চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সরকারি অর্থায়নে নির্মিত একটি ড্রেন চালুর ছয় মাসের মধ্যেই ভেঙে পড়েছে। প্রায় ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে তৈরি এই অবকাঠামোর দেয়াল ধসে যাওয়ায় কাজের মান ও সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। তবে উপজেলা প্রকৌশলীর দাবি, স্থানীয়দের কয়েকজনের কারণেই দেয়ালটি ভেঙেছে। এই দুই বক্তব্যের মধ্যে প্রকৃত কারণ কী, তা নিয়ে এখন তদন্তের দাবি উঠেছে।
ঘটনাটি সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের মধ্যম ঘোড়ামারা ফকিরহাট সড়কসংলগ্ন এলাকার। বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, ড্রেনের দেয়ালের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ভেঙে পড়েছে। এতে পানি চলাচলে বাধা তৈরি হয়েছে। যে উদ্দেশ্যে ড্রেনটি করা হয়েছিল, ভাঙনের কারণে সেটিই এখন ব্যাহত হচ্ছে।
প্রকল্প সূত্র জানায়, রাজস্ব উদ্বৃত্ত প্রকল্পের আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ড্রেনটি নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে উপজেলা পরিষদ, সহযোগিতায় ছিল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), সীতাকুণ্ড।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল খায়ের বলেন, নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। সে কারণেই অল্প সময়ের মধ্যে ড্রেনের একাংশ ধসে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া দরকার। নির্মাণসামগ্রীর মান, নকশা ও নির্মাণবিধি অনুসরণ করা হয়েছে কি না এবং কাজের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তদারকি যথাযথ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার কথা বলছেন তাঁরা।
অন্যদিকে সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলমগীর বাদশা বলেন, বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ড্রেন নির্মাণের পর স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ঘর তৈরির জন্য বাঁশের খুঁটি পুঁততে গিয়ে দেয়ালে ধাক্কা দেন। এতে দেয়াল ভেঙে পড়ে। তিনি জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ড্রেনটির নির্মাণকাজ কোন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান করেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে বলতে পারেননি তিনি। অফিস খোলার দিন এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন বলে জানিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানার পর উপজেলা প্রকৌশলীকে তদন্ত করে দেখতে নির্দেশ দিয়েছেন।
এই ঘটনায় একটি বিষয় লক্ষণীয়। যে প্রকৌশলীকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তিনি নিজেই প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা এবং ইতিমধ্যে এক পক্ষের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। ফলে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার সুযোগ থাকছে। বাঁশের খুঁটির ধাক্কায় ভেঙে যাওয়ার দাবি সত্য হলেও প্রশ্ন থেকে যায়, মানসম্পন্ন দেয়াল এত সহজে ভাঙে কি না। আবার নিম্নমানের সামগ্রীর অভিযোগ প্রমাণ করতেও স্বাধীন পরীক্ষার প্রয়োজন হবে।
সব মিলিয়ে ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো অস্পষ্ট। ঠিকাদারের পরিচয়, কাজের তদারকির নথি ও নির্মাণসামগ্রীর মান যাচাইয়ের ফলাফল প্রকাশ হলে সত্য সামনে আসবে। জনগণের করের টাকায় নির্মিত অবকাঠামো ছয় মাসও টিকল না, এটি সত্যিই ঘটনার একটি বড় দিক। তাই তদন্ত স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

