পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় নিজের দেড় বছর বয়সী পুত্রসন্তানকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে অন্যের কাছে হস্তান্তর করে দেওয়ার মর্মান্তিক অভিযোগ উঠেছে পেশায় কাঠমিস্ত্রি এক বাবার বিরুদ্ধে। ঘটনার খবর পাওয়ার পর শিশুটিকে উদ্ধারে ইতিমধ্যে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ, আর এই ঘটনায় শিশুটিকে গ্রহণকারী হিসেবে অভিযুক্ত একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে।
গত শনিবার সকালে উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত বাবার নাম মো. মারুফ, তিনি ওই গ্রামেরই বাসিন্দা এবং তার দেড় বছর বয়সী পুত্রসন্তানের নাম মুসা।
শিশুটির পরিবারের বরাত দিয়ে জানা গেছে, শনিবার সকালে মারুফ নিজের ছেলেকে সাজিয়ে বাজারে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। কিন্তু দীর্ঘসময় পার হয়ে গেলেও তারা বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে ফোনে যোগাযোগ করা হলে মারুফ নিজেই স্বীকার করেন যে তিনি শিশুটিকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে একটি লিখিত চুক্তির মাধ্যমে অন্য এক ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করেছেন।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, শিশুটিকে দিয়ে পাওয়া অর্থ দিয়ে মারুফ ঢাকায় গিয়ে একটি নতুন মুঠোফোন কিনেছেন।
শিশুটির দাদি জানান, প্রায় চার বছর আগে তার ছেলে মারুফ ঢাকার সাভার থেকে এক তরুণীকে বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং প্রায় তিন বছর পর তাদের ঘরে এই পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। এক মাস আগে পারিবারিক বিরোধের জেরে ছেলের বউ বাবার বাড়িতে চলে যান, এরপর মারুফও ঢাকায় চলে যান। গত শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে বাড়ি ফেরার পরদিনই এই ঘটনা ঘটে। নাতিকে ফিরে পেতে তিনি প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
এদিকে শিশুটিকে গ্রহণকারী হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তি দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন ধরেই মারুফ তার কাছে শিশুটিকে দেওয়ার কথা বলে আসছিলেন। তার শ্বশুরবাড়িতে কোনো পুত্রসন্তান না থাকায় আলোচনার মাধ্যমে তারা এক লাখ টাকার বিনিময়ে লিখিতভাবে শিশুটিকে গ্রহণ করেছেন এবং বর্তমানে শিশুটি তার শ্বশুরবাড়িতে রয়েছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছে। শিশুটিকে গ্রহণকারী হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তিনি আরও জানান, শিশুটিকে উদ্ধারের পর ঘটনার প্রকৃত তথ্য যাচাই করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

