নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে কর চালানপত্র ছাড়া মজুত করা প্রায় তিন কোটি টাকার সুতা জব্দ করেছে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট। অভিযানে মোট ৭২ হাজার ৯৪৪ কেজি সুতা পাওয়া গেছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। জব্দ সুতার বিপরীতে প্রযোজ্য রাজস্ব আদায়ে আইনি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
আজ শনিবার, ১০ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে উপজেলার পুরিন্দা বাজারে অনিক ট্রেডার্সের চারটি অনিবন্ধিত গুদামে তল্লাশি চালানো হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আল আমিন শেখ এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আলহাজ মোবারক মোল্লা। গুদামগুলোতে তল্লাশি চালিয়ে চীন ও ভারত থেকে আমদানি করা মেটালিক ইয়ার্ন, পলিয়েস্টার ইয়ার্ন ও নাইলন ইয়ার্ন পাওয়া যায়। এসব সুতার কোনো কর চালানপত্র ছিল না।
ঘটনাটি কয়েকটি বিষয় সামনে এনেছে। প্রথমত, গুদামগুলো ছিল অনিবন্ধিত। অর্থাৎ ভ্যাট ব্যবস্থার আওতার বাইরে থেকে ব্যবসা চালানো হচ্ছিল। এতে সরকার প্রাপ্য রাজস্ব হারায়, আর যাঁরা নিয়ম মেনে কর দিয়ে ব্যবসা করেন, তাঁরা অসম প্রতিযোগিতায় পড়েন। চালানপত্রহীন পণ্য সস্তায় বিক্রি করা সম্ভব হওয়ায় বৈধ ব্যবসায়ীদের জন্য বাজারে টিকে থাকা কঠিন হয়।
দ্বিতীয়ত, জব্দ হওয়া সুতা চীন ও ভারত থেকে আমদানি করা। প্রতিবেদনে বলা হয়নি, এগুলো বৈধ পথে আমদানি হয়েছিল কি না। আমদানির সময় শুল্ক-কর পরিশোধ হয়েছে কি না, কিংবা চোরাচালানের সম্ভাবনা আছে কি না, তা তদন্তের বিষয়। এনবিআর এ ব্যাপারে কিছু জানায়নি।
তৃতীয়ত, কেবল রাজস্ব আদায়ের কথা বলা হয়েছে, কোনো গ্রেপ্তার বা মামলার তথ্য নেই। প্রতিষ্ঠানের মালিকের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং কত টাকা কর ও জরিমানা দাঁড়াতে পারে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বক্তব্যও প্রতিবেদনে নেই।
আড়াইহাজার ও আশপাশের এলাকা সুতা ও বস্ত্রশিল্পের জন্য পরিচিত। এখানে ছোট-বড় বহু গুদাম ও কারখানা আছে। তাই কর ফাঁকির এমন ঘটনা খাতটির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এনবিআরের নিয়মিত তল্লাশি ও নজরদারি রাজস্ব ফাঁকি ঠেকাতে সহায়ক হতে পারে, তবে একটি অভিযানই যথেষ্ট নয়। অনিবন্ধিত গুদামের তথ্য শনাক্ত, ডিজিটাল চালান ব্যবস্থার প্রয়োগ এবং আমদানি থেকে বিক্রি পর্যন্ত পণ্যের চলাচল অনুসরণ করা গেলে ফাঁকি কমানো সম্ভব হবে। আপাতত নজর থাকবে এনবিআরের আইনি কার্যক্রমের পরবর্তী ধাপ এবং অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান কী ব্যবস্থার মুখোমুখি হয়, সেদিকে।

