মাগুরায় এক পুলিশ সদস্যকে প্রকাশ্যে মারধর ও শারীরিকভাবে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে জেলা প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সভাপতি নাঈমুজ্জামান নয়নের বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় মাগুরা শহরের মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগী মো. ইমরান হোসেন মাগুরা জেলা পুলিশের কন্ট্রোলরুমে কর্মরত একজন কনস্টেবল। শুক্রবার বিকেলে তিনি মোটরসাইকেলে করে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ভায়নার মোড় এলাকায় মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডের কাছে মালিক সমিতির সভাপতি নাঈমুজ্জামান নয়নের সামনে পড়লে তিনি হর্ন বাজান।
হর্ন শুনেও নয়ন রাস্তা থেকে সরে না গেলে ইমরান হোসেন কারণ জানতে চান। এ নিয়েই দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে নয়ন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি কনস্টেবল ইমরান হোসেনের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে চাবি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং উত্তেজিত অবস্থায় আরও লোকজন ডাকতে থাকেন। এরপর নিজের মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে থাকেন এবং কনস্টেবলকে পরপর দুটি থাপ্পড় মারেন।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তিনি পুলিশ সদস্যদের ‘দারোগা’ বলে সম্বোধন করতেও দেখা যায়। ঘটনার সময় দুই সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শরিফুল ও মাসুদ ঘটনাস্থলে ছিলেন। তারা নিজেদের পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে চাবি নিতে বাধা দিলেও নয়ন থামেননি। এ সময় নয়নের সঙ্গে থাকা মাগুরা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন ওই দুই এএসআইয়ের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
প্রকাশ্যে পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনায় জেলা পুলিশে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর সন্ধ্যায় নাঈমুজ্জামান নয়নকে মাগুরা সদর থানায় আনা হয়। তবে কিছু সময় পর মাগুরা পৌর বিএনপির সভাপতি মাসুদ হাসান খান কিজিলসহ কয়েকজন নেতা থানায় উপস্থিত হয়ে ‘ভুল বোঝাবুঝি’র কথা উল্লেখ করে নয়নকে দিয়ে ইমরান হোসেনের কাছে ক্ষমা চাওয়ান। যদিও নয়নকে আটকের বিষয়টি অস্বীকার করে সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছিল এবং পরে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, নাঈমুজ্জামান নয়নের বিরুদ্ধে মাদক, অস্ত্র ও মাইক্রোবাস ছিনতাইসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, ভাইরাল ভিডিওটির বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশের চোখের সামনেই একজন পুলিশ সদস্যকে প্রকাশ্যে মারধরের এই ঘটনা আইনের শাসন ও শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মর্যাদা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

