পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের শেয়ারের কারসাজির ঘটনায় আট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে মোট ৭০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। মঙ্গলবার বিএসইসির অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বিএসইসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০২১ সালের ১ এপ্রিল থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে পুঁজিবাজারে বিভিন্ন অনিয়ম ও শেয়ার কারসাজির কারণে এই জরিমানা আরোপ করা হয়েছে। শেয়ারবাজারের স্বচ্ছতা রক্ষা ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার জন্য কমিশন এ কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।
বিস্তারিত জরিমানার তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, সামির সেকান্দারকে ৩২ কোটি ২৫ লাখ টাকা, মাহির সেকান্দারকে ৫২ লাখ টাকা, আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে ২১ কোটি ৯০ লাখ টাকা, আব্দুল মবিন মোল্লাহকে ১০ লাখ টাকা, আফরা চৌধুরীকে ৩৫ লাখ টাকা এবং আনিকা ফারহিনকে সাড়ে সাত কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এ ছাড়া দুই প্রতিষ্ঠানকেও বড় অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছে। সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্সকে ৮৫ লাখ টাকা এবং আনোয়ার গ্যালভানাইজিং লিমিটেডকে ৭ কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বাজারে কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দাম বাড়ানোর অপচেষ্টা চালিয়েছে। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কায় পড়েছিলেন।
বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত পুঁজিবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। বিএসইসি চেয়ারম্যান এর আগে একাধিকবার শেয়ার কারসাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির ঘোষণা দিয়েছেন। এই পদক্ষেপ সেই নীতিরই বহিঃপ্রকাশ।
পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞরা বলেন, শেয়ারবাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি। তবে জরিমানার পাশাপাশি অভিযুক্তদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও ভবিষ্যতে পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তারা।
বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিএসইসির এমন কঠোর ভূমিকা প্রশংসনীয় বলে মন্তব্য করেছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

