বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরে বুধবার ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণের ঘটনাটি নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। বিস্ফোরকটি আগে থেকে পুঁতে রাখা হয়েছিল, নাকি বাইরে থেকে ছুড়ে মারা হয়েছিল—এই প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারছে না পুলিশ। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও বিস্ফোরকের ধরন সম্পর্কেও স্পষ্ট কোনো তথ্য মেলেনি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, ফরেনসিক প্রতিবেদন ছাড়া নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
ঘটনার দিন বিকেলেই জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সভাকক্ষে দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ দরজার বৈঠক হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন সব বিচারক, মহানগর পুলিশ কমিশনার এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বৈঠকে অংশ নেওয়া একজন বিচারক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিস্ফোরকটি আগে থেকেই পুঁতে রাখা হয়েছিল। আদালত প্রাঙ্গণ পুরোপুরি সিসি ক্যামেরার আওতাধীন হলেও গত কয়েক দিনের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে বিদ্যুৎ না থাকার সময়টাতেই হয়তো বিস্ফোরকটি বসানো হয়ে থাকতে পারে বলে তাঁর ধারণা—কারণ বিদ্যুৎ না থাকলে ক্যামেরাও কাজ করে না।
তবে এই ধারণা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজ ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, বিস্ফোরক বস্তুটি বাইরে থেকে ছোড়া হয়েছে কি না, তাও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গতকাল বৃহস্পতিবার থেকেই আদালতপাড়ায় প্রবেশের সব পথে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়েছে। সন্দেহজনক মনে হলে যেকোনো ব্যাগ তল্লাশি করছে পুলিশ।
ঘটনাটির তদন্তভার নিয়েছে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট। ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত আলামত ইতিমধ্যে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ক্রাইম সিন ইনচার্জের ভাষ্যমতে, ঘটনাস্থল থেকে কাচের গুঁড়া, প্লাস্টিকের টুকরা ও বারুদজাতীয় উপকরণ সংগ্রহ করা হয়েছে। সিআইডির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ঘটনাস্থলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আলামত পাওয়া যায়নি, তবে বিস্ফোরণের প্রকৃতি ও ব্যবহৃত উপাদান পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না।
কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি জানিয়েছেন, ঘটনার রাতেই থানার এক উপপরিদর্শক বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। তবে মামলায় নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে আসামি করা হয়নি। বিস্ফোরকটি পুঁতে রাখা নাকি নিক্ষেপ করা হয়েছে—এই প্রশ্নে তিনিও বলেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত কিছু জানানো সম্ভব নয়।
তবে ভিন্ন সুরে কথা বলেছেন বরিশাল মহানগর পুলিশ কমিশনার। তাঁর ভাষ্যমতে, সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা বিবেচনায় ধারণা করা হচ্ছে, বাইরে থেকে কেউ বিস্ফোরকটি ভেতরে ছুড়ে মেরেছে। তবে তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়েও নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না বলে জানান তিনি। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এটি কোনো শক্তিশালী বোমা বা ককটেল ছিল না, বরং পটকাজাতীয় কিছু হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। তাঁর ধারণা, ভীতি সঞ্চারের উদ্দেশ্যেই কেউ এই কাজ করে থাকতে পারে।
উল্লেখ্য, বুধবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে আদালত চত্বরে প্রবেশের প্রধান ফটকের পশ্চিম পাশের একটি পিলারের কাছে এই বিস্ফোরণ ঘটে। সৌভাগ্যক্রমে এতে কেউ হতাহত হননি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই ফটক দিয়ে প্রবেশ করলেই পাওয়া যায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নয়তলা ভবন। ঘটনার পর থেকে গোটা আদালতপাড়ায় বিরাজ করছে আতঙ্ক।

