শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান ফু-ওয়াং ফুডসের আর্থিক গরমিল নিয়ে আদালতে মামলা হয়েছে। সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ আহমেদ চৌধুরী ও তার দুই মেয়ের বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করেন কোম্পানির বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও জাপানি বিনিয়োগকারী মিয়া মামুন। ১৬ এপ্রিল এই মামলা ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে দায়ের করা হয়। মামলা নম্বর ১৬৩/২০২৫।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে জাপান-বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে গঠিত কোম্পানি মিনোরি বাংলাদেশ বিএসইসির মধ্যস্থতায় একটি পারচেজ অ্যাগ্রিমেন্ট করে। এই চুক্তির মাধ্যমে তারা ফু-ওয়াং ফুডসের ৮৪ লাখ ৪২ হাজার ৭২৬টি স্পন্সর শেয়ার কিনে নেয় আরিফ আহমেদ চৌধুরী ও তার দুই কন্যার কাছ থেকে। এরপর মিনোরি বাংলাদেশ কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে তিনজন পরিচালক নিয়োগ করে।
চুক্তির ধারা অনুযায়ী, সাবেক এই তিন পরিচালককে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির দায়দেনার হিসাব ও তা পরিশোধের তথ্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে বুঝিয়ে দিতে বলা হয়। একইসঙ্গে উল্লেখ থাকে, এসব দায়দেনা নতুন মালিকপক্ষ মিনোরি বাংলাদেশের ওপর বর্তাবে না। কিন্তু দুই বছর পার হলেও সাবেক পরিচালকরা চুক্তির কোনো শর্ত মানেননি।
এই পরিস্থিতিতে ২০২৪ সালের ৯ জানুয়ারি আরিফ আহমেদ চৌধুরী ও তার দুই মেয়ের কাছে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। কিন্তু তারা কোনো আইনি জবাব দেননি। এরপর আদালতের শরণাপন্ন হয়ে মামলাটি দায়ের করেন বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিয়া মামুন।
মামলায় বলা হয়, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ আহমেদ চৌধুরী ও তার মেয়েরা ফু-ওয়াং ফুডসের প্রায় ৭০ কোটি টাকার ভ্যাট ও ট্যাক্সের হিসাব গোপন করেছেন। শেয়ার বিক্রির পর এই অর্থ কোথায় কিভাবে খরচ হয়েছে, তার কোনও হিসাবও দেননি। ফলে কোম্পানির বড় অঙ্কের অর্থ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
মিনোরি বাংলাদেশের আইনজীবী মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন জানান, আরিফ আহমেদ চৌধুরীর সময়কালে কীভাবে এত টাকা খরচ হয়েছে এবং কেন তা গোপন রাখা হয়েছে, তার কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। যদি আদালতের নির্দেশ অমান্য করা হয় বা সঠিক হিসাব না দেওয়া হয়। তাহলে ভবিষ্যতে ফৌজদারি মামলা ও অন্যান্য আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিয়া মামুন বলেন, চুক্তি অনুযায়ী এই বিশাল অঙ্কের টাকার হিসাব দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি। নোটিশ পাঠানো হলেও কোনো উত্তর মেলেনি। ফলে আমরা আদালতে যেতে বাধ্য হয়েছি। তিনি আরও বলেন, এত বড় অঙ্কের অর্থের গরমিলের কারণে বর্তমানে কোম্পানির উৎপাদন কার্যক্রম চালাতেও সমস্যা হচ্ছে। জানা গেছে, আরিফ আহমেদ চৌধুরী ও তার দুই মেয়ে বর্তমানে কানাডায় অবস্থান করছেন। তিনি ঢাকার ১৪ নম্বর আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন।

