হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই বিদেশি যাত্রীর পোশাকের ভেতর থেকে ১২ কেজি স্বর্ণের পেস্ট উদ্ধার করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউস। কাপড়ের ভাঁজে সেলাই করে লুকিয়ে আনা এই পেস্টের আনুমানিক বাজারমূল্য ২৪ কোটি টাকা। বুধবার বিকেলে দুবাই থেকে আসা একটি ফ্লাইটের যাত্রীদের ওপর নজরদারির সময় এই চালান ধরা পড়ে।
কাস্টমস সূত্র জানায়, বুধবার বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে দুবাই থেকে আসা এমিরেটসের ফ্লাইট ইকে-৫৮৬-এর যাত্রীদের ওপর নজর রাখছিল ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেন্টিভ টিম। ইমিগ্রেশনের পর্ব শেষ করে দুই যাত্রী ব্যাগেজ বেল্ট-২-এ পৌঁছালে তাঁদের তল্লাশি করা হয়। যাত্রী দুজনের নাম চেন লিউইউন ও মো শিয়াওইউ।
তল্লাশিতে দেখা যায়, তাঁদের পরনের জিন্সের প্যান্ট ও অন্তর্বাসের ভেতরে কাপড় দিয়ে সেলাই করে নরম হলুদ রঙের একটি পদার্থ লুকিয়ে রাখা হয়েছে। পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, সেটি স্বর্ণের পেস্ট। উদ্ধার করা পেস্টের মোট ওজন ১২ কেজি। ভেজা অবস্থায় থাকায় স্বর্ণ পেস্টের আকারে ছিল।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক পরীক্ষায় জানতে পেরেছে, এই স্বর্ণের বিশুদ্ধতা ২৪ ক্যারেট। বাজারদর অনুযায়ী এর মূল্য প্রায় ২৪ কোটি টাকা। এত বড় পরিমাণ স্বর্ণ শরীরে জড়িয়ে আনার ঘটনা বিমানবন্দরে চোরাচালানের নতুন কৌশলের দিকেই ইঙ্গিত দেয়।
স্বর্ণকে সরাসরি বার বা গয়নার আকারে না এনে পেস্ট বানিয়ে পোশাকের ভেতরে লুকিয়ে আনার এই পদ্ধতি তুলনামূলক কম চোখে পড়ে। এতে স্ক্যানার বা সাধারণ তল্লাশিতে ধরা পড়ার ঝুঁকি কমে বলে ধারণা করা হয়। তাই যাত্রীদের গতিবিধি নজরে রাখা এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর হয়েছে।
এ ঘটনায় ওই দুই যাত্রীর বিরুদ্ধে কাস্টমস আইন, ২০২৩ এবং ফৌজদারি আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে ঢাকা কাস্টমস হাউস। তবে এই চোরাচালানের পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত আছে কি না, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানা যায়নি। অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদে এ সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শাহজালাল বিমানবন্দরে স্বর্ণ চোরাচালানের ঘটনা নতুন নয়। বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের মাধ্যমে বিভিন্ন কৌশলে স্বর্ণ আনার চেষ্টা প্রায়ই ধরা পড়ে। কাস্টমস সূত্রের মতে, নজরদারি জোরদার থাকায় অনেক চেষ্টাই ব্যর্থ হচ্ছে। তবে চোরাচালানকারীরাও প্রতিনিয়ত নতুন পথ খুঁজছে, যা নজরদারি আরও কঠোর করার প্রয়োজনীয়তা সামনে আনছে।

