ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের একটি শাখা থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ ও তা বিদেশে পাচারের অভিযোগে সাবেক একজন ভূমিমন্ত্রীসহ ঊনত্রিশ জনের বিরুদ্ধে তিনটি নতুন মামলা অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। অভিযোগ অনুযায়ী, মোট ছাব্বিশটি ভুয়া লেনদেনের মাধ্যমে ব্যাংকের একশ একচল্লিশ কোটি ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে তা দুবাই, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করা হয়েছে।
গত সোমবার দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এই তিনটি মামলা অনুমোদন করা হয়েছে এবং শিগগিরই সেগুলো চট্টগ্রামের দুদক কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ের করা হবে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, এই ইস্যুতে অনুসন্ধানের শুরু থেকেই দুদক, সিআইডি ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সমন্বয়ে গঠিত সাত সদস্যের একটি টাস্কফোর্স টিম কাজ করছে। সবশেষ গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে দুদকের একজন উপপরিচালকের নেতৃত্বে নয় সদস্যের একটি টিম অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যারা ইতিমধ্যে মোট ত্রিশটি মামলা দায়ের করেছে এই ইস্যুতে।
এসব মামলার মধ্যে সাবেক ভূমিমন্ত্রী ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পরস্পর যোগসাজশে বেশ কয়েকটি নামসর্বস্ব কাগুজে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গত বছরের জুলাই মাসে ছয়টি মামলা দায়ের করে দুদক। এসব প্রতিষ্ঠানের নামে বিভিন্ন অঙ্কে মোট একশ ঊনত্রিশ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছিল সেসব মামলায়।
এই মামলাগুলোতে সাবেক ভূমিমন্ত্রী, তার স্ত্রী এবং একটি বেসরকারি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যানকে আসামি করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী এবং ওই ব্যাংকের অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীকেও।
একইভাবে ওই বেসরকারি ব্যাংকের বিভিন্ন শাখার একাধিক গ্রাহক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মোট দুইশ তেরো কোটি ৭৫ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগে গত বছরের সেপ্টেম্বরে আরও পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়। এই মামলাগুলোতেও একই সাবেক ভূমিমন্ত্রী, তার স্ত্রী এবং ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান আসামি হিসেবে রয়েছেন।
এর পাশাপাশি চট্টগ্রামের একাধিক শাখা থেকে বিভিন্ন অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গত বছরের ডিসেম্বরে আরও উনিশটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যেগুলোতে আত্মসাতের মোট পরিমাণ ছিল একশ চৌত্রিশ কোটি টাকার বেশি।
এই মামলাগুলোর উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ভূমিমন্ত্রীর দুই ভাই, যাদের একজন সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সাবেক পরিচালক এবং অন্যজন সাবেক পরিচালক ও নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া আসামিদের তালিকায় রয়েছেন ব্যাংকটির একাধিক সাবেক পরিচালক এবং সাবেক ভাইস চেয়ারম্যানও।
ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দ্বারা এত বড় অঙ্কের অর্থ দীর্ঘদিন ধরে আত্মসাৎ ও পাচার হওয়ার এই ঘটনা দেশের ব্যাংকিং খাতে বিদ্যমান নজরদারি ও অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার গুরুতর দুর্বলতা প্রকাশ করে। তারা মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লেনদেনে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

