বরগুনার আমতলীতে প্রায় পৌনে ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা একটি সড়ক মাত্র এক মাসের মধ্যেই ধসে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সড়কটির প্রায় ২০০ ফুট অংশ ভেঙে পড়ার পরও এখনো কোনো মেরামত উদ্যোগ না নেওয়ায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে দুই ইউনিয়নের প্রায় ১৫ হাজার মানুষকে।
ঘটনাটি ঘটেছে আমতলী উপজেলার একটি স্কুল থেকে তালুকদারহাটগামী সড়কের কালীবাড়ী এলাকায়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রায় সাড়ে আট কোটি টাকা ব্যয়ে আমতলী থেকে তালুকদারহাট পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের সংস্কারকাজ সম্পন্ন হয়। কাজটির মূল কার্যাদেশ পেয়েছিল রাজশাহীর একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, তবে বাস্তবে সেই কাজ কিনে নিয়ে বাস্তবায়ন করেন স্থানীয় এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, যিনি একইসঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের একজন সাবেক নেতাও।
গত জুলাইয়ের শুরুতে সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার মাসখানেকের মাথায়, আগস্টের প্রথম সপ্তাহে হঠাৎ করেই কালীবাড়ী এলাকায় সড়কের একটি বড় অংশ প্রায় সাত থেকে আট ফুট গভীরে দেবে গিয়ে পাশের খালে বিলীন হয়ে যায়। এই ধসের সঙ্গে সড়কের ধারে থাকা ডজনখানেক বড় গাছও উপড়ে খালে পড়ে যায়।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, ধসে যাওয়া স্থানে স্থানীয়রা নিজ উদ্যোগেই বাঁশ ও লাল কাপড় দিয়ে সতর্কতামূলক বেষ্টনী তৈরি করেছেন। এর মধ্য দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে মালবাহী ট্রাক, পিকআপ এবং শত শত অটোরিকশা।
স্থানীয় এক বাসিন্দার ভাষ্যমতে, খালের পানির স্রোতে নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ার কারণেই এই ধস নেমেছে, এবং তার আশঙ্কা, বাকি অংশটুকুও যেকোনো সময় ভেঙে খালে তলিয়ে যেতে পারে।
তালুকদারহাট বাজারের একজন ব্যবসায়ী জানান, ধসের এক মাস পার হলেও কোনো মেরামত কাজ শুরু না হওয়ায় তারা ভীষণ উদ্বিগ্ন। দ্রুত সংস্কার না হলে পুরো সড়কটিই খালে বিলীন হয়ে হলদিয়া ও চাওড়া ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নিয়মিত এই সড়কে চলাচলকারী এক অটোরিকশাচালকও জানান, দেবে যাওয়া সরু অংশ দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে, তাই দ্রুত মেরামত প্রয়োজন।
এ বিষয়ে সাব-কন্ট্রাক্টর হিসেবে কাজ করা ঠিকাদার জানিয়েছেন, ধসে যাওয়া অংশ শিগগিরই মেরামত করে দেওয়া হবে। অন্যদিকে স্থানীয় এলজিইডির একজন প্রকৌশলী জানান, খবর পাওয়ার পরপরই তিনি স্থানটি পরিদর্শন করেছেন। তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সড়কটি খালের একেবারে গা ঘেঁষে নির্মিত হওয়ায় পানির স্রোতে মাটির নিচের স্তর সরে গিয়েই এই ধস নেমেছে। বিষয়টি ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং শিগগিরই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, মাত্র এক মাস আগে সম্পন্ন হওয়া কোটি টাকার একটি সংস্কারকাজ কীভাবে এত দ্রুত ধসে পড়ল, তা নিয়ে। বিশ্লেষকদের মতে, নির্মাণকাজের মান তদারকি এবং কার্যাদেশ হাতবদলের মতো প্রক্রিয়াগুলো স্বচ্ছভাবে যাচাই না করলে সরকারি অর্থে নির্মিত এ ধরনের অবকাঠামোর দীর্ঘস্থায়িত্ব নিয়ে ভবিষ্যতেও একই ধরনের প্রশ্ন উঠতে থাকবে।

