এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের গুলশান শাখা থেকে গত বছর ২০২২ সালে ভুয়া কোম্পানি খুলে সাড়ে ৯০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে এস আলম গ্রুপ ও নাবিল গ্রুপ। এর মধ্যে এস আলম পেয়েছে ৪০০ কোটি এবং নাবিল গ্রুপ পেয়েছে সাড়ে ৫০০ কোটি টাকা। এবার ইসলামী ব্যাংক তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে অর্থঋণ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ: গত ৮ এপ্রিল পর্যন্ত এই দুই কোম্পানির কাছে ব্যাংকের পাওনা এক হাজার ১৪৪ কোটি টাকা। মামলার বাদী ইসলামী ব্যাংক গুলশান শাখা, যেখানে ২০২২ সালের ১৯ জুলাই ‘মার্কেট মাস্টার অ্যানালাইজার’ নামে একটি কোম্পানি ৯৫০ কোটি টাকা ঋণ নেয়। কিন্তু বাস্তবে এই কোম্পানির কোনো অস্তিত্ব নেই। সেই কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহ আলম, যিনি নাবিল গ্রুপের মালিক ও এমডি আমিনুল ইসলামের মামা, এবং এই কোম্পানির সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা মিলে ব্যাংক থেকে এই বিপুল পরিমাণ টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন।
ঋণের বিশদ: এমডি মো. শাহ আলম ২০২২ সালের ১৪ জুলাই ইসলামী ব্যাংকের গুলশান শাখায় ঋণের আবেদন করেন এবং পাঁচদিন পর প্রতিষ্ঠানটির নামে একটি একাউন্ট খোলা হয়। এরপর প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে ৯৫০ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে কোনো কিস্তি পরিশোধ করা হয়নি এবং ঋণের শর্তে পরবর্তীতে কোন অর্থ পরিশোধ হয়নি।
আইনি পদক্ষেপ ও তদন্ত: বর্তমানে আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এই টাকা আদায়ের জন্য আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। বিচারকের উপস্থিতিতে ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের অভিযোগ উত্থাপন করেছে। এই জালিয়াতির ঘটনায় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের অবহেলার কারণে বেশ বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, যা এখন আইনগতভাবে সুরাহা করা হচ্ছে।
এস আলম গ্রুপের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ: এদিকে, ব্যবসায়ী গ্রুপ এস আলমের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে আরও একটি বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আদালত এস আলমের ব্যাংক হিসাবগুলোর উপর অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছে। মোট এক হাজার ৩৬০টি ব্যাংক হিসাব থেকে দুই হাজার ৬১৯ কোটি টাকা অবরুদ্ধ করা হয়েছে। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই আদেশ দিয়েছে।
এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, তারা বিভিন্ন ব্যাংক শাখার হিসাবের টাকা অন্যত্র হস্তান্তর বা বেহাত করার চেষ্টা করছিল। এমনকি এই ধরনের ঘটনা তদন্তের মাঝে থাকলে সম্পদের স্থানান্তর হতে পারে, যা পরবর্তীতে তদন্তে বাধা সৃষ্টি করবে। এই পরিস্থিতিতে এসব ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা জরুরি ছিল, যা আদালত মঞ্জুর করেছে।
এই মামলা ও ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের পর, এস আলম গ্রুপ ও নাবিল গ্রুপের বিরুদ্ধে একটি বড় তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং এসব অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

