একটি সফটওয়্যার আপডেটের লিংক, যা দেখতে একদম আসল। তাতে ক্লিক করতেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপডেট শুরু হলো ফোনে। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই ডিসপ্লে বন্ধ। ফোনের ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললেন মালিক। ফোন ফিরে পেলেন, কিন্তু তার আগেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও হয়ে গেল প্রায় ১০ লাখ টাকা। এই অভিনব সাইবার প্রতারণার ঘটনায় দুই জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গত ২ জুন রাজধানীর পল্টন এলাকার এক ব্যক্তির মোবাইল ফোনে আসে ‘সফটওয়্যার আপডেট’ সংক্রান্ত একটি মেসেজ। মেসেজের লিংকে ক্লিক করতেই ফোনটি আপডেট হতে থাকে। কিছুক্ষণের মধ্যে ফোনের ডিসপ্লে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও ফোনের কন্ট্রোল ফিরে পাননি তিনি। পরে যখন ডিসপ্লে চালু হলো, তখন দেখলেন ব্যাংক থেকে একের পর এক টাকা স্থানান্তরিত হয়েছে। ব্যাংক স্টেটমেন্ট ঘেঁটে দেখেন ৯ লাখ ৮৬ টাকা চলে গেছে বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে।
৪ জুন পল্টন থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী। মামলাটি তদন্তের জন্য সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারে হস্তান্তর করা হয়। তদন্তে ব্যাংকের তথ্য ও গোয়েন্দা নানা সূত্র ধরে প্রতারক চক্রের হদিস মেলে। বুধবার দিবাগত রাতে রংপুরে পৃথক অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় শাহীদ আল ইমরান সৌরভ (৩৬) ও মো. সাগর হোসেন (২৮)-কে।
গ্রেফতার সাগর হোসেন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, ফেসবুক ও টেলিগ্রামের মাধ্যমে তিনি একটি আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারক চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ওই চক্র বিভিন্ন ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ ও নিয়ন্ত্রণ করতো। প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা টাকা উত্তোলন করে অনলাইনে দেশের বাইরে থাকা সহযোগীদের কাছে পাঠানো হতো। আর এর বিনিময়ে তারা কমিশন পেতেন। গ্রেফতার শাহীদ আল ইমরানের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যাংকের তিনটি চেক বই, ভিসা প্লাটিনাম কার্ড, ডেবিট কার্ড, একটি বাটন ফোন ও একটি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ জানিয়েছেন, এই প্রতারণার মূল রহস্য উদঘাটন এবং চক্রটির দেশি-বিদেশি অন্যান্য সদস্যদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত গ্রেফতার হয়েছে মাত্র দুইজন, কিন্তু পুরো চক্রটির নেটওয়ার্ক কত বড়, তা খতিয়ে দেখছে সিআইডি।
এই ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে, অপরিচিত লিংকে ক্লিক করা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। সফটওয়্যার আপডেট, ব্যাংকিং সেবা, চাকরি বা পুরস্কারের নামে আসা যেকোনো লিংক নিয়ে সতর্ক হতে হবে। সিআইডির পরামর্শ, সন্দেহজনক কোনো মেসেজ বা লিংক পেলে তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে জানাতে হবে এবং প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাহায্য নিতে হবে।

