চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একজন মৃত ব্যক্তির টিপসই জাল করে জমি বণ্টনের দলিল তৈরি করে ১০ শতক বসতভিটা দখলের চেষ্টার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে বুধবার রাতে উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের উত্তর ঘোড়ামরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের ধরা হয়। গ্রেপ্তার চারজন একই এলাকার বাসিন্দা। সীতাকুণ্ড থানার একজন কর্মকর্তা গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জাল দলিল তৈরির মামলায় আদালতের পরোয়ানা অনুযায়ী তাদের আটক করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও চট্টগ্রাম জেলা সিআইডির অনুসন্ধান প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্তরা পরস্পরের সহযোগিতায় বাদীর বাবার, যিনি ইতিমধ্যে মারা গেছেন, টিপসই জাল করে একটি বণ্টননামা দলিল তৈরি করেন। ওই দলিলে কুমিরা মৌজার ১০ শতক বসতভিটা জমি নিজেদের নামে দেখানো হয়, এবং পরে সেই দলিলের বলে জমি দখলের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ।
তদন্ত সূত্র জানায়, ২০১৩ সালে সীতাকুণ্ড সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এই দলিলটি তৈরি হয়। এতে প্রকৃত জমির মালিককে চতুর্থ পক্ষ হিসেবে দেখানো হলেও, তিনি সেই সময় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসেই উপস্থিত ছিলেন না এবং দলিলে কোনো স্বাক্ষর বা টিপসইও দেননি বলে অভিযোগ। সিআইডির প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, দলিলে থাকা স্বাক্ষরের সঙ্গে তাঁর পাসপোর্টের স্বাক্ষরের মধ্যে বড় ধরনের গরমিল পাওয়া গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, দলিলটি তৈরির পর বছরের পর বছর গোপন রাখা হয়। জমির প্রকৃত মালিক ২০২৩ সালে মারা যাওয়ার পর দলিলটি প্রকাশ্যে এনে সম্পত্তি দখলের চেষ্টা শুরু হয়। তদন্তে আরও জানা যায়, দলিলের এক সাক্ষীর কাছ থেকে ওয়ারিশি বণ্টনের কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল, আর আরেক সাক্ষীর নাম অসম্পূর্ণভাবে ব্যবহার করে পরিচয় আড়াল করার চেষ্টা করা হয়।
জমির মালিকানা বিরোধ নিয়ে আদালতে দাখিল করা ভূমি অফিসের একটি প্রতিবেদনেও দলিলটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়, যেখানে বলা হয় সংশ্লিষ্ট দলিলে প্রকৃত মালিকের কোনো স্বাক্ষর বা সম্মতি ছিল না।
মামলাটির অনুসন্ধান পরিচালনা করে চট্টগ্রাম জেলা সিআইডি। গত ২৭ আগস্ট তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর ৩১ আগস্ট আদালত চার আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন, যার ভিত্তিতে বুধবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার বাদী অভিযোগ করেছেন, আসামিদের গ্রেপ্তারের সময় পুলিশের সামনেই তাঁকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি জামিনে বেরিয়ে ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়। তিনি জানান, জাল দলিলের মাধ্যমে পারিবারিক সম্পত্তি দখলচেষ্টার মামলা করার পর থেকেই তাঁকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে, এবং আসামিরা জামিনে ছাড়া পেলে তাঁর ও পরিবারের ওপর হামলা কিংবা অগ্নিসংযোগের আশঙ্কা করছেন তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, চারজনকে ইতিমধ্যে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ীই এগোবে।

