ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক দিনের অভিযানে ৭৩৩ গ্রাম সোনা ও একটি আইফোন জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। শুল্ককরসহ জব্দ করা পণ্যের আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৩৯ লাখ ৪১ হাজার টাকা। গতকাল সোমবার এ অভিযান চালানো হয়। আজ মঙ্গলবার অধিদপ্তরের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর থেকে আসা একটি ফ্লাইটের যাত্রী ফাতেমা তুজ জোহরার ব্যাগেজ তল্লাশি করা হয়। সেখান থেকে ২৯৯ গ্রাম স্বর্ণালংকার ও একটি আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স পাওয়া যায়। কাস্টমস কর্মকর্তারা দুটিই জব্দ করেন।
একই দিনে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে আসা একটি ফ্লাইটের দুই যাত্রীর কাছ থেকে মোট ৪৩৪ গ্রাম সোনা জব্দ করা হয়। অধিদপ্তর জানায়, যাত্রী তানবীর হাসানের জুতার ভেতর লুকানো অবস্থায় ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার পাওয়া যায়। তাঁর দেহ তল্লাশি করে উদ্ধার হয় ১১৭ গ্রাম ওজনের একটি সোনার বার। অর্থাৎ তাঁর কাছ থেকে মোট ২১৭ গ্রাম সোনা জব্দ হয়েছে।
একই ফ্লাইটের অপর যাত্রী মো. হাবিবুর রহমানের ব্যাগেজ ও দেহ তল্লাশি করেও একই পরিমাণ সোনা মেলে। তাঁর কাছে ছিল ১১৭ গ্রাম ওজনের একটি সোনার বার ও ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার, যা মিলিয়ে দাঁড়ায় ২১৭ গ্রাম। দুই যাত্রীর কাছ থেকে জব্দ করা সোনা যোগ করলে চট্টগ্রামের মোট পরিমাণ হয় ৪৩৪ গ্রাম। এর সঙ্গে ঢাকার ২৯৯ গ্রাম যোগ হয়ে দুই বিমানবন্দরে মোট ৭৩৩ গ্রাম সোনা জব্দের হিসাব মিলে যায়।
ঘটনাগুলোতে চোখে পড়ার মতো একটি বিষয় হলো লুকানোর কৌশল। চট্টগ্রামে একজন যাত্রী সোনা রেখেছিলেন জুতার ভেতরে, আর শরীরে বহন করছিলেন সোনার বার। অন্য যাত্রীর কাছেও ব্যাগেজ ও শরীর, দুই জায়গাতেই সোনা পাওয়া গেছে। এতে বোঝা যায়, চোরাচালানে জড়িতরা শুধু ব্যাগেজের ওপর নির্ভর না করে শরীরে লুকিয়ে সোনা আনার চেষ্টা করছেন। এ কারণে কাস্টমসের জন্য ব্যাগেজ স্ক্যানের পাশাপাশি দেহ তল্লাশিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
আরেকটি লক্ষণীয় দিক হলো, জব্দ করা পণ্যের একটি অংশ ছিল স্বর্ণালংকার, আরেকটি অংশ সোনার বার। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে সোনা আনার ক্ষেত্রে সাধারণত দুই ধরনের পণ্যই ব্যবহৃত হয়। অলংকার ব্যক্তিগত ব্যবহারের বলে দাবি করা সহজ হয়। তবে সোনার বার সরাসরি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত দেয়। এ ক্ষেত্রে অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে কারও উদ্দেশ্য নিয়ে মন্তব্য করা হয়নি, তাই এটি নিশ্চিত করে বলার সুযোগ নেই।
আইফোনের বিষয়টিও আলাদা গুরুত্ব বহন করে। উচ্চমূল্যের নতুন মডেলের মোবাইল ফোন বৈধ পথে আনলে নির্ধারিত শুল্ক দিতে হয়। সেই শুল্ক এড়িয়ে আনার চেষ্টা হলে সরকার রাজস্ব হারায়। একই সঙ্গে অবৈধ পথে আসা ফোন বাজারে বৈধ আমদানিকারকদের জন্য অসম প্রতিযোগিতা তৈরি করে।
তবে বিজ্ঞপ্তিতে কিছু বিষয় স্পষ্ট করা হয়নি। জব্দের পর যাত্রীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে কি না, তাঁদের আটক করা হয়েছে কি না কিংবা জরিমানা বা অন্য কোনো শাস্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে কি না, তা জানানো হয়নি। সোনা কার জন্য আনা হচ্ছিল এবং এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র আছে কি না, সে বিষয়েও কোনো তথ্য নেই। এসব তথ্য সামনে এলে ঘটনার পূর্ণ চিত্র পরিষ্কার হবে।
সব মিলিয়ে একই দিনে দুই বিমানবন্দরে ধারাবাহিক অভিযানে প্রায় দেড় কোটি টাকার পণ্য জব্দ হওয়া দেখায়, বিমানবন্দরগুলোতে চোরাচালানের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে কাস্টমস গোয়েন্দা তৎপরতাও সক্রিয় আছে। তবে এই তৎপরতা কতটা ধারাবাহিক ও কার্যকর, তা নির্ভর করবে জব্দের পরের আইনি ব্যবস্থা এবং চোরাচালানের নেপথ্যের চক্র শনাক্তের ওপর।

