রাজধানীর ভাটারায় অভিনেত্রী ও মডেল লিনা আক্তার ওরফে রিধিকা রিধির মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় তার প্রেমিক হাসিবুর রহমানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। ফলে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারেই থাকতে হচ্ছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে হাসিবুরের পক্ষে তার আইনজীবী গোলাম কিবরিয়া ছোটন জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি নামঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক কামাল হোসেন।
এর আগে গত ১৬ আগস্ট হাসিবুরকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ভাটারা থানার উপপরিদর্শক আব্দুল ওয়াদুতের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়েছে, হাসিবুর মোবাইল ফোনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লিনাকে মানসিকভাবে যন্ত্রণা দিতেন। তার বিরুদ্ধে লিনাকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করার অভিযোগও আনা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্যাতন ও মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে গত ১৫ আগস্ট ভোর ৫টা থেকে ৫টা ৩০ মিনিটের মধ্যে কোনো একসময় লিনা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হাসিবুর অপরাধ স্বীকার করেছেন এবং ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছেন। ওই দিন রাতেই ভাটারা থানাধীন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
যে রাতে ঘটনার সূত্রপাত
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ আগস্ট রাতে ভাটারা থানাধীন একটি বাসায় বান্ধবীদের সঙ্গে ছিলেন লিনা। পরদিন ভোরে ওই বাসা থেকেই তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, হাসিবুরের সঙ্গে লিনার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্পর্কের শুরু থেকেই তিনি লিনাকে বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন।
ঘটনার আগের রাতে লিনা তার দুই বান্ধবী ইশান ও জান্নাতের সঙ্গে বাসায় ছিলেন। রাত ১১টার দিকে মুঠোফোনে হাসিবুরের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে লিনা বান্ধবীদের বসার ঘরে গিয়ে ঘুমাতে বলেন।
এরপর ভোর সাড়ে ৫টার দিকে হাসিবুর লিনার বাসায় গিয়ে দরজায় ডাকাডাকি করেন। বান্ধবীরা দরজা খুলে দিলে তিনি জানান, লিনা তার ওপর রাগ করে গলায় ফাঁস দিয়েছেন।
পরে ঘরে ঢুকে লিনাকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মায়ের অভিযোগে মামলা
মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় লিনার মা মনি বেগম ভাটারা থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। সেই মামলায় হাসিবুরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ, পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত এবং আদালতে উপস্থাপিত তথ্য—সব মিলিয়ে এখন তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন হাসিবুর। তবে অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
অভিনয়েও পরিচিত ছিলেন রিধি
মডেলিংয়ের পাশাপাশি অভিনয়েও কাজ করেছেন লিনা আক্তার। কয়েকটি নাটকে অভিনয় করে পরিচিতি পান তিনি। তার অভিনীত নাটকের মধ্যে ‘এখানে মানুষ বিক্রি হয়’, ‘বহুরূপী’, ‘ডাবল হানিমুন’ ও ‘সুন্দরী’ উল্লেখযোগ্য।

