রাজধানীর ডেমরায় ছেলের ছুরিকাঘাতে আহত বাবা লিটন মিয়া (৪৫) মারা গেছেন। গতকাল শনিবার দিবাগত রাত একটার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ছেলে সোহেল (২৪) মানসিকভাবে অসুস্থ। ঘটনার পর তাঁকে পাবনার মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহত লিটনের বড় ছেলে রাসেল আমিন জানান, তাঁর ছোট ভাই সোহেল দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। কিছুদিন তিনি সুস্থ থাকেন, আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ কারণে মাঝেমধ্যে তাঁকে মানসিক হাসপাতালে রাখতে হয়।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে রাসেল বলেন, গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে সোহেল মুঠোফোন দেখছিলেন। সে সময় বাবা তাঁকে ফোন বন্ধ করতে বলেন। পরে পরিবারের সবাই রাতের খাবার শেষে নিজ নিজ কক্ষে ঘুমাতে যান। মা সানু বেগম সবার খোঁজখবর নিয়ে নিজের কক্ষে গেলে সোহেল হঠাৎ সেখানে ঢুকে বাবা-মাকে ছুরিকাঘাত করেন।
গুরুতর আহত লিটন ও তাঁর স্ত্রীকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পর সোহেলকে পাবনার মানসিক হাসপাতালে পাঠানো হয়। রাসেল জানান, চিকিৎসার পর তাঁর মা সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তবে প্রায় তিন সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পর গত রাতে বাবা মারা যান।
পরিবারের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি বলে জানান রাসেল। তবে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক হাবিবুর রহমান জানান, লিটন মিয়ার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। লিটন মিয়ার তিন ছেলে। পরিবার নিয়ে তিনি ডেমরার কোনাপাড়া আদর্শবাগ এলাকায় থাকতেন।
ঘটনাটি মানসিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের পারিবারিক পরিচর্যা ও নিরাপত্তার প্রশ্নটি সামনে এনেছে। এমন রোগীর ক্ষেত্রে নিয়মিত চিকিৎসা, ওষুধ গ্রহণ এবং পরিবারের সদস্যদের সতর্ক নজরদারি জরুরি। কিন্তু দেশে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সীমিত হওয়ায় অনেক পরিবারই বাড়তি ঝুঁকির মধ্যে থাকে। অভিযুক্ত মানসিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় আইনি প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পরিবার অভিযোগ না করলেও পুলিশ বিষয়টি কীভাবে দেখে, সেদিকে নজর থাকবে।

