রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চোরাচালান রোধে আরও কঠোর হয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। সোমবার একই দিনে পরিচালিত তিনটি পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিদেশি সিগারেট, আমদানি নিষিদ্ধ বিউটি ক্রিম এবং বিদেশি মদ আটক করেছে সংস্থাটি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জনসংযোগ বিভাগ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
তিন অভিযান মিলিয়ে মোট আটক হয়েছে ৩৪৯ কার্টন বিদেশি সিগারেট, ৩৮০ কেজি নিষিদ্ধ ক্রিম এবং ১ লিটার বিদেশি মদ। এসব পণ্যের শুল্কায়নযোগ্য বাজারমূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৯০ লাখ ১৬ হাজার টাকা। এর ওপর প্রযোজ্য শুল্ক-কর দাঁড়ায় প্রায় ৮৭ লাখ ৯১ হাজার টাকা। ফলে শুল্ক-করসহ জব্দ করা মালামালের সম্মিলিত মূল্য গিয়ে ঠেকেছে প্রায় ১ কোটি ৭৮ লাখ ৭ হাজার টাকায়।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার দুবাইফেরত দুটি ফ্লাইটে অভিযান চালানো হয়। এতে তিনজন যাত্রীর কাছ থেকে ১৭০ কার্টন সিগারেট, ৯ কেজি নিষিদ্ধ ক্রিম ও ১ লিটার বিদেশি মদ জব্দ করা হয়। হিসাব অনুযায়ী, এই চালানের শুল্ক-করসহ মোট মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৫২ লাখ ২৫ হাজার টাকা। সিগারেটের ওপর ৬২১ শতাংশ এবং মদের ওপর প্রায় ৬১০ শতাংশ হারে শুল্ক-কর আরোপ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
একই দিনে দুবাই থেকে আসা আরেকটি ফ্লাইটে চালানো দ্বিতীয় অভিযানে ১৭৯ কার্টন সিগারেট এবং ৫২ কেজি নিষিদ্ধ ক্রিম আটক হয়। এই চালানের শুল্ক-করসহ সম্মিলিত মূল্য প্রায় ৬২ লাখ ২ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তৃতীয় অভিযানটি চালানো হয় বিমানবন্দরের ফরেন পোস্ট অফিসে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখান থেকে একবারে ৩১৯ কেজি আমদানি নিষিদ্ধ বিউটি ক্রিম জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।
তিনটি অভিযানের সার্বিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিমানবন্দরকেন্দ্রিক চোরাচালানে সিগারেট ও প্রসাধনী পণ্যের প্রাধান্যই বেশি। বিশেষত আমদানি নিষিদ্ধ বিউটি ক্রিমের বড় একটি অংশ আসছে যাত্রীর ব্যাগেজের বদলে ডাক পার্সেলের মাধ্যমে, যা তদন্তকারীদের কাছে নতুন প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একইসঙ্গে বিদেশি সিগারেটের ক্ষেত্রে ৬০০ শতাংশের বেশি শুল্ক-কর হারই বোঝায়, কেন এই খাতে চোরাচালানের প্রবণতা এখনও এত বেশি— উচ্চ শুল্কহারের কারণে অবৈধ পথে আমদানি করলে মুনাফার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজস্ব ফাঁকি ও চোরাচালান ঠেকাতে যাত্রী পর্যায়ে ঝুঁকিভিত্তিক নজরদারির পাশাপাশি কার্গো ও পার্সেল পর্যায়েও গোপন তথ্য সংগ্রহ ও অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ধারাবাহিক অভিযান স্বল্প মেয়াদে চোরাচালানকারীদের নিরুৎসাহিত করলেও দীর্ঘমেয়াদে কাঙ্ক্ষিত ফল পেতে হলে বিমানবন্দর কেন্দ্রিক নজরদারি ব্যবস্থাকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও সমন্বিত করার প্রয়োজন রয়েছে।

