বরিশালের হিজলায় মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে ২০ জেলেকে আটক করেছে নৌ পুলিশ। অভিযানে চারটি নৌকা, ১৯ হাজার ৫০০ মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও ৮ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া মেঘনা নদী ও এর শাখা নদী থেকে প্রায় ৫১ লাখ ৪০ হাজার মিটার পরিত্যক্ত জাল উদ্ধার হয়েছে। জাল পরে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
নৌ পুলিশের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত টানা নয় ঘণ্টা অভিযান চলে। মেঘনা ও এর শাখা নদীর ধুলখোলা, হিজলা, বাউশিয়া, হরিনাথপুর ও অন্তর্বাম এলাকায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। আইন অমান্য করে মাছ শিকারের অভিযোগে ২০ জনকে আটক করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নদী থেকে প্রায় ৪২ কেজি মা ইলিশ উদ্ধার করা হয়েছে।
অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন নৌ পুলিশ বরিশাল অঞ্চলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. ইমরান হোসেন মোল্লা। হিজলা নৌ পুলিশ ফাঁড়ি এবং আবুপুর ও অন্তর্বাম অস্থায়ী ক্যাম্পের তিনটি দল এতে অংশ নেয়। অভিযানের সময় উপস্থিত ছিলেন হিজলা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ইয়াছিনুল হক।
ইমরান হোসেন মোল্লা জানান, উদ্ধার করা পরিত্যক্ত জাল মৎস্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। জব্দ করা ইলিশ স্থানীয় এতিমখানা এবং গরিব, অসহায় ও দুস্থ মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। আটক জেলেদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এই অভিযানের সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো দিক আটক জেলের সংখ্যা বা জব্দ ইলিশের পরিমাণ নয়, বরং নদী থেকে উদ্ধার হওয়া পরিত্যক্ত জালের বিপুল পরিমাণ। ৫১ লাখ ৪০ হাজার মিটার জাল মানে, নদীতে অনেক আগে থেকেই বিপুল পরিমাণ জাল ফেলে রাখা হয়েছিল বা ফেলে দেওয়া হয়েছে। এমন জাল নদীর তলদেশে বা পানির স্রোতে ভেসে থেকেও মাছ আটকে দিতে পারে। ফলে মা ইলিশসহ অন্যান্য মাছের জন্য ঝুঁকি তৈরি হয় এবং নদীর প্রাকৃতিক পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
জব্দ করা নিষিদ্ধ কারেন্ট জালের তুলনায় পরিত্যক্ত জালের পরিমাণ অনেক বেশি। এতে ধারণা করা যায়, নদীতে অবৈধ জালের ব্যবহার একটি বড় সমস্যা হয়ে আছে। অভিযানের সময় জেলেরা আইনের চোখ এড়াতে জাল ফেলে পালিয়ে যান কি না, সে প্রশ্নও এখানে উঠে আসে। প্রতিবেদনে এ বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। তবে একদিনের অভিযানে এত বড় পরিমাণ জাল উদ্ধার হওয়া বলে দেয়, নদীতে নজরদারি জোরদার করা জরুরি।
মা ইলিশ রক্ষার এই কার্যক্রম মূলত ইলিশের বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করার উদ্যোগ। প্রজননের সময় ডিমওয়ালা ইলিশ ধরা পড়লে ভবিষ্যতের মাছের সংখ্যা কমে যায়। তাই এই সময় নদীতে অভিযান চালিয়ে আইন ভাঙা ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়। তবে শুধু আটক ও জাল ধ্বংসই যথেষ্ট নয়। সংকটের গভীরে আছে জেলেদের জীবিকার প্রশ্ন। নিষেধাজ্ঞার সময় বিকল্প আয়ের সুযোগ ও সহায়তা না পেলে অনেক জেলে ঝুঁকি নিয়েই নদীতে নামেন। তাই কঠোর অভিযানের পাশাপাশি জেলেদের জন্য সময়মতো সহায়তা পৌঁছানো এবং সচেতনতা বাড়ানোও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
আটক জেলেদের বিরুদ্ধে কোন আইনে ও কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়নি। অভিযান আগামী দিনগুলোতেও চলবে কি না, সে বিষয়েও কিছু জানানো হয়নি।

