নাভানা গ্রুপের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম সুমনের নামে কানাডার টরন্টো ও আশপাশের এলাকায় ১৩টি বিলাসবহুল সম্পত্তির তথ্য পাওয়া গেছে। এসব সম্পদের মধ্যে রয়েছে বাড়ি, টাউনহাউস, কনডোমিনিয়াম এবং আবাসিক ও বাণিজ্যিক ইউনিট।
বিদেশে পরিবারের সম্পদের অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে কানাডার সম্পত্তি নথি ও সাম্প্রতিক বাজারমূল্য বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শনাক্ত করা ১২টি সম্পত্তির আনুমানিক বর্তমান মূল্য প্রায় ১৩১ কোটি টাকা। একটি সম্পত্তির মূল্য নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
তথ্য অনুযায়ী, টরন্টোর স্কারবরো এলাকায় অবস্থিত একটি বিশেষভাবে নির্মিত আলাদা বাড়িটি সবচেয়ে বেশি মূল্যবান। প্রায় ৬ হাজার বর্গফুট আয়তনের এই বাড়িটির আনুমানিক বাজারমূল্য ২৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
এ ছাড়া মিসিসাগার অভিজাত লর্ন পার্ক এলাকায় ১২৭০ বার্চভিউ ড্রাইভের একটি বাড়ির মূল্য আনুমানিক ১৮ কোটি ৫০ লাখ থেকে ২৩ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে।
টরন্টোর কাসা লোমা এলাকায় ৩৯০ ওয়ালমার রোডের একটি বাড়ির আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছে ১৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
সরকারি সম্পত্তি নথি অনুযায়ী, সুমনের নামে থাকা সম্পত্তিগুলো টরন্টোর স্কারবরো, নর্থ ইয়র্ক, ডাউনটাউন টরন্টো, মিসিসাগা এবং ব্রাম্পটনের বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে।
এর মধ্যে টরন্টোর ৮২৫ চার্চ স্ট্রিটের মিলান কনডোস নামের একটি বিলাসবহুল ভবনের আবাসিক ইউনিটের আনুমানিক মূল্য ৭ কোটি ১২ লাখ টাকা।
এ ছাড়া ১৪২ ক্লিনসাইড রোডের তিনতলা টাউনহাউসের মূল্য প্রায় ৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং ৩৩০ ম্যাককোয়ান রোডের একটি কনডোমিনিয়ামের মূল্য প্রায় ৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
টরন্টোর ৭ ভিভিয়ান রোডের একটি আবাসিক ও কর্মস্থল হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী কনডোমিনিয়াম টাউনহাউসের মূল্য আনুমানিক ৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা। নর্থ ইয়র্কের ১৪৪৫ উইলসন অ্যাভিনিউয়ের একটি কনডোমিনিয়ামের মূল্য প্রায় ৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা।
এছাড়া স্কারবরোর ৩৭ ম্যাকডোনাল্ড অ্যাভিনিউয়ের বাড়ির মূল্য প্রায় ১০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা এবং ২১ রকউড ড্রাইভের কনডোমিনিয়াম টাউনহাউসের মূল্য প্রায় ৬ কোটি ৫১ লাখ টাকা।
নর্থ ইয়র্কের ১৩৪৪ লরেন্স অ্যাভিনিউ ওয়েস্টের একটি আধা-বিচ্ছিন্ন বাড়ির আনুমানিক মূল্য ৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা। ব্রাম্পটনের ১০৬ বার ক্রিসেন্টের একটি আলাদা বাড়ির মূল্য ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাভানা পরিবারের আরও কিছু সম্পদ কানাডা ও অন্যান্য দেশে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর এবং অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডায় সম্পদ ও আর্থিক স্বার্থের বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) বিভিন্ন দেশের কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে সিঙ্গাপুরের ব্যাংকে নাভানা পরিবারের সদস্যদের বড় অঙ্কের অর্থ জমা এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ তহবিলে বিনিয়োগের তথ্য নিয়ে অনুসন্ধান শুরু হয়েছিল বলে জানানো হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সাইফুল ইসলাম ও সাজেদুল ইসলাম বিনিয়োগের মাধ্যমে অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার নাগরিকত্ব পেয়েছেন। বিদেশে আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমোদনের বিষয়েও তদন্ত চলছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাভানা গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা ঋণ রয়েছে।
এ ছাড়া ২০২০ সালে নাভানা গ্রুপের ঋণ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার মধ্যেই কয়েকটি রাষ্ট্রীয় ব্যাংক থেকে নতুন ঋণ সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসে। সোনালী, রূপালী, অগ্রণী ও জনতা ব্যাংক থেকে মোট ৫০০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নাভানা গ্রুপের কানাডার সম্পত্তি নিয়ে মন্তব্য জানতে সাইফুল ইসলাম সুমনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
নাভানা গ্রুপের যাত্রা শুরু হয় শিল্পপতি জহুরুল ইসলামের প্রতিষ্ঠিত ইসলাম গ্রুপ থেকে। ১৯৯৬ সালে ইসলাম গ্রুপ থেকে আলাদা হয়ে শফিউল ইসলাম কামাল নাভানা গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন।
বর্তমানে শফিউল ইসলাম কামাল প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান। তার বড় ছেলে সাইফুল ইসলাম সুমন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এবং দ্বিতীয় ছেলে সাজেদুল ইসলাম শুভ্র ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে স্ত্রী খালেদা ইসলাম, মেয়ে ফারহানা ইসলাম এবং ছোট ছেলে শহিদুল ইসলামও পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
২০১৮ সালে শফিউল ইসলাম কামাল অসুস্থ হওয়ার পর সুমন ও শুভ্র নাভানা গ্রুপের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বড় ভূমিকা পালন করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: টাইমস অফ বাংলাদেশ

