গ্রাহকদের বন্ধক রাখা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে পরিবারসহ লাপাত্তা হয়ে যাওয়া চাঁদপুরের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ৪৫ বছর বয়সী ওই ব্যবসায়ী পিন্টু দাসকে আজ শনিবার প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান।
পুলিশের তথ্যমতে, পিন্টু দাস চাঁদপুর শহরের কুমিল্লা রোডের একটি মার্কেটে অবস্থিত একটি স্বর্ণের দোকানের মালিক। গত ১৯ আগস্ট রাতের আঁধারে শহরের কালীবাড়ি মন্দিরের কাছাকাছি তার ভাড়া বাসা থেকে বেশিরভাগ জিনিসপত্র সরিয়ে নিয়ে পরিবারসহ উধাও হয়ে যান তিনি। এরপরই তার বিরুদ্ধে স্বর্ণ ও টাকা আত্মসাতের একাধিক লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ জমা পড়ে পুলিশ ও স্থানীয় স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির কাছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে খুঁজে বের করতে অভিযান শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত গত শুক্রবার ভোরে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার নিজ গ্রামের বাড়ি থেকে সপরিবারে তাকে আটক করে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশের একটি দল।
তিনি আরও জানান, আটকের পর শুক্রবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ঢাকা ও চাঁদপুরের একাধিক তদন্তকারী দল তাকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করে। তবে জিজ্ঞাসাবাদে সাম্প্রদায়িক নাশকতা বা এই ধরনের কোনো বড় অপরাধের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলেনি। বরং গ্রাহকদের অর্থ ও স্বর্ণ আত্মসাতের অভিযোগই মূলত সত্য প্রমাণিত হওয়ায় একজন ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, আজ শনিবার সকালে স্থানীয় এক বাসিন্দা বাদী হয়ে পিন্টু দাসের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বাদীসহ আরও পাঁচ-ছয়জন ভুক্তভোগী আর্থিক প্রয়োজনে বিভিন্ন সময়ে পিন্টু দাসের দোকানে স্বর্ণের চেইন, কানের দুল ও লকেটের মতো অলংকার বন্ধক রেখে নগদ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। ঋণের টাকা পরিশোধের পর যখন তারা বন্ধকি স্বর্ণালংকার ফেরত চাইতে যান, তখন থেকেই পিন্টু দাস নানা অজুহাতে সময় ক্ষেপণ ও গড়িমসি শুরু করেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে গ্রাহকদের কাছে পিন্টু দাসের প্রায় ৮ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার পাওনা রয়েছে।

