ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় অবৈধভাবে পাচারের অভিযোগে ২৫০ বস্তা সরকারি ডিএপি সারবোঝাই একটি ট্রাক জব্দ করেছে প্রশাসন। এ সময় স্থানীয় এক সার ডিলার ও ট্রাকের এক হেলপারকে আটক করা হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডিলারের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে এবং তাঁর ডিলারশিপ বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
রাতে উপজেলার মালিগ্রাম ফ্লাইওভারের নিচ থেকে তাঁদের আটক করা হয়। আটক সার ডিলারের নাম এ কে এম ইলিয়াস হাওলাদার। তিনি মালিগ্রাম বাজারের মেসার্স হাওলাদার ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী এবং চান্দ্রা ইউনিয়নের বিসিআইসি ও বিএডিসি অনুমোদিত ডিলার।
পুলিশ, কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতের বেলা সারবোঝাই ট্রাকটির চলাচল সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয় লোকজন সেটি আটকে দেন। পরে তাঁরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে প্রশাসনকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শরীফুল্লাহ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোল্লা আল-মামুন এবং ভাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইকবালের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। এরপর ট্রাকটি জব্দ করা হয় এবং ডিলার ও হেলপারকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
ভাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোল্লা আল-মামুন জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে ২৫০ বস্তা সারসহ ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সার ডিলারের বিরুদ্ধে মামলা হবে। একই সঙ্গে তাঁর ডিলারশিপ বাতিলের প্রক্রিয়াও শুরু করা হবে।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, আটক ব্যক্তি ও জব্দ করা সার থানা হেফাজতে রয়েছে। আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে। ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পাচারের সময় সার আটক করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শাহাদুজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, রাতের আঁধারে ট্রাকে করে ২৫০ বস্তা ডিএপি সার অন্যত্র পাচার করা হচ্ছিল। খবর পেয়ে ট্রাকটি জব্দ করে ডিলারকে আটক করা হয়েছে। তিনি জানান, ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে ডিলারশিপও বাতিল করা হবে।
ঘটনাটি কৃষি উপকরণ বিতরণব্যবস্থার একটি পুরোনো দুর্বলতা সামনে এনেছে। সরকারি অনুমোদিত ডিলারের মাধ্যমে কৃষকের কাছে ন্যায্য দামে সার পৌঁছানোর কথা। কিন্তু সেই সার যদি রাতের আঁধারে অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয়, তাহলে প্রকৃত কৃষক বঞ্চিত হন। বিশেষ করে মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ডিএপির মতো সারের সংকট ফসল উৎপাদনে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। অনেক সময় এ ধরনের সার বেশি দামে বিক্রি বা অন্য কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে সরানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। তবে এ ঘটনায় সারগুলো কোথায় নেওয়া হচ্ছিল এবং এর পেছনে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এ ঘটনায় স্থানীয় মানুষের সচেতনতা ও ৯৯৯ নম্বরে দ্রুত জানানোর ভূমিকা প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করেছে। তবে ডিলারদের কার্যক্রমের নিয়মিত নজরদারি ও মজুতের হিসাব যাচাই না হলে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা থেকে যায়। উল্লেখ্য, এসব অভিযোগ এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত ডিলারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

