জামালপুরের মাদারগঞ্জে নতুন মিটার বসানোর আগেই এক গ্রাহকের নামে চলে এসেছে ছয়শ বিরানব্বই টাকার বিদ্যুৎ বিল। অথচ ওই সংযোগস্থলে এখনো বিদ্যুতের মিটার বসেনি, দেওয়া হয়নি কোনো সংযোগও। মিটার বা সংযোগ ছাড়াই আগস্ট মাসের বিল তৈরি হওয়ার এই ঘটনায় হতবাক হয়ে পড়েছেন ভুক্তভোগী গ্রাহক নিজেই, আর প্রশ্ন উঠেছে বিদ্যুৎ বিভাগের বিলিং ব্যবস্থাপনা ও তদারকি নিয়েও।
ঘটনাটি ঘটেছে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের তেঘরিয়া বাজার এলাকায়। ভুক্তভোগী গ্রাহক জানান, তাঁর বাড়িতে আগে থেকেই দুটি আবাসিক ও দুটি বাণিজ্যিক মিটার সংযুক্ত আছে। এর বাইরে আরেকটি নতুন সংযোগের জন্য তিনি আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সেই মিটার স্থাপন কিংবা সংযোগ চালু হওয়ার আগেই তাঁর নামে ছয়শ বিরানব্বই টাকা পরিশোধের একটি বিল চলে আসে।
গত শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই গ্রাহকের বাড়িতে মোট চারটি মিটার রয়েছে এবং পঞ্চম মিটারটি স্থাপনের জন্য একটি ওয়্যারিং বোর্ড ইতিমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে মিটার বসার আগেই তাঁর নামে মোট পাঁচটি বিদ্যুৎ বিলের কাগজ এসে পৌঁছেছে, যার মধ্যে নতুন সংযোগের নামে ধরা হয়েছে আগস্ট মাসের বিল হিসেবে ওই ছয়শ বিরানব্বই টাকা।
এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও বিস্ময় ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, যেখানে সংযোগই দেওয়া হয়নি, সেখানে বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব করে বিল তৈরি হলো কীভাবে। এ ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয় একটি অভিযোগ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রথমে দাবি করেন, গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলেই বিলটি তৈরি করা হয়েছে। তবে মিটার বা সংযোগ না থাকা অবস্থায় বিল তৈরি করা যায় কি না জানতে চাইলে তিনি স্বীকার করেন, বিষয়টিতে ভুল হয়ে গেছে।
সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একজন সহকারী মহাব্যবস্থাপক এই সমস্যার জন্য সফটওয়্যার পরিবর্তনজনিত জটিলতাকে দায়ী করেন। তবে মিটার ও সংযোগ ছাড়াই কীভাবে একজন গ্রাহকের নামে বিল তৈরি হলো, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
একই কার্যালয়ের একজন উপমহাব্যবস্থাপকও এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। তিনি জানান, মিটার বা সংযোগ ছাড়া কীভাবে বিল তৈরি হয়, তা তাঁর জানা নেই, এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।

