চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে ৮ হাজার ৩২৫ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করেছে নৌ পুলিশ। অভিযানে অবৈধভাবে মাছ ধরার অভিযোগে পাঁচ জেলেকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে নিষেধাজ্ঞার সময় নদীতে এই অভিযান চলছে।
নৌ পুলিশ জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে আজ বুধবার সকাল পৌনে ৮টা পর্যন্ত, অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টা ধরে চাঁদপুর সদর থানাধীন মেঘনা নদীতে অভিযান চালায় আলুর বাজার নৌ পুলিশ ফাঁড়ি। অভিযানে অবৈধ কারেন্ট জাল ব্যবহার করে মাছ ধরার সময় পাঁচ জেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে জব্দ করা হয় ৩২৫ মিটার কারেন্ট জাল। এ ছাড়া নদীতে মালিকবিহীন অবস্থায় পেতে রাখা আরও ৮ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার পাঁচ জেলের বিরুদ্ধে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইনের পৃথক ধারায় পাঁচটি মামলার কার্যক্রম চলছে। অন্যদিকে নদী থেকে উদ্ধার করা ৮ হাজার মিটার জাল সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার নির্দেশে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
অভিযানে উদ্ধার হওয়া ১০ কেজি ইলিশ অসহায় ও দুস্থ মানুষ এবং স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে। নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরার অভিযোগে চার অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরকেও আটক করে নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে নেওয়া হয়। পরে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
চাঁদপুর সদর উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে নিষেধাজ্ঞা চলাকালে নদীতে অবৈধভাবে মাছ ধরা বন্ধে জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্সের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এই অভিযানের ফলাফল থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট, নিষেধাজ্ঞার সময়েও নদীতে অবৈধ জাল ও মাছ ধরার প্রবণতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। মালিকবিহীন অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ৮ হাজার মিটার জাল ইঙ্গিত দেয়, অনেকে নজরদারি এড়াতে জাল পেতে রেখে সরে যান। আবার অভিযানে আটক চার কিশোরের বিষয়টি দেখায়, অল্প বয়সীরাও এই ঝুঁকিপূর্ণ কাজে জড়িয়ে পড়ছে, যা জীবিকার চাপের দিকেও ইঙ্গিত করে।
তবে মা ইলিশ রক্ষা শুধু অভিযান ও মামলায় সীমাবদ্ধ রাখলে টেকসই ফল পাওয়া কঠিন। নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা এবং সচেতনতা কার্যক্রমও জরুরি। কারণ, প্রজনন মৌসুমে মাছ রক্ষা পেলেই ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন ঠিক থাকবে। ফলে প্রশাসনের নজরদারির পাশাপাশি জেলে সম্প্রদায়ের সহযোগিতাও এ ক্ষেত্রে সমান গুরুত্বপূর্ণ।

