জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে র্যাগিংয়ের দুটি পৃথক ঘটনায় কড়া শাস্তির মুখে পড়েছেন পদার্থবিজ্ঞান ও ইতিহাস বিভাগের মোট ২০ শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে মোট ছয় লাখ পনেরো হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করেছে, এবং জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করা পর্যন্ত তাদের কোনো পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হবে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আজ দুপুরে দুটি আলাদা অফিস আদেশ জারি করে এই শাস্তির ঘোষণা দেন। গত ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের একটি বিশেষ সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অফিস আদেশে জানানো হয়, গত ২০ জুলাই রাতে দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা ধরে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী একই বিভাগের নতুন ব্যাচ, অর্থাৎ ৫৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ওপর র্যাগিং চালান। শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক হলের পশ্চিম পাশে সংঘটিত এই ঘটনায় ভুক্তভোগীদের ওপর অমানবিক নির্যাতন, অশ্লীল ভাষায় গালাগালি এবং কান ধরে উঠবস করানোর মতো গুরুতর অভিযোগ উঠে আসে।
এই ঘটনায় দায়ী আট শিক্ষার্থীকে মোট তিন লাখ পঁয়ষট্টি হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অঙ্ক ব্যক্তিভেদে ভিন্ন—তিনজনকে পঞ্চাশ হাজার টাকা করে, তিনজনকে পঁয়তাল্লিশ হাজার টাকা করে, একজনকে চল্লিশ হাজার এবং আরেকজনকে পঁয়ত্রিশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অন্যদিকে গত ৩ জুলাই রাতে তিন ঘণ্টা ধরে ইতিহাস বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে একই বিভাগের ৫৫তম ব্যাচের ১৩ শিক্ষার্থীকে র্যাগিং করার অভিযোগ উঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এই ঘটনা ঘটে, যেখানে অভিযুক্তরা ‘ম্যানার শেখানোর’ নাম দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও কান ধরানোর মতো অপমানজনক আচরণ করেন বলে অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ঘটনায় ইতিহাস বিভাগের ১২ শিক্ষার্থীকে মোট দুই লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, যার মধ্যে একজনকে ত্রিশ হাজার টাকা এবং বাকি এগারো জনকে বিশ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রণীত শৃঙ্খলা সংক্রান্ত একটি নির্দিষ্ট অধ্যাদেশের ধারা অনুসারে এই জরিমানা আরোপ করা হয়েছে। জরিমানা পরিশোধ না করা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের চলমান পরীক্ষা, টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা এমনকি ভবিষ্যতের নির্ধারিত পরীক্ষাগুলোতেও অংশ নেওয়ার অনুমতি স্থগিত থাকবে। এর পাশাপাশি প্রশাসন স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ পুনরায় সংঘটিত হলে আরও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

