বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ও তাঁর গাড়িচালককে গুমের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর রহমান সাইফকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে একটি মাইক্রোবাসে করে তাঁকে ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হয়। এ মামলায় আজ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
ইলিয়াস আলী গুমের ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে গত ৯ আগস্ট সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি শেষে ওই আদেশ দেওয়া হয়। পরোয়ানার ভিত্তিতেই পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে গত ২১ জুন শতাধিক গুম ও খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ট্রাইব্যুনালে দেওয়া সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার ইমরুল কায়েসের জবানবন্দিতে ইলিয়াস আলীর গুম ও হত্যার ঘটনায় সাইফুর রহমানের নাম উঠে আসে। এরপর ২৬ জুলাই রাতে তাঁকে তাঁর বাসা থেকে আটক করে বিশেষ সামরিক পুলিশ শাখা।
সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ার দাবি
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্ত ও সাক্ষীর জবানবন্দিতে ইলিয়াস আলীকে অপহরণের ঘটনায় সাইফুর রহমানের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, ইলিয়াস আলীকে অপহরণের ঘটনায় সাইফুরের ভূমিকার বিষয়ে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেখ মামুন খালেদসহ আরও কয়েকজনের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে।
২০১২ সালের সেই রাত
২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল গভীর রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে ইলিয়াস আলী ও তাঁর গাড়িচালককে তুলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এরপর থেকে তাঁদের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
ইলিয়াস আলীকে গুমের ঘটনায় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশের অভিযোগ করে আসছে বিএনপি। রাষ্ট্রপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় র্যাবের গোয়েন্দা শাখারও সম্পৃক্ততা ছিল।
সেই সময় বিমান বাহিনীর স্কোয়াড্রন লিডার হিসেবে র্যাবের গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত ছিলেন সাইফুর রহমান। পরবর্তী সময়ে তিনি বিমান বাহিনীতে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি বিমান সদর দপ্তরের ‘ডিরেক্টরেট অব এয়ার ট্রেনিং’-এর ডেপুটি ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ইলিয়াস আলী গুমের প্রায় ১৪ বছর পর মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এখন ট্রাইব্যুনালের শুনানি ও তদন্তের পরবর্তী ধাপে সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের আইনি ভিত্তি এবং তাঁর ভূমিকার বিষয়ে কী তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপিত হয়, সেটিই হবে মামলার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

