রংপুরের তারাগঞ্জে কৃষকের জন্য বরাদ্দ সার অবৈধভাবে মজুত রাখার দায়ে এক ব্যক্তিকে অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তাঁর বাড়ি থেকে ১১৭ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়েছে। জরিমানার ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ না করলে তাঁকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম কনক কুমার দত্ত। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের থানাপাড়া এলাকায় তাঁর বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোনাব্বর হোসেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে উদ্ধার হওয়া সারের মধ্যে রয়েছে ৬০ বস্তা এমওপি বা মিউরেট অব পটাশ, ৩০ বস্তা ডিএপি বা ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট, ১৫ বস্তা ইউরিয়া এবং ১২ বস্তা টিএসপি বা ট্রিপল সুপার ফসফেট। এসব সার বৈধ কোনো অনুমোদন ছাড়াই মজুত রাখা হয়েছিল বলে প্রশাসনের ভাষ্য। পরে সার ব্যবস্থাপনা আইনে তাঁকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
ইউএনও মোনাব্বর হোসেন জানান, কৃষকদের জন্য বরাদ্দ সার অবৈধভাবে মজুত রাখার অপরাধেই এই দণ্ড দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার করা সার সরকারি গুদামে জমা দিতে উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি সার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা লঙ্ঘন করে কেউ অবৈধভাবে সার মজুত করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি হলে এর প্রভাব সরাসরি পড়ে কৃষকের ওপর। চাষাবাদের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রয়োজনীয় সার না পেলে ফলনে ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়। আবার মজুতদারির কারণে বাজারে দামও বেড়ে যেতে পারে। সে কারণে সরকার নির্ধারিত নীতিমালার বাইরে সার মজুত রাখার বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে আসছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাতের বেলা অভিযান চালিয়ে মজুত উদ্ধারের এই ঘটনা স্থানীয় পর্যায়ে সার বিতরণ ব্যবস্থার ওপর নজরদারি জোরদারের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে নিয়মিত তদারকি ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ না থাকলে এ ধরনের অনিয়ম পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

