সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে কর্মচারীদের শৃঙ্খলা ভঙ্গের ঘটনায় কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাঁচ কর্মচারীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে একজনকে সাময়িক এবং চারজনকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে এক বেঞ্চ কর্মকর্তার বেতন বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি পৃথক অফিস আদেশের মাধ্যমে এসব সিদ্ধান্ত জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।
প্রশাসনের আদেশ অনুযায়ী, প্রথম আপিল শাখার অফিস সহকারী মো. আকরাম হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ৯ নভেম্বর থেকে তিনি টানা কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে গত ৯ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীর স্বাক্ষরে আদেশ জারি করা হয়।
অন্যদিকে বিভাগীয় মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চার এমএলএসএস—মো. আসাদুজ্জামান, মো. মেহেদী হাসান, মো. ফিরোজ মিয়া ও মোছা. রুক্ষুন নিশাকে স্থায়ীভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে চলা বিভাগীয় মামলারও নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয় গত ৪ আগস্ট।
অনুপস্থিতির অভিযোগে বেতন বন্ধ
শুধু বরখাস্তের মধ্যেই প্রশাসনিক ব্যবস্থা সীমাবদ্ধ থাকেনি। হাইকোর্ট বিভাগে কর্মরত বেঞ্চ কর্মকর্তা মো. জামাল হোসেন প্রধানের বেতনও বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে গত ২৬ জুলাই এ বিষয়ে অফিস আদেশ জারি করা হয়।
সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের পৃথক এসব আদেশে কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে বিভাগীয় মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর চার কর্মচারীর স্থায়ী বরখাস্ত এবং দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার ঘটনায় সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত থেকে প্রশাসনিক শৃঙ্খলার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের বিষয়টি স্পষ্ট হচ্ছে।
তবে এসব সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বিভাগীয় তদন্ত ও অভিযোগ প্রমাণের প্রক্রিয়াটিই মূল ভিত্তি। ফলে শুধু শাস্তির দিকটি নয়, কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের যথাযথ তদন্ত এবং ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া অনুসরণও প্রশাসনিক জবাবদিহির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

