জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৩ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ এক দিন পিছিয়েছে। এক সাক্ষী অসুস্থ থাকায় আগামীকাল বুধবার (১২ আগস্ট) সাক্ষ্যগ্রহণের নতুন দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এদিন প্রসিকিউশনের পক্ষে সময়ের আবেদন করেন প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী। তিনি আদালতকে জানান, মঙ্গলবার মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারিত ছিল। কিন্তু সাক্ষী অসুস্থ থাকায় তাঁর সাক্ষ্য নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পরে আদালত সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে বুধবার নতুন দিন ধার্য করেন।
মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামি
১৩ আসামির মধ্যে বর্তমানে তিনজন গ্রেপ্তার রয়েছেন। তাঁরা হলেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।
মঙ্গলবার সকালে তাঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
মামলার বাকি ১০ আসামি পলাতক। তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করা পাঁচজন হলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী এবং মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক।
অন্য পলাতক আসামিরা হলেন শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হক।
ষষ্ঠ সাক্ষীর জবানবন্দিতে কী ছিল
এর আগে গত ২২ জুলাই মামলার ষষ্ঠ সাক্ষী হেফাজতে ইসলামের কর্মী তাজুল ইসলাম সুমনের জেরা শেষ হয়। এর আগে গত ১৮ জুন তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করে ট্রাইব্যুনাল।
জবানবন্দিতে তাজুল ইসলাম সুমন গুম ও নির্যাতনের অভিযোগ এবং দীর্ঘ আট বছর কারাগারে থাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ, হেফাজতে ইসলামের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে তাঁকে মিথ্যা মামলায় দীর্ঘ সময় কারাগারে রাখা হয়েছিল। এ ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিচারের দাবিও জানান তিনি।
বিচার শুরু হয় ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে
এই মামলায় ১৩ আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দেওয়া অভিযোগ ২০২৫ সালের ৮ অক্টোবর আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। পরে ১৮ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।
মামলাটিতে জেআইসিতে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগের বিচার চলছে। সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরা গ্রহণের মধ্য দিয়ে এখন মামলার সাক্ষ্যপর্ব এগোচ্ছে। আগামীকাল বুধবার নির্ধারিত সাক্ষ্যগ্রহণে নতুন কোনো তথ্য বা অভিযোগ আদালতের সামনে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

