্গির সরদার নামের এক গাছ ব্যবসায়ীর কাছে এক লাখ পাঁচ হাজার টাকায় গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছে। ইউএনও ও বন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের অনুমতি নিয়েই গাছ বিক্রি করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
টেন্ডার ছাড়া গাছ বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফুল আজিজ বলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ। তাছাড়া টেন্ডারের মাধ্যমে গাছ বিক্রি করলে অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হতো। এসব কারণে মসজিদ সংস্কারের জন্য টেন্ডার ছাড়াই গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অবগত আছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
গাছের ক্রেতা বানারীপাড়ার রায়েরহাট এলাকার স-মিল মালিক জাহাঙ্গির হোসেন সরদার বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছ থেকে তিনি এক লাখ পাঁচ হাজার টাকায় ১০টি মেহগনি ও ৪টি নারকেল গাছ কিনেছেন। গত তিন দিন ধরে গাছগুলো কেটে নিয়ে যাচ্ছেন।
উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. তাহেরুল ইসলাম বলেন, প্রায় এক বছর আগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কয়েকটি গাছের মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল। তবে মূল্য নির্ধারণ করা হলেও টেন্ডার ছাড়া সরকারি গাছ বিক্রির কোনো সুযোগ নেই।
বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বায়েজিদুর রহমান বলেন, মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ও টেন্ডার ছাড়া সরকারি গাছ কাটা বা বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তাকে গাছের ঝুঁকিপূর্ণ ডাল কাটার বিষয়ে জানিয়েছিলেন। তবে গাছ কাটা বা বিক্রির কোনো অনুমতি তিনি দেননি। এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কর্তৃপক্ষ তিনি নন; এ বিষয়ে দায়িত্বে রয়েছে সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য উপপরিচালক ডা. মোহাম্মদ লোকমান হাকিম বলেন, সরকারি গাছ বিক্রির সুনির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন রয়েছে। এর ব্যত্যয় ঘটলে তা অনিয়ম হিসেবে গণ্য হবে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

