জুলাই আন্দোলন ঘিরে হত্যা ও সহিংসতার মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে উসকানি, নির্দেশনা এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের অভিযোগে বিভিন্ন ফোনালাপ ও দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। তবে এসব কর্মকাণ্ডের জন্য আসামিদের দায়ী করা যায় না বলে দাবি করেছেন পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এম হাসান ইমাম।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ট্রাইব্যুনালে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারা যদি কোনো নির্দেশনা বা উসকানি দিয়ে থাকেন, তার পেছনেও আরও একজন নির্দেশদাতা ছিলেন। ফলে শুধু এসব নেতাকে দায়ী করে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় আরোপ করা ঠিক হবে না।
তবে আইনজীবীর এই বক্তব্যের পর ট্রাইব্যুনাল বলেন, যিনি এই মামলার আসামি নন এবং অন্য একটি মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি পেয়েছেন, তাঁর প্রসঙ্গ এই মামলায় না আনাই উচিত।
‘নির্দেশ ও উসকানির দায় আসামিদের নয়’
রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী যুক্তি দেন, জুলাই আন্দোলনের সময় নৃশংসতা, হত্যা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে – রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত সাক্ষ্য, তথ্য-উপাত্ত ও দালিলিক প্রমাণে তার উল্লেখও রয়েছে। কিন্তু এসব ঘটনার জন্য ওবায়দুল কাদেরসহ সংশ্লিষ্ট নেতাদের সরাসরি দায়ী করার মতো আইনি ভিত্তি নেই।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাদের কর্মকাণ্ডের পেছনে অন্য একজনের নির্দেশনা ছিল। তিনি বলেন, ওই ব্যক্তির নাম তিনি প্রকাশ করতে চান না; বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সবাই জানেন।
এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আসামিপক্ষ মূলত রাষ্ট্রপক্ষের ‘নির্দেশদাতা’ ও ‘উসকানিদাতা’ হিসেবে ওবায়দুল কাদেরের ভূমিকার অভিযোগকে চ্যালেঞ্জ করেছে।
গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন
মামলায় আন্দোলনের সময় সংবাদ প্রচার বন্ধ করা এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে বিভিন্ন ফোনালাপ ও তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। আসামিপক্ষ এসব ঘটনা পুরোপুরি অস্বীকার না করে এর দায় কার ওপর বর্তাবে, সেটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
আইনজীবীর দাবি, ফোনালাপ হয়ে থাকলেও সেখান থেকে সরাসরি আসামিদের অপরাধের দায় প্রতিষ্ঠিত হয় না। কারণ, তাদের ওপরও একজন নির্দেশদাতা ছিলেন।
‘সুপিরিয়র দায়’ নিয়েও আসামিপক্ষের যুক্তি
আসামিপক্ষ আরও বলেছে, জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতার জন্য শুধু কোনো রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক পদে থাকা ব্যক্তির ওপর দায় বর্তায় না। কোনো ব্যক্তিকে নির্দেশদাতা বা উসকানিদাতা হিসেবে দায়ী করতে হলে তাঁর নির্দিষ্ট কর্মকাণ্ড, নির্দেশনা এবং অপরাধ সংঘটনের সঙ্গে সেই নির্দেশনার যোগসূত্র প্রমাণ করতে হবে।
এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত অভিযোগ ও দালিলিক প্রমাণ থেকে ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির ওপর সরাসরি দায় প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলে দাবি করেছে আসামিপক্ষ।
ওবায়দুল কাদেরসহ সাত নেতার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মতো শেষ হয়েছে। মামলায় আরও যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আগামী ১৬ আগস্ট দিন নির্ধারণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

