সাবেক জেলা জজ ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাসদার হোসেনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে সোয়া কোটি টাকা প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালতে মামলাটি করেন নূর প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বেপারির পক্ষে ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি জামাল হোসাইন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণের পর অভিযোগটি তদন্তের নির্দেশ দেন।
মামলার অপর দুই আসামি হলেন অ্যাডভোকেট ফাতহুল বারী এবং নূর প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের লজিস্টিক ব্যবস্থাপক আশরাফুল ইসলাম।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, নূর প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ নিয়মিত কর পরিশোধ করে আসছিল। তবে হিসাবসংক্রান্ত কিছু অসামঞ্জস্যের কারণে ২০২২ সালের ১৭ মে রাষ্ট্র বাদী হয়ে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে কমিশন, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট যশোর কার্যালয়ে এক কোটি দুই লাখ ৬৯ হাজার ৭২২ টাকার দাবি তোলে।
ওই দাবির বিরুদ্ধে আপিল করার জন্য নুরুল ইসলামকে মাসদার হোসেনের চেম্বারে নিয়ে যান ফাতহুল বারী ও আশরাফুল ইসলাম। সেখানে করের টাকা শূন্য করার ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে এক কোটি ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আসামিদের দাবি অনুযায়ী টাকা দিলে সরকারের কোষাগারে আর কোনো অর্থ দিতে হবে না—এমন আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলেও মামলায় বলা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২১ নভেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ৭ জুন পর্যন্ত চার দফায় নুরুল ইসলাম আসামিদের এক কোটি টাকার চেক দেন। তবে আপিলের নিয়ম অনুযায়ী মামলা মূল্যমানের ২০ শতাংশ অর্থাৎ ২০ লাখ ৫৩ হাজার ৯৪৪ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার প্রয়োজন হয়। অভিযোগকারীর দাবি, চুক্তির বাইরে ওই অর্থও তাকে চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে বাধ্য করা হয়।
এরপর করের বিষয়টি নিষ্পত্তি করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও আসামিরা বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ ও প্রতারণা করতে থাকেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর আসামিরা নুরুল ইসলামের কার্যালয়ে গিয়ে দাবি করেন, কোম্পানির করের জরিমানা শূন্য করে আদেশ করানোর কাজ শেষ হয়েছে। তবে আদেশে স্বাক্ষর করিয়ে তার নকল বুঝিয়ে দিতে আরও ২৫ লাখ টাকা দাবি করেন তারা। নুরুল ইসলাম এতে রাজি না হলে আসামিরা কাজটি আর করবেন না বলে জানিয়ে চলে যান।
পরে অন্য এক আইনজীবীর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মামলার খোঁজ নেন নুরুল ইসলাম। তখন তিনি জানতে পারেন, ২০২৫ সালের ৬ আগস্ট কোম্পানিটির বিরুদ্ধে ৪২ লাখ ৯ হাজার ২৭৩ টাকা জরিমানাসহ আদেশ হয়েছে। এরপর দেওয়া টাকা ফেরত চেয়ে তিনি আসামিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে থাকেন।
সর্বশেষ গত ১২ জুলাই আসামিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও অর্থ ফেরতের বিষয়ে কোনো সমাধান পাননি বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বরং তারা টাকা ফেরত দেবেন না বলে জানিয়ে দেন বলে দাবি বাদীপক্ষের।
এ অবস্থায় প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতের দ্বারস্থ হন নুরুল ইসলাম। আদালতের নির্দেশের পর এখন সিআইডির তদন্তে অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং অর্থ লেনদেনের প্রকৃত বিষয়টি উঠে আসবে।

